শ্রমিকদের দাবিতে জামায়াতের সমর্থন, নাশকতায় নিন্দা: গোলাম পরওয়ার
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৭
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে ন্যায্য আখ্যা দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করা, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তিসহ ১৫ দাবি জানিয়েছে। তবে আন্দোলনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলা, লুটপাটের নিন্দা জানিয়েছে জামায়াত।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, জানুয়ারি থেকে বর্ধিত মজুরি কার্যকর করতে হবে। গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখ হত্যার বিচার করতে হবে। আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ভাঙচুর, আগুন, লুটপাট, নাশকতায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো বন্ধ করতে হবে। নিরপরাধ শ্রমিক ও নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দলীয় পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ বা স্বার্থান্বেষী মহলের নাশকতার অপচেষ্টা থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দিয়ে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যায় ও বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের পর্যালোচনা করে কাজের সুযোগ দিতে হবে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ভাতা, ওভারটাইম ও অন্যান্য আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। ন্যায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য শ্রমিকদের জন্য রেশন চালু করতে হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিল্পের সুরক্ষা পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। শ্রমিককে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। আবার সহিংসতার মাধ্যমেও অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশ্যে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নয়। তাদের শিল্পের অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। শ্রমিক সংগঠনগুলোকে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, নিত্যপণ্যের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের খরচ বৃদ্ধিতে শ্রমিকরা মানবেতন জীবনযাপন করছেন। এই বাস্তবতায় ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন যৌক্তিক। ন্যায্য মজুরি অনুগ্রহ নয়, অধিকার।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং শিল্প ধ্বংসের অপতৎপরতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কারখানা ধ্বংস করে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বরং এতে শ্রমিকেরা কর্মসংস্থান ও মালিকরা বিনিয়োগ হারান, ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাতীয় অর্থনীতি। শ্রমিক ও মালিককে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। আলোচনা, সমঝোতায় সংকটের সমাধান করতে হবে। ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হলে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থিতিশীলতা ফিরবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।
- বিষয় :
- পোশাক শ্রমিক
- জামায়াতে ইসলামী