ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এক যুগেও বাড়েনি টিউশন ফি

এক যুগেও বাড়েনি টিউশন ফি
×

ফেনী ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস সমকাল

 দিলদার হোসেন স্বপন, ফেনী

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫ | ০০:৪০

ফেনী ইউনিভার্সিটি ২০১৩ সালের মে মাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এক যুগ পার করলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি, এখনও ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। তবে সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাড়ে চার একর জমি রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবল কাঠামো অনুযায়ী ফেনী ইউনিভার্সিটিতে পর্যাপ্ত জনবল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি বিষয়ে অনার্স ও ৩টি বিষয়ে মাস্টার্সসহ মোট নয়টি বিষয়ে প্রায় এক হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১২১ জন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান ভালো। গত এক যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের ফি বাড়ানো হয়নি। এ বছর অন্য সব ইউনিভার্সিটির সঙ্গে তুলনা করে সামান্য বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, কর্মক্ষেত্র, গবেষণা ও উদ্ভাবনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাফল্য রয়েছে। সরকারি প্রায় সব নিয়ম মানায় বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পর্কে ইউজিসির পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ভালো।
জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ফেনী জেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। জেলায় প্রায় ৫০টি কলেজ থাকলেও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। অথচ পাশের জেলা নোয়াখালী ও কুমিল্লায় দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাই ফেনীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ফেনী ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার নেতৃত্বে ছিলেন সমাজসেবক আবদুস সাত্তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক শিক্ষা প্রদান ও গবেষণার  মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলা। 
ফেনী ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মো. শাহ আলম বলেন, ‘পুরো ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সচেষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়টি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রত্যাশিত একাডেমিক মান বজায় রেখে যুক্তিসঙ্গতভাবে কম খরচে উচ্চশিক্ষা প্রদান করা।’
ফেনী ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘ফেনী ইউনিভার্সিটি সরকারি সব নিয়ম মানার চেষ্টা করে। সাড়ে ৫৬ শতক জায়গার ওপর আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে স্থায়ী ভবনের কাজ দৃশ্যমান হবে। ইতোমধ্যে ডিজাইন অনুমোদন করে সয়েল টেস্ট করা হয়েছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম জামাল উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান অনেক ভালো। এ ইউনিভার্সিটিতে পর্যাপ্ত জনবল রয়েছে। মনোরম পরিবেশে লেখাপড়া করে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে ভালো করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফেনী ইউনিভার্সিটিতে রাজনীতিকে নিরুৎসাহিত করা হয়। বিগত সময়ে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচির কারণে একদিনের জন্যও শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। এ ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ভবন তৈরির জন্য সাড়ে চার একর জমি ক্রয় করা রয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে এখনও নিজস্ব ভবন নির্মাণ করতে পারিনি। তবে দ্রুত ইউনিভার্সিটির জায়গায় নিজস্ব ভবন তৈরির চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন

×