ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সময়মতো নির্ণয় হলে হৃদরোগ প্রতিরোধ সম্ভব

সময়মতো নির্ণয় হলে হৃদরোগ প্রতিরোধ সম্ভব
×

বিশ্ব হৃদরোগ দিবসে পার্কভিউ হাসপাতালের সেমিনারে অতিথিরা সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সর্বাধিক ৩৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হৃদরোগে হয় এবং মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব হৃদরোগ দিবস উপলক্ষে পার্কভিউ হাসপাতালে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’– এ প্রতিপাদ্যে হাসপাতালের কনফারেন্স হলে দুদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দিন। সেমিনারে সঞ্চালনা করেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাফেজ মুজিবুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডা. ইকবাল মাহমুদ।
এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আইমন জাহাঙ্গীর সেলিম, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবু তারেক ইকবাল এবং পার্কভিউ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম এম আলম সাদী।
অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হৃদরোগ এখন কেবল উন্নত দেশেই নয়, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও মৃত্যুর প্রধান কারণ। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনলেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।’ 
ডা. এটিএম রেজাউল করিম বলেন, ‘খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। ধূমপান ও মাদক পরিহার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম– এসব অভ্যাসই সুস্থ হৃদয়ের জন্য কার্যকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘পার্কভিউ হাসপাতালে আধুনিক কার্ডিয়াক কেয়ার সেন্টার, অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব, সিসিইউ ও ২৪ ঘণ্টা কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সি সাপোর্ট চালু রয়েছে, যাতে রোগীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সব ধরনের সেবা পেতে পারেন।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– হাসপাতালের পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, ল্যাব পরিচালক ডা. মাহাবুবুল আলম চেীধুরি, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শফিউল আলম, ডা. শওকত আকবর, কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রফিকুল হাসান।
বক্তারা বলেন, ‘গ্লোবাল বারডেম অব ডিজিজের তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত ১৮ শতাংশ মানুষ। ফুসফুসের বিভিন্ন সংক্রমণ ও যক্ষ্মায় ভোগে ১৩ শতাংশ মানুষ। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সমস্যা ১০ শতাংশ, আঘাত ও মানসিক সমস্যা ৭ শতাংশ করে, কোষের বৃদ্ধিজনিত টিউমার সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্র ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগে ৫ শতাংশ, ডায়াবেটিস, কিডনিজনিত সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যায় ভোগে ৪ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া অন্ত্রের প্রদাহ, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা, অপঘাত ও ইন্দ্রিয় অন্ত্রের সমস্যায় ভোগে ৩ শতাংশ মানুষ। অন্যান্য রোগে ভোগে ৯ শতাংশ।’

আরও পড়ুন

×