ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘আমার একটা চাঁদ যেন কোথায় লুকিয়ে ছিল’

‘আমার একটা চাঁদ যেন কোথায় লুকিয়ে ছিল’
×

নবজাতকদের সঙ্গে অস্ত্রোপচারকারী ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি সমকাল

শৈবাল আচার্য্য

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সন্তানের জন্য প্রবল ইচ্ছা থাকলেও ১০ বছর ধরে খালি ছিল মায়ের কোল। অবশেষে এনি আক্তার ও ওয়াহিদুল ইসলাম দম্পতির ঘরে এসেছে সন্তান। একটি-দুটি নয়, একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এনি আক্তার। এর মধ্যে দুটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে। অনেক দেরিতে হলেও একসঙ্গে পাঁচ সন্তান পেয়ে আনন্দের শেষ নেই পরিবারে। 

তবে এনি আক্তার বলেন, ‘আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় সবসময় চারটি সন্তানের কথা বলেছেন চিকিৎসক। বাস্তবে পেয়েছি ৫টি সন্তান। আমার একটি চাঁদ যেন কোথায় লুকিয়ে ছিল!’
নগরের বেসরকারি পিপলস হাসপাতালে গত ৮ ডিসেম্বর একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দেন এনি আক্তার। এর মধ্যে একটা বাচ্চার ওজন ১৬০০ গ্রাম, একটি ১৫০০ গ্রাম, আরেকটি ১৪০০ গ্রাম এবং বাকি দুটি এক কেজি করে। পাঁচজনই সুস্থ রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এনির পাঁচ সন্তানের প্রসব হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনজনের ওজন একটু কম হলেও দুজনের ওজন স্বাভাবিক আছে। 

রোগীর সফল অস্ত্রোপচার করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন এনি আক্তার। এনির বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়। তাঁর স্বামী ওয়াহিদুল ইসলাম সুমন ব্যবসায়ী। অস্ত্রোপচারের পর সাবধানতার জন্য নগরের পার্কভিউ হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) পাঁচ নবজাতককে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়েছে। এটি এনির মতো আমাদের জন্যও অনেক আনন্দের। মজার ব্যাপার হলো অস্ত্রোপচারের আগ পর্যন্ত আমরা যতগুলো আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করেছি, সেখানে সবসময় চারটি বাচ্চা দেখতে পাই। তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চারটি বাচ্চা বের হওয়ার পর আশ্চর্যজনকভাবে দেখতে পাই আরও একটি বাচ্চা রয়েছে। পরে সেটিও সফলভাবে বের করি। বাচ্চাদের পাশাপাশি তাদের মাও সুস্থ আছেন।’ 

১০ বছর আগে এনি  আক্তার ও সুমনের বিয়ে হয়। কিন্তু তাদের বাচ্চা হচ্ছিল না। পরে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমির পরামর্শ নেন তারা। তিনি তাদের ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশনের (আইইউআই) পরামর্শ দেন। সৌভাগ্যবশত আইইউআই করে প্রথম মাসেই সফল হন এই দম্পতি। 
বাচ্চাদের চাচা ফরিদুল আলম বলেন, ‘বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে পাঁচ শিশুর জন্ম হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সব শিশু সুস্থ আছে। তারপরেও সতর্কতা অবলম্বন করতে চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে। সবাই নবজাতকদের জন্য দোয়া করবেন। যাতে তারা সুস্থ হয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরতে পারে।’ 
এনি আক্তারের এক স্বজন বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই সন্তানের অপেক্ষায় থাকে সকল দম্পতি। ১০ বছর ধরে অনেক চেষ্টা করেও সন্তান হয়নি তাদের। একসাথে পাঁচ শিশুর জন্ম নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর। তবে গর্ভধারণের নির্ধারিত সময়ের আগে শিশুগুলোর জন্ম হওয়ায় তাদের কয়েকজনের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়েছে। এ ধরনের বাচ্চার কিছু জটিলতাও থাকে। তাই আনন্দের পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও কম নয়।’

আরও পড়ুন

×