ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শুকলালহাটে মাসে বিক্রি হয় ৮০ লাখ টাকার লাউ

শুকলালহাটে মাসে বিক্রি  হয় ৮০ লাখ টাকার লাউ
×

সীতাকুণ্ডের শুকলালহাট থেকে ট্রাকে তোলা হচ্ছে লাউ, নিয়ে যাওয়া হবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমকাল

 এম সেকান্দর হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

সীতাকুণ্ড উপজেলার শুকলালহাট। শত বছরের পুরোনো এই হাট এখন ‘লাউয়ের বাজার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সপ্তাহে বুধ ও রোববার হাটবারে প্রায় ৮০ হাজার ও মাসে ৩ লাখের বেশি লাউ বিক্রি হয় এই বাজারে। প্রতিটি ২০-২৫ টাকা হিসাবে এসব লাউয়ের দাম প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকা। সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় নাইস গ্রিন, সুলতানা, মেরিনা, হাইগ্রিন, কচি ও গ্রিন ম্যাজিক জাতের লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৮৮০ টন। উপজেলায় বছরে প্রায় ৩০-৩৫ কোটি টাকার লাউ উৎপাদন হয়।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে এসে কৃষকদের কাছ থেকে লাউসহ সবজি কিনে নেন। তারপর ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপে করে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে নিয়ে যান। সবজি অনুসারে গাড়ির ভাড়া দিতে হয় ৮ থেকে ১৪ হাজার টাকা।

বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, ১৩ জন পাইকারি ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৪০ হাজার ৪৫০টি লাউ কিনেছেন। এসব লাউ নিয়ে যাওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী ও ঢাকার কারওয়ান বাজারে। একইভাবে দুপুরে সীতাকুণ্ড সদরের তিন কিলোমিটার উত্তরে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শুকলালহাট বাজারে দেখা যায়, পরাগ সিনেমা হলের সামনে লাউয়ের বড় বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। শ্রমিকরা লাউয়ের আকারভেদে আলাদা করছেন। কেউ আবার পিকআপ, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে করে লাউ বোঝাই করছেন।

বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ অন্তত ১৬ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বেশি থাকায় ক্রেতারা দাম কম বলছেন। বর্তমানে যে দাম পাচ্ছেন তাতে লাউ চাষে লোকসান গুনতে হবে না। স্থানীয় চাষি মনা মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগেও তিনি প্রতি পিস লাউ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন তা কমে ১৫ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, শীতের এই সময়ে সাধারণত লাউয়ের দাম কম থাকার কথা। কিন্তু কৃষকরা দাম খুব ছাড়ছেন না। ফলে তুলনামূলক বেশি দামে লাউ কিনতে হচ্ছে তাদের, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা মো. আবদুল বলেন, ‘আমি প্রতি হাটে শুকলালহাটে আসি। বুধবার ১৮ টাকা করে ৯০০টি লাউ কিনেছি। পাশাপাশি ৫০ টাকা কেজি দরে ১৫০ কেজি বেগুনও নিয়েছি।’ ঢাকার কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, ‘আমি তিন হাজার লাউ কিনেছি। গড়ে প্রতিটি লাউয়ের দাম পড়েছে ২২ টাকা। এসব লাউ ট্রাক ভর্তি করে ঢাকার কারওয়ান বাজারের আড়তে নিয়ে যাব। ভোররাতের দিকে সেগুলো ঢাকায় পৌঁছাবে এবং সকাল থেকে খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হবে।’ 

একইভাবে আড়াই হাজার লাউ কিনেছেন কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সেলিম। 
পাইকারি ক্রেতা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমরা সাধারণত লাউগুলো কাওরান বাজারের আড়তে পৌঁছে দই। আড়তদার কখনো ১০ টাকা লাভে আবার কখনো ২ টাকা লোকসানে বিক্রি করের। ’তিনি আরও জানান, সপ্তাহে দুই দিন শুকলালহাট বাজার থেকে লাউসহ বিভিন্ন সবজি কিনে ঢাকায় পাঠান তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে নাইচ গ্রিন, সুলতানা, মেরিনা, হাইগ্রিন, কচি ও গ্রিন ম্যাজিক জাতের লাউ চাষ হয়েছে। উপজেলায় রবি মৌসুমে লাউ আবাদ হয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ টন। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক লাউ চাষ করে লোকসানে পড়েননি। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকেরা লাউয়ের ভালো দাম পাচ্ছেন।’
 

আরও পড়ুন

×