ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রোগীর কাছে যায় যে হাসপাতাল

রোগীর কাছে যায় যে হাসপাতাল
×

অস্ত্রোপচারের আগে রোগী মোহাম্মদ ইসমাইলকে অভয় দিচ্ছেন চিকিৎসক (বামে), দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত অনিতা চক্রবর্তী সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফটিকছড়ির নিভৃত গ্রাম হাইদচকিয়া। গ্রামের এক মাঠে প্যান্ডেলের নিচে দাঁড়িয়ে কয়েকশ নারী-পুরুষ, যাদের বেশির ভাগেরই বয়স পঞ্চাশের ওপরে। তারা এসেছেন চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য। সেখানে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করেছে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইম্পেরিয়াল সিটি।

চট্টগ্রামে ৬৩ বছর ধরে চোখের সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৬৩ সালে সীমিত পরিসরে বিনামূল্যে অসহায়-দুস্থ রোগীদের জন্য লায়ন্স চ্যারিটেবল আই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৬৩ বছর পর চক্ষু চিকিৎসায় এটি দেশের অন্যতম আইকনিক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ মানুষ চোখের চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আড়াই লাখ মানুষের চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে।
চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চক্ষু শিবির, স্কুল সাইট স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম ও নগরে আধুনিক হাসপাতাল– এই সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন অন্ধত্ব বিমোচন ও চক্ষুরোগ চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। লায়ন্স চ্যারিটেবল আই হাসপাতাল নিজেই যায় রোগীর কাছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ-চশমা দেওয়ার পাশাপাশি ছানি বা নেত্রনালির জটিল অপারেশনও করা হয় এ হাসপাতালে। চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগে ১০০টিরও বেশি ক্লাবের ৩ হাজারের বেশি সদস্য এ সেবায় নিয়োজিত।

সম্প্রতি হাসপাতালের কেবিনে দেখা হয় ৬৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইসমাইলের সঙ্গে। তিনি জেকো ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত ফ্রি ক্যাটারাক্ট সার্জারি প্রজেক্টের আওতায় দ্বিতীয়বারের মতো ছানি অপারেশনের জন্য এসেছেন। ইসমাইল বলেন, ‘৮ মাস আগে বাম চোখের অপারেশন করেছি, এখন ভালোই দেখতে পাচ্ছি। আজ ডান চোখেরও অপারেশন করালাম।’ অপারেশনের পর দুই চোখেই স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে ইসমাইল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনিতা চক্রবর্তী (৮০) আনন্দে বলেন, ‘আমি আপনাকে দেখতে পাচ্ছি, সবকিছুই দেখতে পাচ্ছি। আমার ভীষণ খুশি লাগছে।’ 
একজন চিকিৎসক বলেন, ‘চিকিৎসক ও কর্মীরা শুধু রোগীকে আরোগ্য দিচ্ছেন না, মানুষের মধ্যে আস্থা ও আশা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট তাই শুধু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়, এক সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, ‘চাইলে বিশেষায়িত প্রায় সব হাসপাতাল চক্ষু চিকিৎসা কর্নার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এতে গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা যায়। ফলে গ্রাম-শহরের প্রান্তিক মানুষগুলো দারুণ উপকৃত হবে।’
চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন নাসিরুদ্দিন চৌধুরী জানান, হাসপাতালটি ৩০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। প্রতিদিন দুই শিফটে ৫০০-৬০০ রোগীকে বিনামূল্যে এবং স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১,৫০০ রোগীর ক্যাটার‍্যাক্ট অপারেশন সম্পন্ন হয়। এ হাসপাতালের চিকিৎসায় ২০২৪ সালে ৭ হাজার ৩১৭ জন ও ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৪৪৩ জন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছে।

আরও পড়ুন

×