ক্ষতবিক্ষত সরই খাল
লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়নের সরই খাল থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে সমকাল
কাইছার হামিদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
লোহাগাড়া উপজেলা সদরের দরবেশ হাট ডিসি রোড থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণে পুটিবিলা এমচর হাট। সেখান থেকে পূর্বদিকে গৌড়স্থান গজালিয়া দিঘি এলাকায় সরই খালের অবস্থান। সেই খালের দক্ষিণ পাড়ে বসানো হয়েছে দুটি যন্ত্র, রাতদিন তোলা হচ্ছে বালু, ছোট ট্রাকে করে তা বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। এক ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, বালু উত্তোলনের সুবিধার্থে সরই খালে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়েছে। খালের দক্ষিণ পাড়ের অন্তত ৪০ শতক জায়গাজুড়ে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে বালু রাখা হয়েছে। একসময় সবুজ গাছগাছালি ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত খালটি এখন ক্ষতবিক্ষত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে সরই খাল থেকে বালু উত্তোলন চলছে। শুধু সরই নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ রয়েছে। যারা পাহাড়-টিলায় ভূমিকা রাখবেন সেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নেতৃত্বেই বালু লুটের উৎসব চলছে।
উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন উলুবুনিয়া এলাকায় জামছড়ি খাল সংলগ্ন টিলা কেটে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য শওকত ওসমানের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুটি ড্রেজার (শ্যালো) মেশিন, একটি পানি সেচের মেশিন, তিনটি পাম্পের অংশ, একটি পাম্পের মুখ, একটি পাখার শ্যাফ্ট, পাঁচটি বেলচা, কয়েকটি হোস পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে।
লোহাগাড়া থানার এসআই জাহেদ হোসেন জানান, টিলা কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় ইউপি সদস্য শওকত ওসমানসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবাধ বালু উত্তোলনের ফলে খালের পাড় ভেঙে পড়ছে, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বসতবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কাও করছেন তারা। বালু উত্তোলন যন্ত্রের শব্দে দিনরাত অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা। এছাড়া বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার আগ্রহ দেখান। তবে পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে অবিলম্বে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
- বিষয় :
- খাল
