ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মহেশখালী

৯৬ আশ্রয়ণকেন্দ্রের ১৫টিই ব্যবহার অনুপযোগী

বেহাল উপকূলের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র

৯৬ আশ্রয়ণকেন্দ্রের ১৫টিই ব্যবহার  অনুপযোগী
×

মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের মুহরীঘোনা বাজারের পাশের একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। নেই দরজা, দুর্যোগে সেখানে যাওয়ার পথও নেই সমকাল

 মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন, মহেশখালী (কক্সবাজার)

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৭:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা এলেই চরম আতঙ্কে দিন কাটান স্থানীয় বাসিন্দারা। জানমাল রক্ষার প্রধান ভরসা বেশির ভাগ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের জীর্ণদশা ও কয়েকটি বেদখলে চলে যাওয়ায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলায় বর্তমানে মোট ৯৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। তবে এর মধ্যে অন্তত ১৫টি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব ভবনের ছাদ, দেয়াল ও অভ্যন্তরীণ কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত সরকারি এ ভবনগুলোর মধ্যে অন্তত ৩টি বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে। বড় মহেশখালী, পৌরসভা এবং ধলঘাটা এলাকার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র দখল করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে দুর্যোগের সময় এসব স্থাপনায় আশ্রয় নিতে পারেন না স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ বলেন, ‘মহেশখালীর ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বড় মহেশখালী, পৌরসভা ও ধলঘাটায় ৩টি শেল্টার অবৈধ দখলে রয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।’
আশ্রয়কেন্দ্রের সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। ধলঘাটা ও মাতারবাড়ির কুতুবজোম এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, অনেক শেল্টার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে আশ্রয় নিতে ভয় পান তারা। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় গবাদিপশু ও পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় প্রতিনিয়ত।
মাতারবাড়ির খাইরুল বশর অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা এলে প্রশাসনের মাইকিং দেখা গেলেও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বাস্তব অবস্থা নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। ধলঘাটার বাসিন্দা মুজিবর রহমান বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, বসার জায়গা থাকে না। তাই অনেক সময় বাড়িতেই থাকা নিরাপদ মনে হয়।’
এ অবস্থায় বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র দ্রুত সংস্কার এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পাশাপাশি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ‘মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার’ নির্মাণেরও দাবি উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো মূল্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার এবং নতুন শেল্টার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সরকারকে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’

আরও পড়ুন

×