ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শঙ্খে বিষ, মাছের দফারফা

শঙ্খে বিষ, মাছের দফারফা
×

 মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) 

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৭:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত শঙ্খ নদীতে বিষ প্রয়োগ ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ মারা হচ্ছে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হয়ে মিঠাপানির এই নদী ধীরে ধীরে মাছশূন্য হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জেলে ও পরিবেশবিদরা। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, শঙ্খ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কিছু অসাধু জেলে ও শৌখিন মৎস্যশিকারি রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছেন। পাশাপাশি প্রকাশ্যে কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি জাল, মশারি জাল, বেড় জাল ও বেহুন্দি জালের মতো নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে চলছে নির্বিচার মাছধরা।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, এক স্থানে বিষ প্রয়োগ করলে তা নদীর কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি অসংখ্য পোনা ও জলজ প্রাণী মারা যায়। ফলে নদীর প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান হলেও এটা ‘লোকদেখানো’ বলে অভিযোগ তাদের।
চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি, দোহাজারী পৌরসভা, বৈলতলী, বরমা এবং সাতকানিয়ার বাজালিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, খাগরিয়া, নলুয়া, আমিলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এসব জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে, পোনা মাছসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী আটকে মারা যাচ্ছে।

ধোপাছড়ি এলাকার জেলে আবদুর রহিম বলেন, ‘শঙ্খে এখন বড় মাছ প্রায় নেই। তাই বড় ফাঁসের জালেও মাছ পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ বেড় জাল ব্যবহার করছে। দিনে ৮ থেকে ১০ বার জাল ফেলেও খুব অল্প মাছ পাওয়া যায়।’ কালিয়াইশ কাটগড় জলদাসপাড়ার জেলে বলরাম জলদাস ও কালি দাস বলেন, ‘আগে শঙ্খে রুই, কাতলা, বোয়াল, পাঙ্গাশ, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে থেকেও মাছ পাওয়া যায় না।’ তাদের মতে, বিষ প্রয়োগ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না করলে এই নদীর মৎস্যসম্পদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।
সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের এনজিও কর্মী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু অভিযান নয়, বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেলেদের বৈধ পদ্ধতিতে মাছ ধরতে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা জরুরি।’
চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহসান বলেন, ‘বিষ প্রয়োগ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার রোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। খবর পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×