বৈদেশিক মুদ্রার প্রবৃদ্ধিতে সহযোগী হবে আমিরাতের তাফহিম
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী ইমরান আহমদের সাম্প্রতিক আমিরাত সফরে তাফহিম চেয়ারম্যান শেখ সাঈদ বিন হাশর আল মাকতুম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
কামরুল হাসান জনি, ইউএই
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০ | ০৩:২৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বল্প ব্যয়ে অভিবাসন ও নিরাপত্তার ছাড়পত্র প্রচারের কাজ শুরু করেছে দেশটিতে থাকা তাফহিম সেন্টার। এটি আমিরাতের রাজ পরিবারের সদস্য শেখ সাঈদ বিন হাশর আল মাকতুমের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ প্রদানে উৎসাহিত করে না বরং অভিবাসনে স্বল্প ব্যয় নিশ্চিত করা সহ দেশে প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যবহারের পথ সুগম করে।
বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তম একটি অংশ রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। মধ্যপ্রাচ্যের জনসংখ্যার তুলনায় যার পরিমাণ প্রায় ০.০৭৫ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে গড়ে কমপক্ষে পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে গেছেন এবং ২০১৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় দশ লাখের মতো। প্রবাসী আয়ের সিংহভাগ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাজ্য থেকে আসে।
এছাড়া ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন থেকেও প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকেন। তবে শুধুমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ছিল ২,৮২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৪-১৫ সালে ২,৮২৩ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৬-২০১৭ সালে তা হ্রাস পেয়ে ২০৯৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গত ৩ বছরে বৈদেশিক মুদ্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০১৮ সালে ২,৪২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৯ সালে ২,৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসেছে প্রায় ১,৭৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তাফহিম সূত্র জানায়, আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দু'দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মূলত 'তাফহিম' নামের এই প্রতিষ্ঠানটি সকল প্রবাসীদের কল্যাণার্থে শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় আরো কমিয়ে আনা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের অধিকার, স্থানীয় আইন এবং অভিবাসন ব্যয়ের বিষয়ে সঠিত তথ্য জানাবে। এতে প্রবাসীদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাসের সুযোগ তৈরি হবে, পাশাপাশি প্রেরিত অর্থে অধিক প্রবৃদ্ধি সহ দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে।
এ ছাড়াও বর্তমান পরিস্থিতির বিষয় উল্লেখ করে তাফহিম চেয়ারম্যান শেখ সাঈদ বিন হাশর আল মাকতুম জানান, করোনাভাইরাসের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বাংলাদেশের (বিএমইটি) আওতাভুক্ত ৭০টি ট্রেনিং সেন্টারে কোভিড-১৯ টেস্ট ও সনদ এবং বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করবে।