ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ট্রুডোর বাসভবনের পাশে আটক সশস্ত্র সেনাসদস্যের নাম জানা গেছে

ট্রুডোর বাসভবনের পাশে আটক সশস্ত্র সেনাসদস্যের নাম জানা গেছে
×

কানাডা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২০ | ২৩:১৩

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও গভর্নর জেনারেল জুলি পায়েটের বাসভবনের পাশ থেকে এক সশস্ত্র সেনাসদস্যকে আটক করা হয়েছে। ৪৬ বছর বয়সী সেনাবাহিনীর এই  সদস্য হলেন কোরি হুরেন। 

শুক্রবার বিকেলে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রথম আদালতে তাকে হাজির করা হয়। সশস্ত্র সেনাসদস্য কেন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন তা এখনও জানা যায়নি।

কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য কানাডিয়ান প্রেস'  আরসিএমপি এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বর্তমান সদর দরজার মাএ ২০০ মিটারেরও কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরসিএমপি আরো জানিয়েছে, শুক্রবার হুরেনের কাছে কমপক্ষে একটি বন্দুকসহ বেশ কয়েকটি অস্ত্র ছিল। পুলিশ তাকে দেখার আগে বৃহস্পতিবার ভোরে ১৩ মিনিটের জন্য তিনি রিদাউ হলের মাঠে  ছিলেন এবং গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তার সঙ্গে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় কথা হয়।

 হুরেন ২২টি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে হুমকি উচ্চারণের জন্য একটিও রয়েছে। বাকিগুলো হল- একটি অস্ত্রের চার্জ, যার মধ্যে একটি বিধিনিষেধযুক্ত বা নিষিদ্ধ বন্দুক রাখার জন্য, অসতর্ক ব্যবহারের জন্য চারটি, একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের জন্য বা পরিচালনা করার জন্য চারটি এবং বিপজ্জনক উদ্দেশে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার জন্য চারটি।

কোভিড-১৯ মহামারিতে স্বতন্ত্র আদালতের বিচারকাজের কারণে ফোনে সংক্ষিপ্ত আদালতের উপস্থিতিতে হুরেন তার পুরো নাম এবং জন্ম তারিখটি শান্ত মনে বলেছেন।  তিনি বিচারককে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি কার্যনির্বাহী বুঝতে পেরেছেন।

তার আইনজীবী, মাইকেল ডেভিস, মামলাটি ১৭ জুলাই পর্যন্ত স্থগিতের জন্য বলেছেন। সহকারি ক্রাউন অ্যাটর্নি মেঘান কানিংহাম ক্রাউন হুরেনকে মুক্তি দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন এবং স্থগিতাদেশে রাজি হয়েছেন।

যখন ঘটনাটি ঘটে তখন ট্রুডো বা তার পরিবার কেউই রিদাউ কুটির বাড়িতে ছিলেন না। গভর্নর জেনারেল জুলি পায়েত, যার বাসভবন সাধারণত রিদাউ হলে থাকে, তিনিও সেখানে ছিলেন না।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ট্রুডো শুক্রবার বলেছেন, কেউই এ ধরনর ঘটনা দেখতে চায় না, তবে তিনি কৃতজ্ঞ যে কোন ধরনের ক্ষতি ছাড়াই ঘটনাটির সমাধান হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, হুরেন চতুর্থ রেঞ্জের পেট্রোল গ্রুপের একজন মাস্টার কর্পোরাল। কোভিড -১৯ মহামারির সময় তিনি অস্থায়ীভাবে পূর্ণকালীন ডিউটিতে রিজার্ভস্ট ছিলেন।

“তবে গ্রেপ্তারের সময় তিনি সিএএফের কোনও সামরিক কাজের অংশ নন;  তিনি নিজের কমান্ডের কমান্ড না জেনে নিজের ইচ্ছামত অটোয়ায় যাত্রা করেছিলেন’’ "বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আরসিএমপির তদন্ত ও আইনানুগ কাজ শেষ হওয়ার পরে বাহিনী হুরেনের অবস্থা পর্যালোচনা করবে।

উল্লেখ্য সন্দেহভাজন কোরি হুরেন  বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় একটি গাড়ি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঢুকে পড়েন। তিনি গাড়ি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নর জেনারেলের সরকারি বাসভবনের দিকে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে তিনি পায়ে হেঁটে এগিয়ে যেতে থাকেন। কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই তাকে ধরে ফেলে টহল পুলিশ। ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নর জেনারেল তাদেরর সরকারি বাসভবনে ছিলেন না। সশস্ত্র সেনাসদস্য কেন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন তা এখনও জানা যায়নি।

অপরদিকে ২০১৯ সালে কানাডার নিরাপত্তা বাহিনী জাস্টিন ট্রুডোর ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছিল। এ কারণে ট্রুডো সে সময় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেন। তবে এ পর্যন্ত বড় ধরণের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। কানাডার কুইবেক প্রদেশের স্বাধীনতাপন্থী একটি গোষ্ঠী ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক প্রশাসনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে অপহরণের পর হত্যা করেছিল।

আরও পড়ুন

×