কানাডায় করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা
কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২০ | ১২:১৪
করোনাভাইরাসে পর্যুদস্ত বিশ্বের সবার এখন অপেক্ষায় আছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে অগ্রগামী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনকে। কতটা ফলপ্রসু হবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে থাকা এ টিকা- এ প্রশ্ন এখন বিশ্ববাসীর সবার। গবেষকদের একাংশ বলছে, সেপ্টেম্বরে ভ্যাকসিন আনার ব্যাপারে তারা শতভাগ নিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের টিকার ইতিবাচক খবরের মধ্যে চমকপ্রদ খবর দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তারা এক মাসের মধ্যে করোনার টিকা আনার ব্যাপারে আশাবাদী। দ্য মস্কো টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাসের টিকা আগামীমাসেই রোগীদের শরীরে প্রয়োগ করা হবে।
এসব আলোচনার মধ্যেই কানাডার ক্যালগেরিতে অনুষ্ঠিত হলো 'কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন : কোথায় আমাদের অবস্থান' শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সভা। ক্যালগারির টম বেকার ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ কো-অরডিনেটর ও 'আর এক্স মিমস'-এর পরিচালক আহমেদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে জুমের মাধ্যমে এ আলোচনায় কানাডা, বাংলাদেশ, নেপাল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে গবেষকরা অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নেন- অস্ট্রেলিয়ার ডা. শাহনাজ পারভীন, নেপালের ডা. শ্যাম প্রাসাদ লোহানী, ডা. এস এন এম আবদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ডিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও গ্লোব বায়োটেক রিসার্চ-এর সিইও ডা. কাকন নাগ।
আলেচনায় বিশ্বে করোনার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, জনসচেতনতা ও ভ্যাকসিনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এছাড়াও উঠে আসে ভ্যাকসিন কোন কোন দেশে আগে পাবে এবং এর দামই বা কত হবে সেই প্রসঙ্গও। সবার কাছে এই ভ্যাকসিন পৌঁছাতে ২/৩ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলেও বক্তারা জানান।
আহমেদ হোসেন শাহিন বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে গবেষকদের একটাই লক্ষ্য- কিভাবে একটি সফল ভ্যাকসিন তৈরি করা যায়। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমেরিকা, লন্ডন, চীন, রাশিয়াসহ অনেক দেশ ইতিমধ্যে এ ভ্যাকসিন তৈরির পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে গ্লোব বায়োটেকের প্রি ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্বমানের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সেন্টার তৈরি এখন সময়ের ব্যাপার। প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা আর সহযোগিতার। আর এটা হলে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।'