ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কণ্ঠে কণ্ঠে কবিতার আলোকযাত্রা: মুক্তবাকের ‘স্বপ্নঘুড়ি দিলাম ছাড়ি’ অনুষ্ঠিত

কণ্ঠে কণ্ঠে কবিতার আলোকযাত্রা: মুক্তবাকের ‘স্বপ্নঘুড়ি দিলাম ছাড়ি’ অনুষ্ঠিত
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ২১:৫৭

কবিতার শব্দ যখন শিল্পীর কণ্ঠে ভর করে মঞ্চে ডানা মেলে, তখন তা কেবল আবৃত্তি থাকে না; হয়ে ওঠে হৃদয়ের গহীন অনুভবের এক সম্মিলিত শিল্পযাত্রা। এমনই এক নান্দনিক ও কাব্যময় সন্ধ্যার সাক্ষী হলো বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আবৃত্তি সংগঠন ‘মুক্তবাক’-এর নিয়মিত আয়োজন ‘স্বপ্নঘুড়ি দিলাম ছাড়ি’-এর ১৯তম আসর।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুক্তবাকের কর্ণধার বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ইকবাল খোরশেদ জাফর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতাটি পাঠ করেন। তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠ আর শব্দের মায়াজালে মিলনায়তনে তৈরি হয় এক অনন্য আবহ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, কবিতা ও কণ্ঠের মাধ্যমে প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

আয়োজনের প্রথম পর্ব ছিল ‘নবহরিতের গান’। এই পর্বে মুক্তবাকের একঝাঁক তরুণ আবৃত্তিশিল্পী—অমিয়া অমানিতা, আসাদুজ্জামান, ইরাম মাহফুজা, রায়হান হায়দার রঞ্জন, রহমত আরা বেগম লিপি ও আশরাফ আলী সরকার তাঁদের পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন। তাঁদের কণ্ঠে সমকাল, স্বপ্ন, মানবিকতা ও জীবনের নানা অনুষঙ্গ মূর্ত হয়ে ওঠে। নবীন এই শিল্পীদের আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ দর্শক-শ্রোতাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে।

দ্বিতীয় পর্ব ‘আলোসাগরের গান’-এ একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন সংগঠনের অন্যতম সংগঠক রুবিনা শাহনাজ রুপা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চব্বিশ’ কবিতা দিয়ে শুরু করে তিনি একে একে পাঠ করেন বীথি চট্টোপাধ্যায়ের ‘মা’, লুৎফর রহমান রিটনের ছড়া, বুদ্ধদেব বসুর ‘কালিদাসকে খোলাচিঠি’, নির্মলেন্দু গুণের ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’, অরুণ মিত্রের ‘ও বেহুলা’, রাসেল আসাদের প্রতিবাদী কবিতা এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বারাঙ্গনা’। প্রতিটি কবিতায় তাঁর কণ্ঠের পরিমিতিবোধ ও নাটকীয় বাচনভঙ্গি উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

তৃতীয় ও শেষ পর্ব ‘অনুসূর্যের গান’-এ মঞ্চ আলোকিত করেন বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী পারভেজ চৌধুরী। জীবনানন্দ দাশের ‘বাংলার মুখ’ কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি শব্দে শব্দে আবহমান বাংলার রূপ ও প্রকৃতিকে তুলে ধরেন। এরপর তিনি মুহম্মদ সামাদ, জয় গোস্বামী, সুজন বড়ুয়া ও সৈয়দ শামসুল হকের কবিতায় সময়, প্রেম ও স্মৃতির গভীর আর্তি তুলে ধরেন।

পুরো আয়োজনজুড়ে মিলনায়তনে পিনপতন নীরবতা কবিতার প্রতি শ্রোতাদের গভীর মমত্ববোধকেই ফুটিয়ে তুলেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফুল আলম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশাররফ হোসেন, আবৃত্তিশিল্পী আজহারুল হক আজাদ, কাজি মাহতাব সুমন, রাশেদ হাসান, সৈয়দ ফয়সাল আহমদ, সোহেল আনোয়ার, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী, শিরিন ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান পারভেজ, সুপ্রভা সেবতী, নাসিমা খান বকুল, নীলা হাসান, কাজী রাজেশসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ইকবাল খোরশেদ জাফর বলেন, ‘স্বপ্নঘুড়ি দিলাম ছাড়ি’ আমাদের একটি নিয়মিত প্রয়াস। এখানে নবীন-প্রবীণের মেধা ও অভিজ্ঞতার মিলনে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক বলয় তৈরির চেষ্টা করা হয়।

বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক কাজি মাহতাব সুমন সমকালকে বলেন, ‘পরিমিত ও পরিশীলিত একটি আয়োজন ছিল এটি। শ্রোতাদের এমন নিবিষ্ট মনোযোগই প্রমাণ করে সার্থক কবিতার শক্তি এখনো অম্লান। এমন আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন

×