ফিরে দেখা শৈশবের বন্ধুত্ব
শৈশবের বন্ধুত্বেই টিকে থাকে জীবন...
মুসাফির পারভেজ
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫ | ০০:৫৩ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৫ | ১১:৫৯
বন্ধুত্ব; ক্ষুদ্র একটি শব্দ, তবে এই শব্দটির মাঝে লুকিয়ে থাকে শত শত না বলা গল্প, অনুভব, খুনসুটি, রাগ-অভিমান, দুঃসময়-সুসময়ের হাজারো স্মৃতি।
আমরা জন্মের পর থেকে বড় হই মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের আদরে-ভালোবাসায়। দিন যায়, মাস পেরিয়ে বছর আসে, বয়স বাড়ে—আমরা প্রবেশ করি শৈশবে। একটু একটু করে কথা বলা, দৌড়াদৌড়ি করে শুরু হয় দুরন্ত শৈশবের সময়। সেই দুরন্ত শৈশবেই গড়ে উঠে আমাদের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে নিঃস্বার্থ সম্পর্ক—বন্ধুত্ব।
দুরন্ত সেই সময়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বই ছিল বড়ই মধুর। তখন আমরা বুঝতাম না; ভালোবাসা, রাগ, অভিমান বা স্বার্থ বলতে কী বোঝায়।
ঘুম থেকে উঠে বাড়ির উঠোনে কিংবা মাঠে গিয়ে চেনা মুখগুলো দেখার যে আগ্রহ, তা না দেখলে শুরু হতো ডাকাডাকি, হাকডাক। একসাথে পথচলা শুরু হতো—বাড়ির পাশে মক্তব, মাঠে খেলা কিংবা স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত।
বছর জুড়ে প্রতীক্ষা থাকতো, 'কবে আসবে ঈদ?'
ঈদ এলে তিন বন্ধু মিলে খোকা মিকারের হারিয়ে যাওয়া ভাঙাচোরা সাইকেল নিয়ে সারা গ্রাম ছুটে বেড়াতাম। সারারাত জেগে কত অজানা গল্পের ভেতরে হারিয়ে যেতাম, কে কার পাশে ঘুমাবে, সেটা নিয়েই চলতো বিশাল কাণ্ড! সকালের আলো ফুটলেই সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছুটে যেতাম নদীর পাড়ে।
দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা নামলে চাঁদের আলোয় শুরু হতো লুকোচুরির খেলা। কখনো আবার খেলনা পিস্তল নিয়ে খেলতাম শিশু মুক্তিযুদ্ধ! সেই শিশু মুক্তিযুদ্ধের গল্প পেরিয়ে কিশোর বেলায় এসে স্বাধীনতার স্বাদ পেতে শুরু করি।
তবে সেই স্বাধীনতা আমাদের নিয়ে গেছে ভিন্ন ভিন্ন পথে। জীবন হয়ে উঠেছে গোলাকার পৃথিবীর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা একেকজন মানুষের একেকটি গল্প।
আজ আমরা চাইলেও কেউ কারো চলার সঙ্গী হতে পারি না। বাইকে কিংবা সাইকেলে চড়ে ঘোরা হয় না, নদীর ধারে বসে 'বোম্বে চিপস' কিংবা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মনের চাপা কথা আর বলা হয় না।
দূর থেকে কেবল শৈশবের বন্ধুত্বের শূন্যতা আমাদের হৃদয়ের গভীরে কড়া নাড়ে। এখন কেবল পুরনো ছবির মাঝে, কিংবা কোনো অলস দুপুরে ভেসে ওঠে সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতি। আধুনিক সমাজে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কর্মজীবন বা চলার পথে তৈরি হয় হাজারো সম্পর্ক। তবে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না! হাজারো মানুষের ভিড়ে আমরা কেবল খুঁজে ফিরি সেই শৈশবের বন্ধুদের—যার সামনে মুখোশ খুলে চলা যায়, যার সামনে ব্যর্থতা বলতে লজ্জা হয় না, দুঃখ নিয়ে কাঁদলেও আত্মসম্মানে আঘাত লাগে না।
এই ভিড়ের মধ্যেও যার সামনে মন খারাপের গল্পটা বলে দিতে হয় না—সে নিজেই ঠিক বুঝে ফেলে। যখন আমরা চরম বিপদে, হতাশায় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি—ঠিক তখনই সেই বন্ধু কাঁধে হাত রেখে বলে, “তুই পারবি, আমি আছি।”
এই “আমি আছি” বলাটা কোনো ঋণ নয়, কোনো দয়া নয়—এটা আত্মার সঙ্গ, নিঃস্বার্থ সহযাত্রা। এমন আছি বলা বন্ধুই শৈশবের প্রকৃত বন্ধু।
যদি এমন কোনো বন্ধু এখনো থাকে, তবে এখনই সময় করে তাকে একটা কল দিন।
হৃদয় উজাড় করে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করুন এবং তাকে জানিয়ে দিন—
“আল্লাহর জন্য ভালোবাসি বন্ধু তোকে”
- বিষয় :
- শৈশব
