ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

আপনার মাধ্যমে ছড়াচ্ছে না তো ‘মিথ্যা’ তথ্য?

আপনার মাধ্যমে ছড়াচ্ছে  না তো ‘মিথ্যা’ তথ্য?
×

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের তথ্য যাচাই ছাড়া শেয়ার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ 3 ছবি : সাহস

শাকিলা ইসরাত

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৫৮

অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের স্বর্ণালি সময়টা শুরু হয়েছে প্রযুক্তির হাত ধরেই। সেটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, দৈনিক পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপকতার কারণে যে সম্ভব হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিষয়টি যেমন ইতিবাচক, তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাবও কিন্তু ব্যাপক। তথ্যের সূত্র একটি বড় ব্যাপার। যার কারণে ‘দৈনিক নীতিকথা’ জাতীয় পত্রিকাগুলোর তথ্যের চেয়ে দৈনিক সমকালের সংবাদ আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বেশি। অবাধ সংবাদ পরিবেশন স্বাধীনতার কারণে যে যার মতো সংবাদ পরিবেশন করছে, তথ্য প্রদান করছে অনায়াসে, অন্যের তথ্য কোনোরকম যাচাই ছাড়াই ছড়িয়ে দিচ্ছে কোটি মানুষের কাছে ফেসবুকের স্ট্যাটাস আকারে। সেখান থেকে আবার কপি পেস্ট হয়ে চলে যাচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। সবই হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তে। এই লাগামহীন পরিবেশনার কি কোনো সীমারেখা থাকা উচিত নয়? আমরা মনে করি, ডানা মেলার সুযোগ থাকলেই নিজের মতো করে কেউ উড়তে পারে না। পরিবার-সমাজ-দেশের কাছে আমাদের অনেক ঋণ। অন্তত সেই ঋণের কথা চিন্তা করেও আমাদের ডানা ঠিক কোথায় পর্যন্ত ভেসে যাবে তা আমরা ঠিক করব। সেটি শুধু সংবাদের ক্ষেত্রেই নয়। 
মানুষ জন্মগত স্বাধীন। তার মনের ভাবনা অপরিসীম। চাইলেই সেসব ভাবনা নিজের মধ্যে লালন করা যায় না। ভাবনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকা যে শ্রেয়, সেটি একজন সাধারণ মানুষও বোঝেন। ধরুন, আপনার মনে জাগতেই পারে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্থানে আপনিই হবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। কিংবা আপনার মনে হতেই পারে, ট্রাম্প আমেরিকার যথাযোগ্য প্রেসিডেন্ট নন। তাই তাঁকে সরিয়ে দিয়ে আপনি বা আপনার যোগ্য ব্যক্তিকে সেখানে বসাবেন। এই ভাবনার পক্ষে আপনি যুক্তি দেখাতে পারেন। রাজ্যের যুক্তি থাকতেই পারে আপনার কাছে। তাই বলে এর বাস্তবায়নে কোনো অনৈতিক কাজ আপনার ধারা হতে পারে না। শুধু তাই নয়, আপনার লেখার মাধ্যমে অন্যকেও উস্কানি দেওয়া যাবে না। 
ফেসবুকে আপনার অবস্থান: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয়, আলোচিত বা সমালোচিত যা-ই বলি না কেন, সবচেয়ে সেরা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক যে ফেসবুক তা একবাক্যে সবাই স্বীকার করবে। ১৩ বছরের বেশি যে কেউ ফেসবুকে নিজের নামে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারে। নিজের ভাবনা শেয়ার করতে পারে। অন্যের ভাবনার ব্যাপারে মতামত দিতে পারে। আপনি পারেন না অন্যের মতামতের বিরুদ্ধে মারামারি করতে। অন্যের মতামত যদি আপনার পছন্দ না হয় তবে আপনি সেটি অস্বীকার করতে পারেন, বা সেই মতামত কেন আপনার পছন্দ না, সেই যুক্তি দিতে পারেন। এমনও হতে পারে, ওই ব্যক্তির জানা কম তাই তিনি অমনটাই ভাবছেন। আপনি যদি তাঁকে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলতে পারেন তবে তিনি আপনার যুক্তি মেনেও নিতে পারেন। তাই বলে প্রকাশ্যে হানাহানি নয়, কিংবা ফেসবুকে সেটি নিয়ে গালাগাল করে প্রচণ্ড বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। 
অনলাইন জগতের ব্লগ, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক-ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, বা এ ধরনের মাধ্যম ব্যবহারে আমাদের হতে হবে স্বাধীন, কিন্তু স্বেচ্ছাচারী নয়। আমাদের হতে হবে স্মার্ট, কিন্তু অযৌক্তিক কিছু নয়। জীবন সুন্দর আর উপভোগ্য করতে হলে আপনাকে থাকতে হবে নির্মল। সবার আগে নিজের কাছে নিজে পরিষ্কার হোন কেন আপনি ব্লগিং করবেন, কেন আপনি ফেসবুক ব্যবহার করছেন। দেখুন নিজের উত্তরে নিজে কতটা সন্তুষ্ট হতে পারছেন? কিংবা দেখা যাবে আদৌ হয়তো আপনি ডেডিকেটেডই না; কেন আপনি অনলাইনে এসব ব্যবহার করছেন। তখনই কিন্তু যত সমস্যা। আপনার অনলাইন জগৎ হোক একান্তই আপন ভাবনার, ঠিক আপনার পরিধির সমান; যেখানে আপনার রুচিশীলতার পরিচয়ও ফুটে উঠবে; যে কেউ তাতে খুঁজে পাবে নতুন আপনাকে। u

আরও পড়ুন

×