ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাফল্য

সৌখিন সংগ্রাহক থেকে জাতিসংঘের ফেলোশিপ

সৌখিন সংগ্রাহক থেকে জাতিসংঘের ফেলোশিপ
×

ওয়াসিম ইকবাল সাজিদ ছবি : সংগ্রহ

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

চাকরির সুবাদে বাবা দেশের বাইরে যেতেন। আসার সময় সে দেশের মুদ্রা নিয়ে আসতেন। এই মুদ্রা দেখেই তাঁর জমানোর আগ্রহ জন্মে। এই আগ্রহ বড় হওয়ার পরে ডালপালা গজিয়ে আরও বড় হয়। সঙ্গে ভালোলাগা, ভালোবাসা তো ছিলই। তাঁর সংগ্রহে আছে ২০০টির মতো দেশের ব্যাংক নোট, ধাতব মুদ্রা। সংখ্যায় যা কয়েক হাজার। তিনি প্রাচীন মুদ্রা সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হলো–দিল্লি সালতানাতের মুদ্রা, বেঙ্গল সুলতানি আমলের মুদ্রা, গুজরাট সুলতানি আমলের মুদ্রা,ওসমানী খেলাফতের সময়ের একাধিক সুলতানের মুদ্রা, টিপু সুলতানের স্বর্ণমুদ্রা, আব্বাসি খিলাফতের হারুন আল রশিদের রৌপ্যমুদ্রা, খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৫-এর দিকের মৌর্য্য আমলের মুদ্রা এবং তাদের পরবর্তী মাগাধা আমলের রৌপ্যমুদ্রা, রোমান শাসক দ্বিতীয় কনস্টানটিয়াসের মুদ্রা, ফিলিস্তিনের মুদ্রা ইত্যাদি। ডাকটিকিট আছে ১২০টি দেশের এক হাজারেরও বেশি।

সৌখিন এই সংগ্রাহকের নাম ওয়াসিম ইকবাল সাজিদ। গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাজিদ। সম্প্রতি সাজিদ জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ফেলোশিপ অর্জন করেছে। জাতিসংঘ মিলেনিয়াম ফেলোশিপ হলো একটি চার মাসব্যাপী–আগস্ট-ডিসেম্বর গ্লোবাল লিডারশিপ প্রোগ্রাম, যা জাতিসংঘের শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ ইউএনএআই এবং তরুণ নেতাদের নেটওয়ার্ক এমসিএন যৌথভাবে পরিচালনা করে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যের হলেও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এটি। এ বছর বিশ্বের প্রায় ৭৫০০ প্রতিষ্ঠানের ৬০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে থেকে মাত্র ২৯০টি ক্যাম্পাসের প্রায় ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এ সুযোগ পেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর বাইরের অসংখ্য ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন সাজিদ। তবে কিছুদিন আগে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সংগ্রহের একটা প্রদর্শনী হয়; যার আয়োজন করে লিও ক্লাব অব গ্রিন ইউনিভার্সিটি। সাজিদ ক্যালিগ্রাফি করেন। ছবি তোলায়ও বেশ দক্ষ। এসব কাজে তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পেয়েছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন ইভেন্টের ভলান্টিয়ার হিসেবেও কাজ করেছেন সাজিদ। ভবিষ্যতে নিজের একটি ছোট সংগ্রহশালা বা জাদুঘর গড়ে তোলার স্বপ্ন লালন করেন এই তরুণ। তাঁর বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো আজকের ব্যবহৃত নোট, মুদ্রা কিংবা কাগজপত্র এক সময় হারিয়ে যাবে। তবে এসব বস্তু শুধু আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম নয়–এসব একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সময়ের সাক্ষ্য বহন করে। 

আরও পড়ুন

×