ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রেরণা

জীবন থেকে পাঠ নিয়ে এগিয়ে চলুন...

জীবন থেকে পাঠ নিয়ে এগিয়ে চলুন...
×

মাইকেল জ্যাকসন

ইয়াসিন মাসুম

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মাইকেল জ্যাকসন। ‘কিং অব পপ’খ্যাত আমেরিকান মিউজিক লিজেন্ড। মিউজিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাববিস্তারী এই কিংবদন্তির বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন ইয়াসিন মাসুম

পেন্সিল ও ইঙ্ক পেন দিয়ে ড্রয়িং করতে বেশ ভালো লাগে আমার। আমি আর্টের ভক্ত। হল্যান্ড, জার্মানি কিংবা ইংল্যান্ড; যেখানেই যাই, আর্ট মিউজিয়াম ঘুরে দেখি। ভাস্কর্য কিংবা পেইন্টিং দেখলে তাতে বুঁদ হয়ে যাই আমি। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। আমার কান্না চলে আসে; আমার মন ছুঁয়ে যায়। একইভাবে আমি মনে করি, একজন অভিনেতা কিংবা পারফরমারেরও আসল কাজটা হলো, ব্যক্তি-মানুষের কিংবা বলতে পারেন দর্শকের অন্তরের অন্তঃস্থলের সত্যটাকে ছুঁয়ে যাওয়া। সেই বাস্তবতাকে ছুঁয়ে যেতে পারলে, আপনিও হয়ে উঠবেন আপনার সৃষ্ট শিল্পের একটা প্রতিকৃতি। রিয়েলিজম বা বাস্তববাদের অনুরক্ত আমি। বানোয়াট জিনিস আমার ভালো লাগে না। অন্তরের অন্তঃস্থলে ডুব দিতে জানলে দেখবেন, পৃথিবীর সব মানুষই এক। আমাদের সবারই রয়েছে আবেগ; আর এর ফলে ‘ই.টি.’র মতো সিনেমা আমাদের সবারই মন ছুঁয়ে যায়। বলুন তো, পিটার প্যানের মতো উড়তে চায় না কে? মহাবিশ্বের বাইরে থেকে আসা কোনো জাদুকরি সৃষ্টি বা এলিয়েনের সঙ্গে উড়তে চায় না, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায় না– এমন মানুষ ক’টা আছে?

কঠোর পরিশ্রম ও নেতৃত্ব 
অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গ আমার ভালো লাগে। ভালো লাগে সহজাত প্রতিভার অধিকারী মানুষদের। আরও ভালো লাগে, কঠোর পরিশ্রম করে যারা নিজেদের পৌঁছে দেয় নিজ ক্ষেত্রের নেতৃত্বস্থানে। মানুষের সঙ্গে মেশা, তাদের সঙ্গে ভাবনা বিনিময় আর একসঙ্গে কাজ করা–এ আমার কাছে জাদুকরি ব্যাপার বলে মনে হয়। আমার প্রেরণার আরেকটি বড় নাম–ফিল্মমেকার স্টিভেন স্পিলবার্গ। শিশুদের কাছ থেকেও বড় ধরনের প্রেরণা পাই আমি। যখন মন ভেঙে যায়, ছোটদের ছবি ভরা কোনো বই হাতে তুলে নিই; আর মুহূর্তেই মনটা ভরে যায় আমার। শিশুদের সান্নিধ্যে থাকার মধ্যে একটা জাদুকরি ব্যাপার আছে; বোধ করি। 

যোগ্যতার চেয়েও বেশি
পৃথিবীতে অনেক মানুষই যোগ্যতার চেয়ে বেশি পেয়েছে। প্রার্থনা করি, আমার ক্ষেত্রে যেন এমনটি না হয়। একসঙ্গে অনেক জায়গায় অনেক কাজ করার স্বপ্ন দেখি না আমি; বরং যে কাজটিই করি না কেন, সেটি যেন নিখুঁত ও গভীর অর্থবহ হয়–সে দিকেই নজর আমার। আমি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস ও অনুভব করি, জনতার সামনে হাজির হয়ে পারফর্ম করার পেছনে যেন একটা যৌক্তিক কারণ থাকে; সে কাজটি যদি যথাযথভাবে করতে পারি তাহলে সেটিই আমার পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার। 

এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা
স্টেজে আমাকে যা যা করতে দেখেন, তার সবটাই আমার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। এর কোনোটাই পূর্বপরিকল্পিত নয়। এ কেবলই আমার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। আমার গায়কী পুরোটাই যথাসম্ভব সিম্পল; এ স্রেফ এক ঈশ্বরপ্রদত্ত ব্যাপার। যখন ছোট ছিলাম, একদমই জানতাম না কী করে যাচ্ছি। স্রেফ গান গেয়ে যেতাম। এর সঙ্গে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কোনো রকমই সম্পর্ক নেই। ফলে এর ব্যাখ্যা দাঁড় করানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ স্রেফ আপনাআপনিই হয়ে যাওয়া! ময়ূর নিয়ে কথা বলতে অনেক শুনেছেন আমায়। এর কারণ, পাখি সম্প্রদায়ের মধ্যে ময়ূরই একমাত্র পাখি, যে কিনা নিজের শরীরে জগতের সব রং ধারণ করে আছে। মিউজিকে এটিই আমার মুখ্য উদ্দেশ্য। আমাদের কনসার্টে তাকালেই দেখবেন, সব দর্শক একসঙ্গে গেয়ে উঠছে, নেচে উঠছে। তাতে ছড়িয়ে পড়ছে জগতের সব রং। এটিই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। 

জীবন থেকে নেওয়া পাঠ
জীবন থেকে পাঠ নেওয়ার সুযোগ কখনোই মিস করি না আমি। কেউ যদি তা থামিয়ে দেয়, তাহলে সে তো মৃত মানুষের সমতুল্য। ফলে চারপাশের মানুষ যা যা বলাবলি করে, মনোযোগ দিয়ে শুনি; তারপর নিজের মতো গ্রহণ করি পাঠ। মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য পারফর্ম করি আমি, ঠিক আছে; তাই বলে নিজেকে কখনোই পাপেটে রূপান্তর করতে চাই না। 

আরও পড়ুন

×