সাফল্য
সৈকত পরিচ্ছন্ন করার রোবট বানিয়ে নুবালার স্বর্ণপদক জয়
লাল-সবুজের পতাকা সবসময় সাহস জোগায় নামিয়া রওজাত নুবালাকে... ছবি: সংগ্রহ
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ছোটবেলা থেকেই বই পড়া, কোডিং, গণিত চর্চার প্রতি নামিয়া রওজাত নুবালার আগ্রহ। আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের ২৬তম আসরে তিনটি থিমের মধ্যে সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্ন করার কাজে ব্যবহারের জন্য পাঁচটি রোবট তৈরি করেছে সে। যেগুলো সমুদ্রতটের ময়লা সংগ্রহ, অতিরিক্ত বালি অপসারণ, কেমিক্যাল প্রস্তুত করে সৈকত পরিচ্ছন্ন করে; একইসঙ্গে কাগজ, প্লাস্টিক, কাচ চিনে তা আলাদা করে নির্দিষ্ট বিনে রাখতে সক্ষম এবং সেগুলো রিসাইকেল করে মোল্ডে পরিণত করতে পারে। ফিজিক্যাল রোবটের এমন মুনশিয়ানা দেখিয়ে তার তৈরি ভিডিওটি তাক লাগিয়েছে বিচারকদের। ফলে বিচারকরাও তাকে নিরাশ করেননি। হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নামিয়া রওজাত নুবালা ক্রিয়েটিভ মুভি ক্যাটেগরির সিনিয়র গ্রুপে স্বর্ণপদক পেয়েছে। শুধু স্বর্ণই নয়, ফিজিক্যাল কম্পিউটিংয়ে বড়দের ‘সিরিয়াসলি ক্লুলেস’ দলের সদস্য হিসেবে ব্রোঞ্জও পেয়েছে সে। মো. আশরাফুল আমিন ও আফসানা আশিকা দম্পতির একমাত্র কন্যা। এর মধ্যে বাবা মায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছে বিশ্বের ১৯টি দেশ।
যত অর্জন: নুবালা নিজেও ভাবেনি এই প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পাবে। কারণ কাজের সময় কত বাধা-বিপত্তিই না তার সামনে এসেছে। এই যেমন, এডিটিং সফটওয়্যারের মাথা বিগড়ে গেলো। অন্য একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করলেও সেটি কাজ করছিল না। নুবালার তখন মাথায় হাত। বুদ্ধি করে মোবাইলের অ্যাপ দিয়ে সমস্যার সমাধান করে। নিজের পদক পাওয়ার বিষয়ে নুবালার ভাষ্য, ‘প্রথমে আমি এটি বিশ্বাসই করতে পারিনি এবং মুহূর্তেই আমার মধ্যে গর্ব, উত্তেজনা ও কৃতজ্ঞতার ঢেউ বয়ে যায়। আমার খুব ভালো লেগেছিল তখন।’
প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া নুবালার জন্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালে চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আলোহায় দ্বিতীয় রানার-আপ ট্রফি জয় এবং গত বছরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড স্কলারস কাপ গ্লোবাল রাউন্ডে অংশগ্রহণ করে পাঁচটি স্বর্ণপদক জিতে সকলকে অবাক করে দেয় নুবালা। একই বছরের নভেম্বরে, নুবালা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড স্কলারস কাপ ‘টুর্নামেন্ট অব চ্যাম্পিয়নস’-এ অংশগ্রহণ করে তিনটি স্বর্ণ এবং একটি রৌপ্যপদক জিতেছে সে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে তুলে ধরছে সে।
গন্তব্য এমআইটি: ভবিষ্যতে এমআইটি-তে পড়তে চায় নুবালা। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রোবোটিক্স নিয়ে তার কাজ চলমান থাকবে বলে জানায়। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে সে। সেই স্বপ্ন পূরণে প্রতিনিয়ত নিজেকে তৈরি করে যাচ্ছে।
- বিষয় :
- সাফল্য অর্জন
