ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফিউচার পোর্ট ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫

চা বাগানের নারীর ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি উদ্ভাবন ও সচেতনতায় সাফল্য

চা বাগানের নারীর ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি উদ্ভাবন ও সচেতনতায় সাফল্য
×

লাল-সবুজের পতাকা হাতে দেশের তরুণ উদ্ভাবক দল ‘নির্ভয়া’র তিন সদস্য

রুবেল মিয়া নাহিদ

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের দল ‘নির্ভয়া’। চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে অনুষ্ঠিত ফিউচার পোর্ট ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিজয় অর্জন করেছে। ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি উদ্ভাবন ও সচেতনতা নিয়ে তাদের যুগান্তকারী সামাজিক-প্রযুক্তিগত প্রকল্পের জন্য ‘নির্ভয়া’ বিশ্বজুড়ে জমা পড়া রেকর্ডসংখ্যক প্রকল্পের মধ্যে শীর্ষ তিনটি ফাইনালিস্টের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এই সম্মাননা বৈশ্বিক উদ্ভাবনের কেন্দ্রে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করল।
ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী জেন-জেড প্রযুক্তি সম্মেলন হিসেবে পরিচিত ফিউচার পোর্ট ইউথ, প্রতি বছর এমন উদ্ভাবনী প্রকল্পকে পুরস্কৃত করে, যা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি অবদান রাখে। চলতি বছর রেকর্ডসংখ্যক ২২২টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রকল্প এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, যার মধ্যে ‘নির্ভয়া’ তাদের ব্যতিক্রমী কাজের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ বিচারকদের মতামতের ভিত্তিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
‘নির্ভয়া’ দলের এই উদ্ভাবনী প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশের নারীর ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্র করে। বিশেষ করে প্রান্তিক এবং চা বাগানের সুবিধাবঞ্চিত নারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব ও প্রচলিত কুসংস্কার দূর করতে ‘নির্ভয়া’ একটি কার্যকর উদ্ভাবনী সমাধান এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রকল্পটি কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষই নয়, বরং গভীর সামাজিক সংবেদনশীলতা এবং স্থানীয় সমস্যার টেকসই সমাধানের একটি আদর্শ মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রাগের নোভাস্পিরালা কনফারেন্স সেন্টারের মূল মঞ্চে দলের এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং প্রাইজ মানি দেওয়া হয়।
ফিউচার পোর্ট ইয়ুথ সম্মেলনটি চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল এবং শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হয়। এই প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, মহাকাশ গবেষক এবং ফুড ফিউচারিস্টরা। আমেরিকা এবং গ্রিসের বিজয়ী দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের ‘নির্ভয়া’র উপস্থিতি প্রমাণ করে, উদ্ভাবন এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম বিশ্বজুড়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে। 
নিজেদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে  নির্ভয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা তায়েব মৃধা বলেন, ‘এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের ধারা পরিচালিত একটি সংগঠন, আমরা শ্রীমঙ্গলের চা বাগানের নারীদের ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি বিগত এক বছর ধরে। ফিল্ড এওয়ারনেস, নির্ভয়া পিরিয়ড ট্র্যাকিং মোবাইল অ্যাপ এবং সামাজিক ব্যবসা–তিনের সমন্বয়ে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এক বছরে আমরা মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানের প্রায় ২ হাজার নারীর ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করেছি। আগামীতে এই কার্যক্রম সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।’
নির্ভয়ার এমন উদ্যোগ এবং সেই সঙ্গে তাদের এই অর্জন দেশের প্রযুক্তি খাত এবং সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস! 

আরও পড়ুন

×