ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কষ্ট ছাড়া সাফল্য আসে না

কষ্ট ছাড়া সাফল্য আসে না
×

ডেভিড গিলমোর ছবি : সংগ্রহ

ইয়াসিন মাসুম

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ডেভিড গিলমোর। বিশ্বখ্যাত প্রগ্রেসিভ রক ব্যান্ড ‘পিঙ্ক ফ্লয়েড’-এর গিটারিস্ট ও কো-লিড ভোকালিস্ট। রক মিউজিকের এই জীবন্ত কিংবদন্তির বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন ইয়াসিন মাসুম

পিঙ্ক ফ্লয়েড ঘিরে নিজের জার্নির ফসল হিসেবে অ্যালবাম করার তাড়না ছিল আমার। স্বভাবতই, সেটিকে ব্যান্ডটির ভক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চাপ ছিল। ভালো ব্যাপার হলো, অ্যালবাম সরবরাহ করার পরই রেকর্ড কোম্পানি টাকা দেবে–এমন চুক্তি ছিল বলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো চাপ কিংবা তাড়া ছিল না। অতীতে তাদের বড় ধরনের উপার্জনের সুযোগ করে দিয়েছি আমরা; ফলে নাক গলানোর কোনো সুযোগ কখনোই তাদের দিইনি। যখন অন্য কোনো ব্যান্ডের গান শুনতে গিয়ে টের পাই, ট্র্যাকের সঙ্গে গিটারিস্ট ঠিক তাল মিলাতে পারছেন না, বিশ্রী লাগে! অবাক হয়ে ভাবি, কী করে বাকিরা মেনে নিচ্ছে এটি! পিঙ্ক ফ্লয়েড মিউজিকে কখনোই কোনো সদস্যের ফাঁকিবাজি সহ্য করেনি। 

একটু পেছনে ফিরে...
১৯৬৮ সালে আমি যোগ দেওয়ার আগে, সিড ব্যারেট যখন পিঙ্ক ফ্লয়েড ছেড়ে দেন, তার আগে তিনিই ছিলেন ব্যান্ডটির অঘোষিত রাজা। তাঁর চলে যাওয়ায় ব্যান্ডের কেউই বলেনি, এবার বোধ হয় তল্পিতল্পা গোটানোর সময় হলো। ১৯৭৯ সালে যখন রিক চলে গেল, আমরা বলিনি–এটি আর চলতে দেওয়া যায় না। ফলে, ১৯৮৫ সালে চলে গেলে বুঝে গেছি, গত ১৭ বছর ধরে চালিয়ে নিতে পারলে এখন পারব না কেন? আমি যোগ দেওয়ার পর ব্যান্ডের সদস্যরা ততদিনে ধরে নিয়েছিলেন, ‘অ্যা সসারফুল অব সিক্রেটস’ অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাকটি দিয়ে তারা একটি নির্দিষ্ট অর্জনে পৌঁছতে সক্ষম হয়ে গেছেন। রজার ওয়াটার্সের সঙ্গে বসে, কাগজে সামান্য ডায়াগ্রাম এঁকে, ট্র্যাকটি ঠিক কীভাবে বা কোন অর্থে সৃষ্টি করেছিলাম–বলব না তার পুরোটাই উপলব্ধি করতে পেরেছি। তবে পরবর্তীকালে নিজের যতটুকু সাদৃশ্যবোধ রয়েছে, সেটিকে 
ব্যবহার করে চেষ্টা চালিয়ে গেছি, যেন এটিকে আরেকটু মূলধারার মতো 
করে তোলা যায়।  

ভাঙার পরে যেভাবে গড়ে তুললাম
বিরতির পর কিংবা বলতে পারেন ভাঙার পর, পিঙ্ক ফ্লয়েড যখন রিফর্ম করা হয়, ব্যান্ড লিডার হিসেবে আমি কখনোই ‘নির্বাচিত’ হইনি। আমি স্রেফ ছিলাম সেই মানুষটি, যে বলেছে–চলো, আবারও এক হওয়া যাক। সেটি ১৯৮৬ সালের কথা। নিজের লেখাগুলোকে একটি আকার দিতে পেরেছিলাম আমি। মনে হলো, এবার একটি অ্যালবাম করা যাবে। একটি পরিপূর্ণ কাজ হিসেবে করতে চাইলাম আমরা। পুরোনো দিনের স্মৃতিকাতরতাকে সঙ্গী করে জনসমক্ষে আবারও হাজির হওয়ার ইচ্ছে ছিল না আমাদের। ফলে ব্যান্ড পুনর্গঠন করতে টাকা ঢাললাম আমি আর নিক ম্যাসন। টাকা আমার কাছে যথেষ্টই ছিল; অন্যদিকে নিককে নিজের প্রিয় ফেরারি জিটিও গাড়িটি বিক্রি করে দিতে হলো। হ্যাঁ, টাকা ধারও করতে হলো আমাদের। তবে ঠিক করে নিলাম, উপার্জনের টাকা ভাগ করে নিয়ে শোধ দেব। এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আমরা। সে বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ক্রিসমাস পর্যন্ত  অ্যালবামটিকে একটা আকার দিতে খেটে গেলাম। এর পর ১৯৮৭ সালের শুরুর দিকে ছোট্ট একটি স্টুডিওতে যথাযথভাবে রেকর্ডিং শুরু করা গেল। এর পর পাড়ি জমালাম লস অ্যাঞ্জেলেসে; শহরটির দক্ষ ও বিশ্বস্ত সব ড্রামার ও অন্যান্য মিউজিশিয়ানের সাহায্য নিয়ে করতে থাকলাম একের পর এক লাইভ প্র্যাকটিস।  

কষ্ট ছাড়া সাফল্য আসে না
রিক রাইট ব্যান্ড ছেড়ে দিয়েছিল, কিংবা বলা চলে রজার তাকে বাদ দিয়েছিল ১৯৭৯ সালে। ফলে প্রজেক্টটি শুরু হলো তাকে ছাড়াই। কাজ চলাকালে ফেরার ইচ্ছে জানাল রিক; আমরা বুঝলাম, ব্যাপারটা ভালোই হবে। তবে তার ফেরাটি ছোটখাটো কিছু প্রশ্ন নিয়ে এলো আমাদের সামনে। ব্যান্ডে অতিরিক্ত কোনো সদস্য নেওয়ার ব্যাপারে আমার কিংবা নিকের কোনো ইচ্ছে ছিল না। কেননা, ব্যান্ডটি আমার দু’জনই টাকা ঢেলে, শ্রম দিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে দাঁড় করাচ্ছিলাম আবারও। ফলে ভাগ-বাটোয়ারার একটা আইনি জটিলতা ছিলই। এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া আমাদের খানিকটা স্বার্থপর মানসিকতার কারণেই, তাকে আয়ের তিন ভাগের এক ভাগ দিতে রাজি হইনি আমি ও নিক। কারণ, এ যে কষ্টের ধন! তবে এও জানি, ‌কষ্ট ছাড়া সাফল্য আসে না। 

আরও পড়ুন

×