ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সচেতনতা

অনলাইনে সম্পর্ক স্থাপন এগোবেন যা ভেবে

অনলাইনে সম্পর্ক স্থাপন এগোবেন যা ভেবে
×

অনলাইনের সময়টিকে রাখুন নির্ঞ্ঝাট ও আনন্দময়... ছবি : সাহস

শাকিলা ইশরাত

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিনে দিনে আমরা অনলাইন বা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছি। এই প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ইন্টারনেট মানব জাতির কাছে খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারই হোক কিংবা বন্ধুত্বের হাতছানি–ইন্টারনেট যে তরুণ প্রজন্মকে সাহায্য করছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে যেখানে ভালোর আনাগোনা, সেখানে মন্দের ছায়া থাকার আশঙ্কাও থাকে। ফলে এ ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু খারাপ দিক। যেহেতু তরুণরাই ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি আসক্ত থাকে, তাই তাদের ঝুঁকিটাও সবচেয়ে বেশি। কিছু ওয়েবসাইট আছে যেগুলো শুধু বন্ধুত্ব গড়ার জন্যই তৈরি হয়েছে এবং সেখানে ‘ফেক’ অ্যাকাউন্টের সংখ্যাই বেশি! কারণ, এসব সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই সহজ। ব্যবহারকারী যে কোনো তথ্য, ছবি, পোস্ট ইত্যাদি তাদের অ্যাকাউন্টে রাখতে পারে। এই সাইটগুলোর বেশির ভাগেরই তেমন কোনো তত্ত্বাবধানের নিয়ম নেই; শুধু অভিযোগ করার একটি অপশন আছে। যদি সাইটের অন্য কোনো ব্যবহারকারী কিংবা কোনো অভিভাবক বা শিক্ষক কোনো একটি প্রোফাইল নিয়ে অভিযোগ তোলেন, শুধু তখনই সাইটটির কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। তবে বেশির ভাগই থেকে যায় তত্ত্বাবধানের বাইরে।

ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য:  অনলাইনে নিজের সম্পর্কে ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দেওয়া খুবই সোজা এবং অনেকেই এই সুযোগটি নেয় বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। যে কেউ, যে কারও ছবি বা যে কোনো তথ্য দিয়ে দাবি করতে পারে–এটি সে নিজেই! হয়তো সে নিজে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, তবে নিজের প্রোফাইলে দিয়ে রেখেছে কোনো এক সুন্দরী কম বয়সী নারীর ছবি। অনেকে আবার কোনো সুন্দর ছেলের ছবি দিয়ে রাখে এবং তার জীবনবৃত্তান্তের এমন কিছু তথ্য দিয়ে রাখে, যা দেখে অনেক মেয়েই আকৃষ্ট হয়ে বন্ধুত্ব করে এবং সেই সুযোগটি নেয় সেই ‘ফেক’ প্রোফাইলের মালিক।

সমাধানের সহজ পাঠ: ভাবছেন, কীভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের এসব ঝুঁঁকি থেকে নিজেকে এড়ানো যাবে? ইন্টারনেট ব্যবহার করা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও কি ভাবছেন কেউ কেউ? না, তা করবেন না। এ ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য রয়েছে কিছু নতুন ও পুরোনো বুদ্ধি। তার কিছু হাজির করছি আপনাদের  জন্য, যেগুলো অনলাইনে সম্পর্ক স্থাপনের আগে মাথায় রাখলে আপনার জন্য মঙ্গল বৈ অমঙ্গল হবে না।
–আপনি যদি কাউকে বাস্তবজীবনে না চিনে থাকেন, তবে জেনে রাখুন, ইন্টারনেটে সেই মানুষটি আপনাকে তার সম্পর্কে ভুল তথ্য দিতেই পারে এবং সে ক্ষেত্রে আপনাকেও তার সঙ্গে বুঝেশুনে কথা বলতে হবে।
–ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নামের শেষাংশ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, কাজের জায়গা, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর–এ ধরনের তথ্যগুলো কখনোই কোনো অপরিচিত মানুষকে দেবেন না।
–নিজের অথবা অন্য কারও কোনো আকর্ষণীয় ছবি কখনও শেয়ার করবেন না।
–কোনো অনলাইন বন্ধুর সঙ্গে কখনোই একা একা দেখা করতে যাবেন না। বারবার দেখা করলেও সেটি যেন বারবারই কোনো পাবলিক প্লেসে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। 
–কোনো অনলাইন বন্ধুর সঙ্গে কখনও দূরে কোথাও ঘুরতে যাবেন না। যাওয়া যাবে না লং ড্রাইভেও!
–দেখা করতে যাওয়ার আগে অবশ্যই অভিভাবক কিংবা বড় কাউকে জানিয়ে যাবেন আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে যাচ্ছেন, এবং কখন ফিরবেন ইত্যাদি তথ্য। 

আরও পড়ুন

×