ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তৃণমূলে ঈদ আনন্দ

শিশুর সঙ্গে ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’

শিশুর সঙ্গে ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’
×

ঈদ উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত রংপুরের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা

রুবেল মিয়া নাহিদ

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

তরুণরা স্বপ্ন দেখেন দুনিয়া জয়ের এবং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু করার। ঈদকে সামনে রেখে তরুণরা নানা উদ্যোগ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তৃণমূলের আপনাদের সেই মানবিক উদ্যোগ থেকে তিনটি আলোজ্বলা উদ্যোগ নিয়ে এই আয়োজন গ্রন্থনা করেছেন রুবেল মিয়া নাহিদ

ঈদ মানেই আনন্দ, স্বপ্ন আর আপনজনের সান্নিধ্য ও ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ। তবে সমাজের সব শিশুর কাছে এই আনন্দ সমানভাবে ধরা দেয় না। বিশেষ করে এতিম শিশুর জীবনে ঈদের দিনটি অনেক সময় উৎসবের চেয়ে অভাববোধের স্মারক হয়ে ওঠে। অথচ সামান্য যত্ন, একটু স্নেহ আর আন্তরিক স্পর্শই বদলে দিতে পারে তাদের ঈদের রং। রংপুরের এক মাদ্রাসার এতিম শিশুদের মুখে এবার তেমনই এক অন্যরকম ঈদের হাসি ফুটিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’।
এই আয়োজনে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে টুপি, আতর ও ঈদ সালামি। উপহারের পরিমাণে নয়, বরং ভালোবাসার গভীরতায় বড় হয়ে উঠেছে এই উদ্যোগ। ছোট ছোট উপহার হাতে পাওয়ার পর শিশুদের মুখে যে নির্মল হাসি ফুটে ওঠে, সেটিই যেন পুরো আয়োজনের সার্থকতা। তাদের উচ্ছ্বাস, বিস্ময় আর আনন্দঘন মুহূর্ত উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়।
সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর চাওয়া আসলে খুব বেশি নয়। একটু আপন করে নেওয়া, একটু খেয়াল রাখা, আর উৎসবের দিনে নিজেকে একা না ভাবার নিশ্চয়তা। ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’-এর এই উদ্যোগ সেই মানবিক সত্যকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি টুপি, একফোঁটা আতরের ঘ্রাণ কিংবা হাতে তুলে দেওয়া সামান্য ঈদ সালামিও যে একটি শিশুর মনে অপার আনন্দ তৈরি করতে পারে, এই আয়োজন তারই প্রমাণ।

শুধু ঈদকে ঘিরেই নয়, পুরো রমজান মাসজুড়ে সংগঠনটি রংপুর নগরীর বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রতিদিন ইফতার আয়োজন করেছে। প্রতিদিনের এই ইফতার ছিল কেবল খাবার বিতরণ নয়; ছিল সমবেদনা, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বাস্তব অনুশীলন। একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে এতিম শিশুর পাশে থাকার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
এছাড়া জাকাতের অর্থের মাধ্যমে অসহায় বিভিন্ন পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগও নিয়েছে সংগঠনটি। অর্থ সহায়তার পাশাপাশি পরিবারগুলোর জীবনে টেকসই পরিবর্তন আনার চেষ্টা এই ভাবনাই উদ্যোগটিকে কেবল দাননির্ভর কর্মসূচি থেকে আলাদা করেছে। ফলে ঈদের আনন্দ সীমাবদ্ধ থাকেনি একটি দিনের উৎসবে; বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের জীবনঘন বাস্তবতায়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মো. মুহতাসিম আবশাদ জিসান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়া যায়। এতিম শিশুদের মুখের হাসি আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পুরো রমজান মাসে আমরা চেষ্টা করেছি বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ইফতারি পৌঁছে দিতে এবং জাকাতের অর্থের মাধ্যমে অসহায় পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিতে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সহায়তা দেওয়া নয়, বরং সমাজে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া।’
তাঁর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয় ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’-এর কার্যক্রম কেবল আনুষ্ঠানিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি মানবিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। যেখানে উৎসব মানে শুধু নিজের ঘরে আলো জ্বালানো নয়, অন্যের জীবনেও আনন্দের প্রদীপ জ্বালিয়ে দেওয়া।  

আরও পড়ুন

×