ক্যারিয়ার
ভালো একটি প্রশ্নই বদলে দিতে পারে আপনাকে
খোলস ছেড়ে বেরিয়ে প্রশ্ন করুন... ছবি : সাহস
রায়হান হোসেন
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পড়াশোনায় থাকতেই আমাদের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে হয়। এই ভাবনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি আমি। এই ইতিবাচকতা জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে খুবই গভীরভাবে যদি না আপনি প্রশ্ন করা শিখতে পারেন। এই প্রশ্ন হতে পারে নিজেকে কিংবা ভরা গ্যালারিতে মঞ্চের আলো কেড়ে নেওয়া লোকটিকে। আপনি নিভৃতে নিজেকে প্রশ্ন করা শিখতে পারলে প্রকাশ্যেও বোল্ডলি প্রশ্ন করতে দ্বিধা করবেন না। এই দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারলেই আপনি অনেক বড় একটা অবস্থানে দেখতে পাবেন নিজেকে। নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও আমি এর প্রমাণ পেয়েছি। নবীনদের ক্যারিয়ার গঠনে প্রশ্ন করতে পারা কিংবা একটা ভালো প্রশ্ন কেমন করে সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে, তা দেখে নিই, চলুন—
সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে এমবিএ পড়ার সময়ে আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, যথাসময়ে যথা প্রশ্ন করতে পারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাসে আমার সহপাঠীরা এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করত তারা। আমি অবাক হয়ে দেখতাম ক্লাসে তারা শিক্ষকদের এমন বুদ্ধিদীপ্ত এবং কৌশলগত প্রশ্ন করত, যা শুনে শিক্ষকরা চমকে যেতেন এবং একই সঙ্গে অনেক মজার মজার তথ্যসমৃদ্ধ উত্তর তুলে ধরতেন। মাঝেমধ্যে তাদের কিছু প্রশ্ন এতটাই চিন্তাশীল হতো যে অধ্যাপকরাও ঢোক গিলে সময় চেয়ে নিতেন। এসব প্রশ্ন আমাকেও অনুসন্ধিৎসু করে তুলত। মজার বিষয় হচ্ছে, এরপরও শিক্ষকরা আমাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করতেন। কেননা এসব ভালো প্রশ্ন আমাদের ফলাফলেও ভালো প্রভাব ফেলত। কেবল তাই নয়; এর ফলে ক্লাসে পড়াশোনার প্রতি একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়ে যেত।
ভালো এবং সুন্দর প্রশ্ন করার আরও একটি সূক্ষ্ম সুবিধাও ছিল। যেহেতু আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে ছিল, আমার বেশির ভাগ সহপাঠীই তাদের শিক্ষাজীবন ও পেশাগত জীবনে আগে থেকেই সফল ছিল। সফল ব্যক্তিদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তারা নিজেদের সমান বা তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমানদের সঙ্গে মেলামেশা করতে পছন্দ করে। তাই, মৌলিক ও চিন্তাশীল প্রশ্ন করার ক্ষমতা প্রায়ই এই মেধাবীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। একই সঙ্গে ভিন্নভাবে চিন্তা করার গুরুত্বও তুলে ধরত।
অন্তর্মুখী থেকে আত্মবিশ্বাসী
এই বিষয়টি তুলে ধরার পেছনে কেবল আমার একাডেমিক জীবনের বন্ধুদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করাই উদ্দেশ্য নয়; বরং এর মাধ্যমে আমার মতো অসংখ্য অন্তর্মুখীকে তার খোলস ভেঙে বেরিয়ে এসে নিজেকে নতুন করে দেখতে শেখায়। মানুষ হিসেবে আমরা স্বীকৃতি এবং পরিচিতি চাই। তাহলে, কীভাবে একজন তার খোলস থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করতে পারে? এর অন্যতম কার্যকর উপায় হলো জনসমক্ষে প্রশ্ন করা। বিশাল দর্শকের সামনে নিজের কণ্ঠস্বর শুনতে পাওয়া সাহস এবং আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়িয়ে তুলতে পারে আপনার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এই অভ্যাসটি সবচেয়ে অন্তর্মুখী ব্যক্তিদেরও রূপান্তর ঘটাতে পারে।
পেছনের প্রচেষ্টা
একটি ভালো প্রশ্ন আমাদের ভিড়ের মধ্যে থেকে আলাদা করার ক্ষমতা রাখে। এর জন্য প্রচেষ্টারও প্রয়োজন। কখনও কখনও বিষয়টি সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান থাকলে আমরা দৈবক্রমে অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ প্রশ্ন করতে পারি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই, বক্তাকে আগ্রহী করে তুলবে এবং শ্রোতাকে মুগ্ধ করবে এমন একটি প্রশ্ন প্রস্তুত করার জন্য আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে অধ্যয়ন করতে হয়। মনোযোগও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রশ্ন করার মানসিকতা আপনাকে নতুনভাবে চেনাবে প্রিয়জনদের কাছে। চেনাবে ক্লাসে কিংবা অফিসে। এর জন্য প্রয়োজন অনুশীলন এবং নিজেকে তুলে ধরার মানসিকতা। চলুন, এ পথটিকে আপন করে নিই!
লেখক: প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা, ঢাকা কোলো ডেটা সেন্টার
- বিষয় :
- পড়াশোনার মান
