সাফল্য
কমনওয়েলথের তালিকায় বাংলাদেশি ৪ তরুণ
শাহ রাফায়াত চৌধুরী, মুনিয়া ইসলাম মজুমদার, ইমরান হামিন ও মো. রেজওয়ানুল ইসলাম শুভ
আলাউদ্দিন আলাদিন
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৬:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বের ৫৬টি কমনওয়েলথভুক্ত দেশের হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করা ১০০ জন অসাধারণ তরুণ নেতার তালিকায় এবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলাদেশের নাম। গত ২১ এপ্রিল কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় কমনওয়েলথ ট্রাস্ট বা কিউইসিটি এই বিশেষ ‘কিউইসিটি ১০০ ইয়াং লিডার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ ঘোষণা করে। দিনটি ছিল যেন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ ২১ এপ্রিল ছিল ব্রিটেনের প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার আজীবনের বিশ্বাসকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছেন চারজন তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তা–শাহ রাফায়াত চৌধুরী, মুনিয়া ইসলাম মজুমদার, ইমরান হামিন এবং মো. রেজওয়ানুল ইসলাম শুভ। ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, হাজারও আবেদনকারীর মধ্য থেকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, পরিবেশ, খাদ্য ও কৃষি, স্বাস্থ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তারা এই সম্মাননা পান।
ফুটস্টেপস বাংলাদেশের রাফায়াত
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০১৩ সালে ‘ফুটস্টেপস বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেন শাহ রাফায়াত চৌধুরী। সামাজিক উদ্যোগ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজ করা এই সংগঠন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সাত লাখেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও দুর্যোগ সহনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাধ্যমে। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পরিবেশ অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে আসেন তিনি। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের কাছ থেকে জলবায়ু নেতৃত্বে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রাফায়াত ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া, ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড ও গ্লোবাল সিটিজেন ইয়ুথ লিডার্স অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।
টিচ ফর বাংলাদেশের মুনিয়া
দক্ষিণ ঢাকায় জন্ম নেওয়া মুনিয়া ইসলাম মজুমদার তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন মিরপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করে তিনি পরবর্তীকালে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের ৩ লাখেরও বেশি শিশুর শিক্ষায় নেতৃত্ব দেন। প্রথমে ডেনচার্চ এইড ও পরে সেভ দ্য চিলড্রেনের হয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটিতে ফুলব্রাইট হামফ্রে ফেলোশিপে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে এখন টিচ ফর বাংলাদেশের সিইও হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। যে সংগঠন ২০১২ সাল থেকে শিক্ষাবৈষম্য দূরীকরণে কাজ করছে।
ফার্ম সলিউশন বিডির ইমরান হামিন
‘ফার্ম সলিউশন বিডি’ গড়ে তুলেছেন ইমরান হামিন। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে কাজ করা একটি উদ্যোগ। বাংলাদেশের কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি কমনওয়েলথের অন্যতম প্রেসিংয়েস্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছেন। হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে তার উদ্ভাবনী কাজই তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
ইকো সেন্টিনেলস বাংলাদেশের রেজওয়ানুল
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের গবেষক মো. রেজওয়ানুল ইসলাম শুভ প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ইকো সেন্টিনেলস বাংলাদেশ।’ জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উদ্ভাবন ও সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে কাজ করা এই যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি বিশেষভাবে উপকূলীয় ও বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য ‘প্রজেক্ট হার্ভেস্টিং রেজিলিয়েন্স’ নামে ভাসমান কৃষি মডেল তৈরি করেছে। রিসাইকেলড প্লাস্টিক থেকে তৈরি ভাসমান কৃষি প্ল্যাটফর্মে হাইড্রোপনিক্স ও অ্যাকোয়াপনিক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে লবণাক্ত ও জলাবদ্ধ জমিতে ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।
রানীর স্বপ্ন থেকে বিশ্বমঞ্চে
কমনওয়েলথ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বয়ং রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশের তরুণ নেতাদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করা এবং সমাজ পরিবর্তনে সক্রিয় তরুণদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। আগে এটি ‘কুইন্স ইয়াং লিডার্স প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত ছিল। ২০২৬ সালের এই বিশেষ আয়োজনটি রানীর জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে শুরু হয়েছে। পুরস্কারের জন্য বিজয়ীদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হয়। যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে বিচার করা হয় সমাজ পরিবর্তনের সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রমাণিত অঙ্গীকার এবং বাস্তব প্রভাবের তথ্যপ্রমাণ। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, পরিবেশ, খাদ্য ও কৃষি, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করা তরুণদের মনোনীত করা হয়।
- বিষয় :
- সাফল্য অর্জন
