সচেতনতা
গল্পআড্ডায় বন্ধুদের হেয় করছেন?
আড্ডায় মনের অজান্তেই আমরা কাছের মানুষটিকে হেয় করি, এতে নষ্ট হয় সম্পর্ক... ছবি : সাহস
ফেরদৌস আলম
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৬:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বন্ধু কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে আড্ডা মেনে চলে না রুটিন! সামাজিক মাধ্যমের তাড়াও থামাতে পারে না এই আড্ডা। মাথায় রাখে না স্থান-কাল। যখন যেখানে বন্ধুর দেখা মিলে তার সঙ্গে ঠিক সেই জায়গাতেই বসে পড়ি আড্ডায়। মাঝে-মধ্যে আড্ডায় পরিচয় হয় নতুন কারও সঙ্গে। সেই মানুষটির মনের কথা, রুচিবোধ এবং ওজন না জেনেই আমরা তাকে ছোট করে দিই। এতে কষ্ট পায় নতুন করে আড্ডায় যোগ দেওয়া মানুষটি। মন খারাপ করে প্রিয় বন্ধুটিও।
চলুন, আজ জেনে নিই আড্ডার আদবকেতা–
হুটহাট আড্ডা: আড্ডায় আসলে হুটহাট করেই বসা হয়ে যায়। তাই বলে যেখানে সেখানে এবং পাবলিক প্লেসে না বসাটা বুদ্ধিমানের কাজ।
ভাবতে হবে পাশের মানুষটির কথা: আপনার আশপাশের মানুষের কথাও ভাবতে হবে আড্ডায় বসে। পাশে বসা মানুষটি যেন আপনার বা আপনাদের আচরণে কষ্ট না পান।
চলতি পথে: অনেকে চলতি পথে যানবাহনে আড্ডা জমান। ভালো। এমন আড্ডা জমেও বেশ। তাই বলে পাশের সিটে বসা অসুস্থ মানুষটির কথাও ভাবতে হবে আপনাকে। এমন আড্ডায় কখনও অশোভন আচরণ করবেন না। পেছনের সিটে বা আশপাশে আপনার বাবা কিংবা মায়ের বয়সীও কেউ থাকতে পারেন।
কথা কম বলুন; শুনুন বেশি: যে কোনো আড্ডায় বসেই শুরুতে কথা কম বলার চেষ্টা করুন। আগে সবার মনোভাব বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর মুখের ছিপি খুলুন। তবে চাইলে আড্ডার টপিকটা ঠিক করে দিতে পারেন।
সমাধানের খোঁজ: কোনো কিছুর সমাধানে যদি আপনি পৌঁছাতে না পারেন; সেই বিষয়টিকে আড্ডার টপিক বানিয়ে দিতে পারেন। এতে বন্ধুদের কাছ থেকে আসবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আপনিও নিতে পারবেন সঠিক সিদ্ধান্ত।
সমস্যা ও সম্ভাবনা: শুধু নিজেদের কথাই নয়; আড্ডায় তুলে আনতে পারেন দেশের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাও।
কাউকে ছোট করবেন না: কখনও কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে আড্ডায় বসবেন না। আপনি আজ কাউকে ছোট করলে আড্ডার এই সদস্যরাই আপনাকে একদিন ছোট করবে!
নতুনদের কথায় গুরুত্ব: আড্ডায় যুক্ত হওয়া সবচেয়ে নতুন সদস্যটির কথাকেও গুরুত্ব দিন। তিনি যেন বুঝতে না পারেন যে আপনি তাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে কথা বলছেন।
কাউকে আঘাত নয়: কখনও কারও বাবা-মা, ভাইবোনকে আঘাত করে কথা বলবেন না। তাদের কোনো সমস্যা থাকলেও তা এড়িয়ে যান। গুরুতর কোনো সমস্যা হলে খোলাখুলি বলুন। তবে অবশ্যই বন্ধুটিকে আড্ডা থেকে তুলে আলাদা করে বলুন।
সবাই মিলে খাবারের বিল: আড্ডায় সবাই মিলে বিল পরিশোধের চেষ্টা করুন। কাউকে মুখের ওপর কিপ্টুস বা ছোটলোক টাইপের কথা বলবেন না। এতে করে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। হারাতে পারেন প্রিয় একজন সঙ্গীকেও।
বড়দের সঙ্গে আড্ডা: মাঝে-মধ্যে বড়দের সঙ্গে আড্ডায় বসুন। বসতে পারেন ছোটদের সঙ্গেও। এতে আপনার ধ্যান-ধারণায় অনেক পরিবর্তন আসবে। জানতে পারবেন অনেক কিছুই। বাবা-মা, দাদা-দাদুও হতে পারে আপনার আড্ডার সঙ্গী। আপনার আজকের অবস্থানের জন্য তাদের অনেক অবদান।
এছাড়াও পরিস্থিতি বুঝে আড্ডার মোড় ঘোরাতে পারেন। আপনার যেই বন্ধুটি অন্যকে হেয় করে তাকে বোঝান। এটি যে আরেকজনের মন ছোট করে দেওয়া সেটিও বলুন তাকে।
- বিষয় :
- আড্ডা
