প্রেরণা
নিজেকে এগিয়ে নিতেই প্রযুক্তি ব্যবহার করুন
সুন্দর পিচাই ছবি : অনলাইন
ফেরদৌস আলম
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ০৬:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুন্দর পিচাই। গুগলের প্রধান নির্বাহী। সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন ফেরদৌস আলম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে সারাবিশ্বে উদ্বেগ বাড়ছে। মেটাসহ বড় বড় সংস্থার কর্মী ছাঁটাই নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে প্রযুক্তি দুনিয়ায়। প্রশ্ন উঠছে, এআই কি সত্যিই ভবিষ্যতের জন্য বিপদ ডেকে আনছে? এর উত্তরে আমি বলতে চাই, তরুণ প্রজন্ম সবসময় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে জানে। আমি সব সময় নতুন প্রজন্মকে নিয়ে খুব আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, তারা এই চ্যালেঞ্জ সামলাবে এবং আরও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলবে।
শঙ্কার বিষয়ও বটে!
এআই যেভাবে এগোচ্ছে; আগামী দিনে চাকরিক্ষেত্রে বড় বিপদ হতে পারে। পাশাপাশি এআইর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও তরুণদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ নিয়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি বরাবরই পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির আরও উন্নতি করবে। একই সঙ্গে এর খারাপ প্রভাবও মোকাবিলা করবে।
এআই নিয়ে মানুষের ভয় ও উদ্বেগ স্বাভাবিক। কারণ এই প্রযুক্তি খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানুষ এআইর এত দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে স্বাভাবিকভাবে এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এ জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
সমীক্ষা ও চাকরি হারানোর ভয়
চলতি বছর এআইর কারণে চাকরি হারানোর ভয় আরও বেড়েছে। অনেক বড় কোম্পানির কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে প্রধান কারণ হলো এআই। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের শুরুতে যারা স্নাতক হন, তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকায় মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ মনে করে, এআই ভালো। প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করে, এটি ক্ষতিকর।
আসলে এআই হলো এমন এক প্রযুক্তি, যাকে মানবজাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। তাই মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।
বড় প্রতিষ্ঠানের করণীয়
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, আগেও নতুন প্রযুক্তি আসার সময় মানুষের মনে ভয় ছিল। কিন্তু এআইর পরিবর্তনের গতি ও প্রভাব আগের যে কোনো কিছুর তুলনায় ব্যাপক। মানুষের মধ্যেও ধীরে ধীরে সেই ভয় কেটে গেছে। তবে এ নিয়ে বড় বড় কোম্পানিকে সতর্ক হতে হবে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব এখন আরও বেড়েছে মানুষকে বোঝানোর– এআই শুধু ভয়ের নয়; এতে অনেক ভালো সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি এই প্রযুক্তিকে আরও নিরাপদ এবং মানুষের উপযোগী করে তুলতে কাজ করতে হবে সংস্থাগুলোকে।
সকাল শুরু...
অনেকে এআইর সঙ্গে আমার জীবন টেনে এনেছেন। নিজের জীবনের কথা একটু বলি। আমি কিন্তু এখনও সেকেলে ভারতীয়! সকাল ৭টার মধ্যে আমি ঘুম থেকে উঠি। ঘুম থেকে উঠে সবার আগে খবরের কাগজে চোখ বুলাই। তারপর টোস্ট, অমলেট আর দুধ-চিনি দিয়ে কড়া এক কাপ চা খাই। মধ্যবিত্তের এই সাদামাটা জীবনযাত্রাতেই অভ্যস্ত। এমনিতেই আমি খাবারে মাছ-মাংস এড়িয়ে চলি। তবে পাতে ডিম থাকে। কারণ প্রোটিনের চাহিদার সঙ্গে আপস করি না। তা ছাড়া সকাল কেমন কাটছে, তার ওপর অনেকটা নির্ভর করে পুরো দিনের ছন্দ। যেহেতু খুব ভোরে আমার ঘুম ভাঙে না, তাই যাবতীয় শরীরচর্চা করি সন্ধ্যায়।
মনে পড়ে...
এআই ও প্রযুক্তি যখন আমাদের যান্ত্রিক করে তুলছে, তখনও আমি স্বাভাবিক জীবন পরিচালনা করি প্রযুক্তিকে পাশ কাটিয়ে! মনে পড়ে, আমার বাবা আমেরিকায় গিয়ে আমার স্ট্যানফোর্ডে পড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের এক বছরের বেতন ব্যয় করেছিলেন। এই বিমানযাত্রাই ছিল আমার জীবনের প্রথম বিমান সফরের অভিজ্ঞতা। আমি এটা কখনও ভুলতে পারব না।
জীবন এগিয়ে নিতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, তবে নিজেকে প্রযুক্তির মোড়কে ঢেকে নয়!
- বিষয় :
- প্রেরণার কথা
