উদ্যোগ
ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের স্বপ্নযাত্রা
সচেতন ও কর্মমুখী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে মানবিক পাঠশালা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন ছবি : সংগ্রহ
রুবেল মিয়া নাহিদ
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সময়ে তরুণদের কেবল শিক্ষিত নয়, দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত যুব সংগঠন–মানবিক পাঠশালা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি তরুণদের সম্ভাবনাকে সামাজিক উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। স্বেচ্ছাসেবা, নেতৃত্ব বিকাশ, সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি কার্যকর যুব প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে সংগঠনটি। প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবী নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সমাজ উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সংগঠনটির কার্যক্রম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়া, চট্টগ্রাম এবং তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছাসেবক উন্নয়ন এবং যুব সম্পৃক্ততার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে তরুণদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা।
সংগঠনটির অন্যতম ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘স্বপ্নবাজ তারুণ্যের উৎসব’। তরুণদের নেতৃত্ব, দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ উৎসব ইতোমধ্যে যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল– টেকসই অর্থনীতিতে তরুণদের কণ্ঠস্বর। এ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারের পর অনুষ্ঠিত হয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী টিমওয়ার্ক সেশন। এতে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, পরিবেশ, উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে দলভিত্তিক আলোচনা করেন। পরে তারা নিজেদের সুপারিশ ও সমাধান উপস্থাপন করেন। তরুণদের বিশ্লেষণী চিন্তা, নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে এই সেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ, শিক্ষা, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যেখানে তরুণ শিল্পীরা গান, নৃত্য ও সৃজনশীল পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাছিন রাজ্জাক আলভী বলেন, ‘দক্ষতা, মানবিকতা ও নেতৃত্ব– এই তিনটি বিষয়কে আমরা সমান গুরুত্ব দিই। একটি দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’
কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ইয়াছিন আরফাত বলেন, ‘তরুণদের নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি ছাড়া টেকসই সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, সমাজের জন্যও কাজ করবে।’
প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইরানুল ইসলাম বলেন, ‘মানবিক সমাজ গঠনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো তরুণদের মধ্যে বিনিয়োগ। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে তারুণ্যই পারে সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হতে।’
সংগঠনের উপদেষ্টা মু. ইয়াকুব উল্লাহ আহমেদ মিরাজ বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। যুবসমাজকে পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।’
দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই বিশাল জনশক্তিকে দক্ষতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে তোলা গেলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। সেই বাস্তবতায় মানবিক পাঠশালা ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলো শুধু সামাজিক উদ্যোগ নয়, বরং আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বপ্ন, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার সমন্বয়ে একটি সচেতন ও কর্মমুখী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে মানবিক পাঠশালা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন। তরুণদের শক্তিকে সমাজকল্যাণের কাজে যুক্ত করার এই প্রয়াস ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে– এমনটাই প্রত্যাশা!
- বিষয় :
- উদ্যোগ
