ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

প্রেরণা

মূল্যবোধই হোক আগামীর পথ চলা

মূল্যবোধই হোক আগামীর পথ চলা
×

জন টারনাস

জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিহা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জন টারনাস। অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করলেও ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিতে যাওয়া এই কিংবদন্তির বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিহা

২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দিই আমি। হিসাব করলে প্রায় ২৬ বছরের যাত্রা। অনেকে বলেন, ম্যাক কম্পিউটারকে নতুন করে জনপ্রিয় করার পেছনে আমার অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। আইপ্যাড ও এয়ারপডসের মতো অ্যাপলের জনপ্রিয় পণ্যগুলোর নকশা এবং তৈরির পেছনেও আমার অবদানের কথা বলেন।
আমি অবশ্য এর  কৃতিত্ত্ব দিতে চাই আমার টিম ও প্রতিষ্ঠানকেই!
আমি সবসময় প্রচারের আড়ালে থাকতে পছন্দ করি। আগামীতেও হয়তো তাই করবো!

অ্যাপল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 
অনেকে বলেন, ২০১১ সালে সিরির মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা সবার আগে সামনে আনলেও এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিতে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সাফল্য পায়নি অ্যাপল। বিপরীতে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির মতো নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীরা বর্তমানে কোটি কোটি গ্রাহককে লুফে নিয়েছে। এমনটা পুরোপুরি মেনে নেওয়ার মতো না হলেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও যায় না। আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অ্যাপলের জন্য উন্নতমানের এআই সেবা নিশ্চিত করা, যেখানে অন্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অ্যাপল নিজের সক্ষমতাকেই বেশি ব্যবহার করবে।

প্রথম কাজ ও পরামর্শ
অ্যাপলে আমার প্রথম প্রজেক্ট ছিল–সিনেমা ডিসপ্লে। সহজ করে বললে বলতে হয় এভাবে, একটা বড় ডেস্কটপ মনিটর। এর ওপরে স্ক্রু দিয়ে একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের আবরণ লাগানো ছিল। স্টেইনলেস স্টিলের স্ক্রুগুলোর মাথায় এমনভাবে ছিল যে, আলো পড়লে সেগুলো সিডির মতো ঝলমল করে উঠত। চাকরির প্রথম বছরে একবার এক সরবরাহকারীর কারখানায় গিয়েছিলাম। জায়গাটা আমার বাড়ি থেকে অনেক দূর। তখন প্রায় মধ্যরাত। আতশকাচ দিয়ে স্ক্রুর মাথার খাঁজগুলো গুনছিলাম। আমি সরবরাহকারীর সঙ্গে তর্ক করছিলাম, কারণ তারা ৩৫টি খাঁজ দিয়েছিল, যেখানে থাকার কথা ২৫টি। সেই মাঝরাতে মুহূর্তের জন্য আমার মাথায় এলো, আমি আসলে করছি কী! এটা কি স্বাভাবিক? একসময় বুঝলাম এটি হয়তো স্বাভাবিক নয়, কিন্তু এটিই সঠিক। কারণ, আমি এই পণ্যটির পেছনে কয়েক মাস সময় ব্যয় করেছি। যদি কোনো কিছুর পেছনে এত সময় আপনি দেন, তবে সেখানে আপনার সেরাটিই দেওয়া উচিত। হয়তো কোনো গ্রাহক এটি খেয়াল করবেন, হয়তো করবেন না। যখনই আমি কারও ডেস্কে ওই মনিটরগুলো দেখতাম, আমার মনে হতো যে আমি ও আমার দল এর প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে ভেবেছি। আমাদের সেরাটা দিয়েছি। কাজের পেছনে নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দেওয়া কঠিন। মনের ওপর চাপ পড়ে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। কিন্তু এটি সার্থক। কারণ, আমাদের সময় সীমিত। আপনারা হয়তো জীবনে শত শত প্রজেক্ট করবেন। কেউ হয়তো মাত্র একটি বা দুটি বড় প্রজেক্ট করবেন। যখন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় আসবে, তখন ফেলে আসা এই দিনগুলোর দিকে তাকিয়েই আপনি গর্বিত হবেন।

নিজেকে পণ্ডিত ভাবতে পারবেন না, তবে নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবতে পারেন। আবার কখনও এটা মনে আনবেন না যে আপনি অন্য সবার চেয়ে বেশি জানেন। এই মানসিকতা আপনাকে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস দেবে, আবার প্রশ্ন করার ও শেখার নম্রতা দেবে। তবে ওই যে, পণ্ডিত ভাবার মানসিকতা আপনাকে অনেক পেছনে ফেলে দেবে!
আপনার মূল্যবোধই হোক 

আগামীর পথচলা
অ্যাপলে আমরা আমাদের মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, পরিবেশ রক্ষা। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা আমাদের পুরো সাপ্লাই চেইনকে ‘কার্বন নিউট্রাল’ করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। যদিও এটি অনেক চ্যালিঞ্জিং! তরুণদের বলি, ক্যারিয়ারে যা-ই করুন না কেন, এমন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। এমন প্রকৌশলী হন যেন দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার পথ খুলে যায়। এমন প্রযুক্তি তৈরি করুন, যা বিশ্বের প্রতিটি কোনায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে যায়। এমন এআই মডেল বানান, যা আমাদের সবাইকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। তরুণদের বলি, আপনারা খুব সহজেই আপনাদের চারপাশের পৃথিবীকে বদলে দিতে পারেন। মানুষের হাতে এমন সব সমাধান পৌঁছে দিতে পারেন, যা আগে কখনও ছিল না। আপনারাই ভবিষ্যৎ গড়বেন। এটি যেমন একটি বড় সুযোগ, তেমনি বিশাল দায়িত্বও। সেই দায়িত্ব নিয়েই আপনারা এগিয়ে যাবেন আগামীর পথে! 

আরও পড়ুন

×