ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেরণা

ঘুরে দাঁড়ানোর পর নিজেকেও ধন্যবাদ দিন

ঘুরে দাঁড়ানোর পর নিজেকেও ধন্যবাদ দিন
×

রদ্রিগো হার্নান্দেস কাসকানতে ছবি : সংগ্রহ

আরমান খান

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

রদ্রি। পুরো নাম রদ্রিগো হার্নান্দেস কাসকানতে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ী দল স্পেনের অধিনায়ক ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। তরুণ এই কিংবদন্তির ফক্স স্পোর্টসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন আরমান খান

আ  মার পরিবারে পড়াশোনার গুরুত্ব অনেক। বাবার ইচ্ছে ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে অন্তত এক বছরের জন্য হলেও আমাকে পড়াবেন। আমার ফুটবলপ্রীতি তা হতে দেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয়েছিল ঠিকই। সেটি অবশ্যই ভুল সময়ে! আমার বয়স তখন ১৪ বছর।  মাদ্রিদ থেকে গিয়েছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে। সেখানে গহিন বনে গ্রীষ্মকালীন এক ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলাম। তখন ২০১০ বিশ্বকাপ খেলতে স্পেন দল গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। 

ক্যাম্প থেকে দেখা গোল
কানেকটিকাটে ক্যাম্পের এক কাউন্সেলরকে অনুরোধ করে তাঁর কম্পিউটারে আমি দেখেছিলাম আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই বিশ্বকাপজয়ী গোল। যদিও তার আগে স্পেনের কোনো ম্যাচ দেখতে পারিনি। তবে ফাইনালে ইনিয়েস্তার গোলটি আমার জীবনে এনে দিয়েছিল অন্যরকম এক অনুপ্রেরণা। 

আত্মবিশ্বাস ও বিনয়
২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমরা ছিলাম আত্মবিশ্বাসী। সবসময় বিনয়ী থেকে ম্যাচ ধরে এগিয়ে  গিয়েছি। ২০০৮ বা ২০১০ সালের সোনালি প্রজন্মের মতো বর্তমান দলটি নিজেদের একটি স্থায়ী ও বিজয়ী ঐতিহ্য তৈরি করতে পেরেছে বলে আমি মনে করি। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে গহিন বনের ক্যাম্পে ১৬ বছর আগে যে ছেলেটি বিশ্বকাপে স্পেনের খেলা দেখতে না পারার দুঃখ-ভারাক্রান্ত ছিল–ভাগ্যের কী লীলা, সে দেশেই বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সঙ্গে আমি! এই ক্ষেত্রে অবশ্যই কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্ব ও শান্ত স্বভাব প্রশংসার দাবিদার। 

ইনজুরি এবং ঘুরে দাঁড়ানো
মনে পড়ে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গুরুতর হাঁটুর ইনজুরি এবং এর পরবর্তী কঠিন সময়ের কথা। পেপ গার্দিওয়ালা তখন আমাকে সাহস দিয়ে মিডিয়ায় বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপেই দেখা যাবে সেরা রদ্রিকে, আর পরের মৌসুমে পাওয়া যাবে তার সবচেয়ে সেরা রূপ।’ আসলে আমি যখন পুনর্বাসনের কঠিন সময় পার করছিলাম তখন পেপ গার্দিওয়ালার এই মন্তব্য ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়ে অন্ধ বিশ্বাসের মতোই মনে হয়েছিল অনেকের কাছে। আমার বিশ্বাস ছিল নিজের ওপর। গার্দিওলা ফুটবলবিশ্বকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভরসা রাখতে পেরেছিলেন খুব কম মানুষই। আমি সেই সংশয়ের জবাব মুখের কথায় দিইনি কখনও। মাঠেই দিতে চেয়েছিলাম। তরুণদের বলবো, জীবন বা ক্যারিয়ারে কেউ যখন একেবারে তলানিতে পৌঁছে যায়, সেখান থেকেও কঠোর পরিশ্রম ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আবার শীর্ষে ফিরে আসা সম্ভব। নিজের কঠিন সময়ে যারা পাশে থাকেন তাদের এবং অবশ্যই নিজের মনের জোরকে ধন্যবাদ দেবেন ঘুরে দাঁড়ানোর পর।

বিশ্বকাপ জয় ও মেঘে ভেসে থাকা অনুভূতি
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া মোটেই স্বাভাবিক কিছু না। এটি ইতিহাসের অন্যতম কঠিন একটি ম্যাচ ছিল এবং আমরা ফাইনালে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির সামনে। তাদের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় এসেছে কেবলই স্পেনের সাহসী মানসিকতার জন্য। এই জয় অবিশ্বাস্য ও মেঘের ওপর ভেসে থাকার অনুভূতির মতোই! 

জীবনের দর্শন
ম্যাচের আগে আমি সতীর্থদের বলেছিলাম, আমাদের জয়ের লক্ষ্যেই খেলতে হবে।  তাদের মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। তাদের চোখের দিকে তাকাতে হবে। আমরা এই ম্যাচটি জিততে চাই। এরপর জীবন আপনাকে বিশ্বকাপ দিক বা না দিক–তা বড় কথা নয়; তবে আমরা সাহসী ছিলাম এবং কঠিন সময়ে আমিও সাহসী ছিলাম। তাই যারা আমাকে সাহায্য করেছেন, তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। সত্যি বলতে, সেই কঠিন মুহূর্তগুলোতে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য আমি নিজেকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আবারও বলতে চাই, নতুন প্রজন্ম আমার উদাহরণটিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখুক। যখন আপনি পড়ে যান, তখন আবার উঠে দাঁড়াতে পারেন। এটিই আমার সারা জীবনের দর্শন! 

আরও পড়ুন

×