উদ্যোগ
বিনামূল্যে বই পড়ানো তরুণ
ইসতাক আহমেদ তারেকের গড়া পাঠগৃহ ফাউন্ডেশনে চলছে তরুণদের বই নিয়ে আড্ডা। নিচের ছবি লাইব্রেরিতে সাজিয়ে রাখা বইয়ের ছবি: সংগ্রহ
মোঃ হারুন মিয়া
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইসতাক আহমেদ তারেকের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। চীন থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে স্নাতক সম্পন্ন করা এ তরুণ ২০১৮ সালে পাঠগৃহ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন ময়মনসিংহ শহরেই। পরবর্তী সময়ে এই সংগঠনের মাধ্যমে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, মানুষকে বইমুখী করতে পাঠচক্র এবং বিনামূল্যে বই পড়তে উৎসাহিত করা, মাদকবিরোধী আন্দোলন, অসহায় এবং দরিদ্র শ্রেণির মানুষদের খাদ্য সহায়তা দিয়ে আলোচনায় আসে পাঠগৃহ ফাউন্ডেশন।
পাঠগৃহ ক্যাফের যাত্রা
২০২৪ সালে ময়মনসিংহের গাঙিনারপাড় এলাকায় তরুণ এই উদ্যোক্তা পাঠগৃহ ক্যাফে নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এটিই ময়মনসিংহের প্রথম রিডিং ক্যাফে। এখানে নানা শ্রেণির মানুষ নিয়মিত কফিতে চুমুক দিতে আর বই পড়তে ভিড় করেন। আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অবসর সময় কাটাতে এবং বই পড়তে আসেন এখানে। কেউ কেউ রেজিস্টারে লিখে বই বাসায় নিয়ে পড়ে আবার ফেরত দিয়ে যান।
আইটি ও ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
২০২৫ সালে পাঠগৃহ ফাউন্ডেশন এবং পাঠগৃহ ক্যাফের পাশাপাশি পাঠগৃহ একাডেমি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন এই তরুণ। বর্তমানে পাঠগৃহ একাডেমির মাধ্যমে চায়নিজ ভাষা শিক্ষা ও আইটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনেক তরুণ-তরুণী এখানে আইটি শিক্ষা ও চায়নিজ ভাষা শিখছেন।
ভিন্ন চোখে দেখা উদ্যোগ
কাজ শুরুর পর পরিবার ও সমাজে কেমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন– জানতে চাইলে ইসতাক আহমেদ তারেক বলেন, ‘যে কোনো নতুন ও অপ্রচলিত উদ্যোগ শুরু করার পথ কখনোই মসৃণ হয় না। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। প্রথমত, পরিবার সবসময় সন্তানদের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকে; তাই প্রথাগত চাকরির বাইরে গিয়ে সমাজসেবা বা পাঠগৃহ ক্যাফের মতো ভিন্নধারার কাজে নামার পর শুরুতে পরিবার থেকে কিছুটা দ্বিধা ও শঙ্কায় ছিলাম। আমাদের সমাজে তরুণদের উদ্যোগকে শুরুতে অনেকেই হালকাভাবে দেখেন। শহরের ভেতরে কিংবা পার্ক ও নদীর পাড়ে আড্ডার বিকল্প হিসেবে তরুণদের বইমুখী করা, উন্মুক্ত পাঠ আয়োজনের মতো কাজ শুরুতে অনেকের কাছেই অদ্ভুত মনে হয়েছিল। তারা ভেবেছিলেন, এগুলো ক্ষণিকের আবেগ। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাব এবং মানুষের মনমানসিকতার পরিবর্তন আনার এই চ্যালেঞ্জকে আমি বাধা না ভেবে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছি। কাজের ধারাবাহিকতা ও সততা দেখে একসময় পরিবারও পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সমাজও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে স্বাগত জানিয়েছে।’
অর্জন
সামাজিক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত সম্মানজনক যুব ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী ইসতাক আহমেদ তারেক। পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননা আমার জীবনের অন্যতম পরম আনন্দ ও গৌরবের মুহূর্ত। তবে আমি মনে করি, এই পুরস্কার কেবল আমার একার নয়। এটি ময়মনসিংহের সর্বস্তরের বইপ্রেমী মানুষের।’
ইসতাক আহমেদ তারেকের এই অর্জনে নিশ্চয় তরুণ স্বেচ্ছেসবকরা উদ্বুদ্ধ হবে। সেই সঙ্গে সামাজিক কাজে এগিয়ে এসে দেশ গড়ায় সহযোগিতা করবে!
- বিষয় :
- উদ্যোগ