বাংলাদেশের ঐতিহ্য সুরক্ষায় ইউনেস্কোর উদ্যোগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২০:৫১
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পখাতের সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা জোরদারে ইউনেস্কোর উদ্যোগে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা উদ্বোধন উপলক্ষে একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। বুধবার গুলশানের জাতিসংঘ কার্যালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি, সংকট এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সংস্কৃতি খাতে প্রস্তুতি, পুনরুদ্ধার এবং সহনশীলতা জোরদারে ইউনেস্কোর কার্যক্রমও উপস্থাপন করা হয়। এই উদ্যোগটি ইউনেস্কোর হেরিটেজ এমার্জেন্সি ফান্ড (এইচইএফ) এর সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং অফিস প্রধান সুসান ভাইজ উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, সামাজিক সংহতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল জনগোষ্ঠী তাদের আত্মপরিচয় এবং সহনশীলতার কেন্দ্রবিন্দু। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউনেস্কো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসমূহ সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।
প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ইতালির দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফেদেরিকো জামপ্যারেল্লি। তিনি বলেন, শিল্পী এবং কারুশিল্পীরা আর্থিকভাবে টিকে থাকতে না পারায় অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা ও হস্তশিল্প ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার মানে কেবল ঐতিহ্য সংরক্ষণ নয়, বরং ঐতিহ্য বহনকারী মানুষদের যত্ন নেয়া এবং তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
এ সময় ইউনেস্কোর হেরিটেজ এমার্জেন্সি ফান্ড (এইচইএফ) প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা, ঐতিহ্যবাহী চর্চা এবং সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল শিল্পখাত কীভাবে আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, সে বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট এবং প্রমাণভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রকল্পটির আওতায় ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল চর্চার নথিভুক্তকরণ, জরুরি পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।
ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের সংস্কৃতি প্রধান কিযী তাহনিন বলেন, জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন এবং অংশীজনদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদে ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পখাত সুরক্ষায় প্রস্তুতি এবং সমন্বয় জোরদারের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। তিনি সাংস্কৃতিক পরিসর এবং সৃজনশীল প্রকাশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতা কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। এগুলো মানুষের জীবন, জীবিকা এবং আত্মপরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সংকটের পর সামনে এগিয়ে যেতে এসব সুরক্ষা নিশ্চিত করা যে কোনো সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রদর্শনীতে সম্প্রতি ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আলোকচিত্র এবং ভিডিও গল্পের মাধ্যমে পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীল শিল্পখাতসহ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঐতিহ্যসমূহ তুলে ধরা হয়।
