ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সংস্কৃতি

সুফিয়া কামাল রূপান্তরমূলক নারীবাদের পথপ্রদর্শক

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতা

সুফিয়া কামাল রূপান্তরমূলক নারীবাদের পথপ্রদর্শক
×

নারী জাগরণের অগ্রদূত কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে - সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুফিয়া কামালকে শুধু কবি বা নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে দেখলে তাঁর প্রকৃত অবদান উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রূপান্তরমূলক নারীবাদের অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাঁর সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল নারীকে করুণার পাত্র নয়, বরং মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ ও পূর্ণ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতায়’ এসব কথা বলেন আলোচকরা। গতকাল শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা পরিষদ। কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতার পাশাপাশি আয়োজিত হয় ‘সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান’ এবং এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম এবং সাংস্কৃতিক পর্ব সঞ্চালনা করেন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম।

অনুষ্ঠানে ‘নারীর প্রতি বিরাজমান ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা নিরসনে সুফিয়া কামালের আলোয় পথচলা’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, সুফিয়া কামালের নারীবাদ ছিল জীবনঘনিষ্ঠ ও বাস্তবমুখী। শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিবার ও জনপরিসরে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু। ‘বেগম’ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি নারীদের মতপ্রকাশ, লেখালেখি ও আত্মপ্রকাশের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিলেন। তাঁর চিন্তায় ক্ষমতায়ন মানে ছিল নারীর নিজস্ব কণ্ঠ, চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। বর্তমান সমাজে নারীবিদ্বেষ, সহিংসতা, ভিকটিম ব্লেমিং ও বৈষম্যের বাস্তবতা প্রমাণ করে, সুফিয়া কামালের ভাবনা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। 

সম্মাননা গ্রহণ করে হাশেম খান বলেন, সুফিয়া কামালের জনপ্রিয়তা ও মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসার পেছনে ছিল তাঁর অসাধারণ মানবিকতা। তাঁর স্নেহ, সাহস ও প্রেরণা অন্যায়, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষকে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। নারী অধিকার, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে সেই শক্তি আজও পথ দেখাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে সুফিয়া কামালকে পৌঁছে দিতে হলে তাঁর জীবন ও চিন্তাকে আরও গভীরভাবে গবেষণা ও পুনঃপাঠের মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে। 

আরও পড়ুন

×