ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

রবির কর ছুঁয়ে গেল ছায়ানটের সন্ধ্যা

রবির কর ছুঁয়ে গেল ছায়ানটের সন্ধ্যা
×

রাজধানীর ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে গতকাল শনিবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, গান, তাঁকে নিবেদিত কবিতা এবং কথামালার সমন্বয়ে নির্মিত আলেখ্যানুষ্ঠানে শিল্পীরা সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, গান, তাঁকে নিবেদিত কবিতা এবং কথামালার সমন্বয়ে নির্মিত আলেখ্যানুষ্ঠান ‘এসেছে রবির কর’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। যূথবদ্ধ আবৃত্তি প্রয়াস ‘মঞ্জুভাষ’-এর প্রথম আয়োজন হিসেবে নিবেদিত অনুষ্ঠানটি ছিল রবীন্দ্রনাথের বহুমাত্রিক জীবনদর্শন, সাহিত্যভাবনা ও মানবিক চেতনার প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।

অনুষ্ঠানের ভাবনায় উঠে আসে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবিই নন; তিনি ছিলেন একজন কর্মযোগী, দার্শনিক, শিক্ষাচিন্তক এবং মানবতাবাদী। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন আজও বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ, মানবিক সংকট, নারী স্বাধীনতা, প্রকৃতিপ্রেম এবং আধুনিক শিক্ষাভাবনার আলোচনায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাঙালির চিন্তা-চেতনা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর সৃষ্টিকর্ম এমনভাবে জড়িয়ে আছে, প্রতিদিনের জীবনবোধেও তিনি অনিবার্য উপস্থিতি হয়ে থাকেন।

এই উপলব্ধি থেকেই মঞ্জুভাষের প্রথম নিবেদন সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে। অনুষ্ঠানে কবিগুরুর রচনা, তাঁকে নিয়ে লেখা কবিতা, সংগীত এবং কথামালার সমন্বয়ে নির্মিত হয় এক আবেগঘন শিল্প-আখ্যান।
অনুষ্ঠানের কথামালা উপস্থাপন করেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী শাহীন খান ও আফসানা মিমি। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বেলায়েত হোসেন, ইকবাল খোরশেদ, আহসান দিপু, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী, সোহেল আনোয়ার, সৈয়দ ফয়সল আহমেদ, শিরিন ইসলাম, শিখা সেনগুপ্তা, মাহফুজা আক্তার মিরা, কাজী রাজেশ, ডলি দাস, অমিয়া অমানিতা এবং জয় হাসান। সংগীত পরিবেশন করেন তানজীনা তমা ও মোস্তাফিজুর রহমান তুর্য।
অনুষ্ঠান গ্রন্থনা করেছেন ইকবাল খোরশেদ। আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন অম্লান বিশ্বাস।

মঞ্চে ওঠার আগেই নাটকের সঙ্গে সংলাপ
একটি নাটকের জন্ম কি মঞ্চে, নাকি তারও আগে– লেখকের নিভৃত কক্ষে, কাগজের পাতায়? সেই প্রশ্নেরই এক অভিনব সাংস্কৃতিক উত্তর খুঁজতে যাত্রা শুরু করল নতুন সংগঠন পাণ্ডুলিপি পাঠমঞ্চ। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত প্রথম অনুষ্ঠানেই নাট্যজন মামুনুর রশীদের নতুন নাটকের পাণ্ডুলিপি পাঠ যেন জানিয়ে দিল, নাটক কেবল মঞ্চে অভিনীত হওয়ার বিষয় নয়; তার আগে প্রয়োজন গভীর পাঠ, প্রশ্ন, বিতর্ক ও ভাবনারও।
পাণ্ডুলিপি পাঠের সূচনায় মামুনুর রশীদ অকপটে স্বীকার করেন, নিজের লেখা অন্যের সামনে পড়ে শোনানো সব সময়ই এক ধরনের অস্বস্তির অভিজ্ঞতা। যেন নিজের সৃষ্টিকে বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। তবে এই অস্বস্তিই নাটকের পরিণতির জন্য অপরিহার্য।
মামুনুর রশীদের বক্তব্যের পর রবীন্দ্রসংগীত ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ হয় উৎসবের আবহ। পরে সংগঠনের সদস্য সচিব এইচ এম মোতালেব স্বাগত 
বক্তব্য দেন এবং আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম পাণ্ডুলিপি পাঠমঞ্চের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা 
তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন

×