ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

স্মৃতির আলোয় মুস্তাফা মনোয়ার

স্মৃতির আলোয় মুস্তাফা মনোয়ার
×

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গতকাল শুক্রবার শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় খ্যাতনামা ব্যক্তি তাঁর অবদান তুলে ধরেন সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৮ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

মোমবাতির নরম আলো, ফুলের পাপড়িতে ছাওয়া প্রতিকৃতি, চারপাশে তাঁর সৃষ্ট অসংখ্য পুতুল চরিত্র। যেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার নিজেই নীরবে উপস্থিত প্রিয় মানুষদের মাঝে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

মিলনায়তনে প্রদর্শিত হয় তাঁর আঁকা চিত্রকর্ম ও জীবনপথের নানা আলোকচিত্র। দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে তাঁর সৃষ্ট জনপ্রিয় পাপেট চরিত্রগুলোর প্রদর্শনী– মন্ত্রী, গিট্টু, রাজা, বাঘা, মেনি, কুশ্রী ছানা, বাউল, শিক্ষক, ষাঁড়, বকর, পণ্ডিত, ড্রাগন ও বাউলের মিনিয়েচার। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মতো মানুষের প্রকৃত অর্থে মৃত্যু হয় না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর শিক্ষক না হলেও জীবনের নানা সময়ে তাঁর কাছ থেকে শিখেছেন। তিনি বলেন, ‘জীবনের জন্য শিল্প’ এবং ‘লড়াইয়ের জন্য শিল্প’ এই দর্শনই মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পচিন্তার মূল ভিত্তি ছিল। মুক্তিযুদ্ধে শিল্পীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

৬১ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে স্মরণ করে মেরি মনোয়ার বলেন, দেশের মানুষের ভালোবাসা তাঁকে সবসময় বিস্মিত করেছে। বাইরে কোথাও গেলে মানুষ ঘিরে ধরত, ছবি তুলতে চাইত, কথা বলতে চাইত। মৃত্যুর পরও এত মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান দেখে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

টেলিভিশন ডিরেক্টরস গিল্ডের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মুস্তাফা মনোয়ারই ছিলেন গিল্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতা বাংলাদেশের টেলিভিশন নির্মাণে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
মেরি মনোয়ারের বক্তব্যের আগে রবীন্দ্রসংগীত ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু’-এর সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যাঞ্চলের শিল্পীরা। পরে নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার আকাশের মতো। যাঁকে স্পর্শ করা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে শ্রদ্ধা জানান শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা। নিমা রহমান আবৃত্তি করেন ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’। অভিনেতা আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ করেন চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী, অভিনেতা আব্দুল আজিজ, কেরামত মওলা, মনিরুজ্জামান, তারিক আনাম খান ও হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক।
শিল্পীর টেলিভিশন নির্মাতা হিসেবে অসামান্য অবদানও স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানে। 

আরও পড়ুন

×