ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১৬ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ১১তম ‘ছবি মেলা’

১৬ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ১১তম ‘ছবি মেলা’
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৯:০১

রাজধানীর পাঁচটি ভেন্যুতে আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবি মেলা’র ১১তম সংস্করণ। এই উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবারের আসরে পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশের ৫৮ জন আলোকশিল্পীর কাজ প্রদর্শিত হবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, উৎসব পরিচালক এএসএম রেজাউর রহমান, কিউরেটর মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক এবং পাঠশালার শিক্ষা পরিচালক খন্দকার তানভীর মুরাদ।

সংবাদ সম্মেলনে ড. শহিদুল আলম বলেন, ২০০০ সালে যাত্রার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ছবি মেলা আজ বৈশ্বিকভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। আলোকচিত্রের মাধ্যমে এটি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে এবং সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে। এবারের উৎসবের মাধ্যমে আলোকচিত্রীরা সমসাময়িক বিশ্ব ও নিজেদের কাজের একটি নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করবেন।

উৎসব পরিচালক এএসএম রেজাউর রহমান জানান, বর্তমান বিশ্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানুষের মধ্যে যে নতুন চিন্তা ও অভিজ্ঞতার প্রতীক্ষা রয়েছে, তাকে ধারণ করতেই এবারের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পুনঃ’।

উৎসবের নয়টি প্রধান প্রদর্শনী একযোগে রাজধানীর পাঁচটি স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুগুলো হলো- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (সাউথ প্লাজা)।

কিউরেটর মুনেম ওয়াসিফ জানান, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও মানবিক টানাপড়েন নিয়ে থাকছে ‘বাট এ উন্ড দ্যাট ফাইটস’, সীমান্ত বিষয়ক ‘রাইটস অফ প্যাসেজ’ এবং ফিলিস্তিনি জনজীবনের গল্প নিয়ে ‘(আন)লার্নিং প্যালেস্টাইন’। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমিতে অ্যাডাম ব্রুমবার্গ, আর্নেস্ট কোল ও সৈয়দ মুহাম্মদ জাকিরের কাজ নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী সাজানো হয়েছে।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রদর্শনী ‘উইমেন ইন দ্য জুলাই আপরাইজিং’। একক প্রদর্শনীতে থাকছেন আলেসান্দ্রা সাঙ্গুঁইনেতি, বানি আবিদি এবং আলোকচিত্রী আমানুল হকের কাজ।
আলোকচিত্রের প্রসারে পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালনায় উৎসবে থাকছে ৬টি কর্মশালা, ১৬টি পাবলিক টক এবং ৪টি গাইডেড ট্যুর। এছাড়া ৭০ জন শিল্পীর পোর্টফোলিও রিভিউ এবং ১৫টি স্কুলের প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ শিখন কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অলাভজনক এই উদ্যোগের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ ১৬টি প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ব্রিটিশ কাউন্সিল, গ্যোটে ইনস্টিটিউট, সিটি ব্যাংক, এপেক্স ও বার্জার পেইন্টস উল্লেখযোগ্য।

উৎসবটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×