ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ইনডাকশন চুলায় রান্না

ইনডাকশন চুলায় রান্না
×

.

আজহার মাহমুদ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৬

এখন সময় বদলে গেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া এসেছে সবখানেই। রান্না ঘরের চুলায়ও সেই আধুনিকতার বহিঃপ্রকাশ মিলছে। আধুনিক যুগের একটি জনপ্রিয় রান্নার মাধ্যম ইনডাকশন চুলা। গ্যাস বা কয়লার মতো এখানে খোলা আগুন ব্যবহার হয় না, বরং বিদ্যুতের সাহায্যে কুকওয়্যারের তলায় সরাসরি তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে রান্না হয় দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। গ্যাসের চুলা থেকে ইনডাকশন কুকারে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে একবার সঠিক নিয়ম জানলে রান্না হবে দ্রুত, নিরাপদ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। 
চুলা চালু করা
ইনডাকশন চুলা চালু করতে প্রথমে মূল বোতাম চাপতে হবে। এর পর নির্দিষ্ট সময়ে রান্নার ধরন অনুযায়ী একটি মুড নির্বাচন করতে হয়। যেমন ভাত, দুধ, স্যুপ বা পানি ফোটানোর জন্য আলাদা মুড রয়েছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো অপশন বেছে নেওয়া না হয় অথবা উপযোগী হাঁড়ি-পাতিল না থাকে, কুকার নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে বিদ্যুৎ অপচয় হয় না।
তাপমাত্রা ও সময় নির্ধারণ
প্রতিটি খাবারের জন্য আলাদা তাপমাত্রা বেছে নেওয়া যায় এ চুলায়। পানি ফোটাতে বেশি পাওয়ার ব্যবহার করা ভালো। ভাত, ভাজি বা এ জাতীয় রান্নায় মাঝারি তাপ যথেষ্ট। খাবার গরম রাখতে অল্প লেভেল হলেই হয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় সেট করে রাখা যায়। সময় শেষ হলে কুকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভুলে গেলেও খাবার পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
পাত্র ব্যবহারের ধরন
ইনডাকশন চুলায় সব হাঁড়ি-পাতিল কাজ করে না। স্টেইনলেস স্টিল, ঢালাই লোহা বা কাস্ট আয়রন, অ্যানামেল আয়রন ইত্যাদি পাত্র ব্যবহার করা যায়। এগুলোর তলা চৌম্বকীয়। এ কারণে এসব হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা ভালো। অ্যালুমিনিয়াম, কাচ, মাটি বা পাতলা স্টিল ব্যবহার করা যায় না। কেননা এ ধরনের পাত্রে চৌম্বকীয় উপাদান থাকে না। ভালো ফল পেতে হাঁড়ির তলা সমান ও ব্যাস ১২-১৮ সেন্টিমিটার হওয়া জরুরি। তলা সমান না হলে কুকার সঠিকভাবে তাপ সরবরাহ করতে পারে না।
নিরাপত্তা নির্দেশনা
রান্নার সময় কখনও ঢাকনা পুরোপুরি বন্ধ রেখে ইনডাকশন চুলা চালাবেন না, এতে চাপ তৈরি হতে পারে। এই চুলাটি সবসময় সমতল ও শক্ত জায়গায় রাখবেন। দেয়াল থেকে অন্তত ১০ সেন্টিমিটার দূরে রাখুন, যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। রান্না শেষে অবশ্যই প্লাগ খুলে ফেলুন। পানির কাছে এই চুলা না রাখাই ভালো। কখনও ভেজা হাতে চুলা ব্যবহার করবেন না। চুলার প্লেটের ওপর কাপড়, কাগজ বা টেবিলক্লথ রাখা যাবে না। 
পরিষ্কার ও যত্ন
রান্না শেষে চুলা ঠান্ডা হতে দিন। এর পর নরম কাপড় দিয়ে চুলা মুছুন। কড়া ডিটারজেন্ট বা স্ক্রাবার ব্যবহার করলে কাচের পৃষ্ঠে দাগ পড়ে যেতে পারে। তেল বা খাবারের দাগ থাকলে হালকা ভিনেগার দিয়ে পরিষ্কার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
বাড়তি টিপস 
ঢাকনা ব্যবহার করলে রান্না দ্রুত হয় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। একই রান্না গ্যাসের চুলায় যেখানে ২০ মিনিট লাগে, ইনডাকশনে ১২-১৩ মিনিটেই হয়ে যায়। রান্না করার সময় পাশে মোবাইল বা ধাতব চামচ না রাখাই ভালো। এতে চুম্বকীয় তরঙ্গে সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণ করলে এই চুলার আয়ু দ্বিগুণ বেড়ে যায়। v
 

আরও পড়ুন

×