পায়ের ঘরোয়া যত্ন
ফাতেমা তুজ জোহরা মাইশা
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৫ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
শীতের শুরুতে শরীরের যত্ন নিলেও অনেকেই পায়ের যত্নের ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। অথচ সারাদিন শরীরের ভার বহন করতে হয় পা দুটোকেই। শীতকালে শুষ্ক বাতাস ও কম আর্দ্রতার কারণে পায়ের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়, গোড়ালি ফাটে, ব্যথা হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শীতকালে পায়ের যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও প্রয়োজনীয়। সঠিক যত্ন নিলে খুব সহজেই আপনার পা নরম, পরিষ্কার ও সুস্থ থাকতে পারে।
শীতকালে পায়ের কিছু সাধারণ সমস্যা
গোড়ালি ফাটা: শীতকালে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়। পায়ের নিচের অংশের ত্বক তুলনামূলকভাবে পুরু। তাই আর্দ্রতা না পেলে সেটিই প্রথমে শক্ত হয়ে রুক্ষ আকার নিতে শুরু করে। এই শক্ত ত্বক পরে গভীর ফাটলে পরিণত হয়। গোড়ালি ফাটা শুধু দেখতে খারাপ নয়, ফাটা অংশে ব্যথা, রক্তপাত এমনকি জীবাণু ঢুকে সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে।
নখের সমস্যা ও ছত্রাক সংক্রমণ: বন্ধ জুতা ও মোজা দীর্ঘসময় পরে থাকলে আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয়। এতে নখের ফাঁকে ছত্রাক জন্মে; যা নখকে মোটা করে তোলে, নখের রং পরিবর্তন করে, ভেঙে যাওয়ার মতো দুর্বল করে দেয় আবার আঙুলের মাঝে ঘা হয়ে যায়।
দুর্গন্ধ: শীতে সবাই বেশিক্ষণ মোজা ও জুতা পরে থাকে। এতে ঘাম জমে আর্দ্রতা তৈরি হয়, ব্যাকটেরিয়া বাড়ে, গন্ধ হয়। বিশেষ করে যদি একই মোজা বারবার ব্যবহার করা হয় অথবা জুতায় বাতাস চলাচল কম হয়, তাহলে এ সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়।
নখে সংক্রমণ: ভুলভাবে নখ কাটা, খুব টাইট জুতা পরলে নখে ব্যথা লাগে। পায়ের আঙুলে চাপ পড়লে নখের কোনা ভেতরে ঢুকে যায়। ফলে তীব্র ব্যথা হয়। নখের ত্বক লালচে হয়, এমনকি পুঁজও পড়তে পারে।
পায়ের যত্নে যেসব নিয়ম মেনে চলা জরুরি
নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন: প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে অন্তত একবার গরম পানিতে পা ধুয়ে ফেলুন। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকে ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। এতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বাড়ন্ত অবস্থা কমে।
ভেজাভাব দূর করুন: পা ধোয়ার পর ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিন। আঙুলের ফাঁকে পানি থাকলে ছত্রাক হতে পারে। এতে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ‘অ্যাথলেট ফুট’ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন: শীতকালে পায়ের ত্বক আর্দ্র রাখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার, ভ্যাসলিন, অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল লাগিয়ে মোজা পরে নিলে ত্বক নরম থাকে। গোড়ালি ফাটার সমস্যা থাকলে ইউরিয়া বা ল্যাকটিক এসিডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
সপ্তাহে একটি ফুট কেয়ার রুটিন: সপ্তাহে অন্তত একদিন পেডিকিউর করুন। গরম পানিতে সামান্য লবণ, শ্যাম্পু বা ফুট সলিউশন দিয়ে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ফুট ফাইল দিয়ে শক্ত ও রুক্ষ ত্বক ঘষে ফেলুন। নখ সোজা করে ছেঁটে নিন। শেষে লোশন বা তেল লাগিয়ে রাখুন।
সঠিক জুতা ও মোজা ব্যবহার: খুব শক্ত ও পাতলা সোলের জুতা এড়িয়ে চলুন। ঠান্ডা থেকে রক্ষা করতে সুতি বা উলের মোজা ব্যবহার করুন। একই মোজা বারবার ব্যবহার করবেন না; ঘাম হলে পরিবর্তন করুন।
রক্ত সঞ্চালন বাড়ান: ঠান্ডায় রক্তসঞ্চালন কম থাকে। তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট পায়ের ব্যায়াম করুন। যেমন–পা উঠানো, আঙুল মোচড়ানো, গোড়ালি ঘোরানো। শীতকালে ঠান্ডা ও পা ফাটা থেকে বাঁচতে ঘরে স্যান্ডাল ব্যবহারের অভ্যাস করুন। যে কোনো সমস্যার তীব্র আকার ধারণ করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
- বিষয় :
- পায়ের যত্ন
- ত্বকের যত্ন
