ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ব্লেজারে বাহারি সাজ

ব্লেজারে বাহারি সাজ
×

ব্লেজারের প্যাটার্নে চেক, প্রিন্ট, সলিড, টেক্সচার্ড ও এমব্রয়ডারির মতো বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে

রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৬ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৬:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীতে ঠান্ডা থেকে সুরক্ষিত থাকতে এবং স্টাইলিশ লুকের জন্য ব্লেজার বেছে নিতে পারেন। অফিসে তো বটেই, ক্যাজুয়ালিও নারী-পুরুষ সবাই ব্লেজার পরছেন। শার্ট-প্যান্ট, টিশার্ট-জিন্সের বাইরে গিয়ে ফিউশনের জন্য অনেকে শাড়ি, কুর্তি, সালোয়ার কামিজের সঙ্গেও জড়িয়ে নিচ্ছেন ব্লেজার। লিখেছেন রিক্তা রিচি

ব্লেজারের গ্রহণযোগ্যতা এখন চেনা ছকের বাইরে। এটি কেবল আনুষ্ঠানিক (ফরমাল) পোশাক নয়। এর ব্যবহারযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা দুই-ই বেড়েছে। বেশ কয়েক বছরে যে কোনো পোশাকের সঙ্গে ব্লেজার পরিধানের ব্যাপারটি আরও গড়িয়েছে। অফিস লুক তো বটেই, ক্যাজুয়াল লুকেও ব্লেজার আধিপত্য দেখাচ্ছে। হাল ফ্যাশনে নিজের মতো জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে শীতে ঠান্ডা থেকে সুরক্ষিত থাকতে, একইসঙ্গে নিজেকে আগের চেয়ে স্টাইলিশ করে তুলতে অনেকেই সিঙ্গেল ও ডাবল ব্রেস্টেড ব্লেজার বেছে নিচ্ছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা যে কোনো অনুষ্ঠানের সাজের সঙ্গেও কোমরসমান ঝুল ব্লেজারের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। শার্ট-প্যান্ট, টিশার্ট-জিন্সের বাইরে গিয়ে অনেকে শাড়ি, কুর্তি, সালোয়ার-কামিজের সঙ্গেও জড়িয়ে নিচ্ছেন ব্লেজার। কারণ, এটি সোয়েটারের চেয়ে অনেক হালকা আবার জ্যাকেটের মতো ভারী নয়। তাই যে কোনো বয়সের ফ্যাশন সচেতন মানুষ তাদের বাকেট লিস্টে রাখছেন এ পোশাক। শাড়ির সঙ্গে ব্লেজার পরলে ফিউশন লুক তৈরি হয়, আবার দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পশ্চিমা সংস্কৃতির মিশেল ঘটে। 

লা রিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্নুজান নার্গিস জানান, শাল বা কার্ডিগানের তুলনায় ব্লেজার বেশি সুবিন্যস্ত। এটি পরিপাটি ও আত্মবিশ্বাসী লুক তৈরি করে। এ ছাড়া শীতের হালকা ঠান্ডায় লেয়ারিংয়ের জন্য ব্লেজার কার্যকর বিকল্প পছন্দ। এটি ওয়েস্টার্ন স্মার্টনেসের সঙ্গে প্রতিদিনের পোশাকের আরামকে সংযোগ করেছে; যা আধুনিক নারীর জীবনধারার সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খাচ্ছে। 

রঙের বাহার, বাহারি কাপড় 
ব্লেজারের কাটছাঁট, বোতাম ও রঙের মতো কাপড়েও থাকে বৈচিত্র্য। বাজারে বরাবরের মতো এবারও কালো, ধূসর, নেভি, বিস্কিট, খাকি ও খয়েরি রঙের ব্লেজার, হালকা ও গাঢ় নীল রঙের স্যুট, ব্ল্যাক ম্যাচিং স্ট্রাইপ স্যুট এবং বাদামি, জলপাই, মেরুন রংসহ নানা কাটিংয়ের ক্যাজুয়াল ব্লেজার এসেছে। 
ফ্যাশন ডিজাইনাররা জানান, শীতে উল, কটন ব্লেন্ড, টুইড ফেব্রিকের ব্লেজারের চাহিদা বেশি। পার্টি বা বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার জন্য ভেলভেট কাপড়ের ব্লেজারও বেছে নেন অনেকে। গ্যাবার্ডিন, মিক্সড কটন, সোয়েড লেদার, কটন কাপড়ের ব্লেজারের চাহিদা এ বছর বেশি। অনেকে ইন্ডিয়ান ও চায়না কাপড় দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন পছন্দের ব্লেজার। রেমন্ড, বিমল, বারবারি, অরবিন্দ, ইতালিয়ান সুপারব্ল্যাক, রেড অ্যান্ড টেলর, ডায়মন্ড ব্ল্যাক, জর্জিয়া আরমানি ইত্যাদি ব্র্যান্ডের কাপড় দিয়ে ব্লেজার ও স্যুট বানাচ্ছেন অনেকে।

নানা কাটছাঁট
ক্যাজুয়াল ব্লেজারে ফ্যাশনেবল কাট, অফিস ব্লেজারে ক্ল্যাসিক নকশা আর বয়স্কদের ব্লেজারে ঢিলেঢালা কাট থাকে। ব্লেজারের কাট সাধারণত সিঙ্গেল ব্রেস্টেড, ডাবল ব্রেস্টেড, স্লিম ফিট ও লুজ ফিটের হয়। সিঙ্গেল ব্রেস্টেড কাটের ব্লেজার অফিস ও দৈনন্দিন ব্যবহারে এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ডাবল ব্রেস্টেড ব্লেজার রাজকীয় ও ফরমাল লুক আনে। স্লিম ফিট ব্লেজার শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে। তাই তরুণদের মধ্যে এটি বেশি জনপ্রিয়। রিলাক্সড তথা লুজ ফিটের ব্লেজার আরামদায়ক। তাই এটি বয়স্কদের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ভালো। 

নকশা ও প্যাটার্ন 
মন্নুজান নার্গিস জানান, এই শীতের ব্লেজারগুলো মূলত বিজনেস ক্যাজুয়াল, বিজনেস ফরমাল ও প্রিমিয়াম নিট–এই তিনটি ক্যাটেগরিকে কেন্দ্র করে নকশা করা হয়েছে। পুরুষের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল-ব্রেস্টেড নকশা, নচড ল্যাপেল, দুই বাটনের ফ্রন্ট এবং স্লিভের কাফে ডেকোরেটিভ বাটন রাখা হয়েছে। স্ট্রেচেবল পলি-উভেন এবং নিট ফেব্রিক ব্যবহারের ফলে স্লিম ফিটিং হলেও চলাচলে অস্বস্তি তৈরি করে না। নারীর ব্লেজারগুলোয় ল্যাপেল কলার, সিঙ্গেল-ব্রেস্টেড কাট এবং ডাবল প্যাঁচ পকেট ব্যবহার করা হয়েছে; যা সফট কিন্তু বডি-হাগিং সিলুয়েট তৈরি করেছে। প্যাটার্নের ক্ষেত্রে চেক, প্রিন্টেড, সলিড, টেক্সচার্ড ও এমব্রয়ডারির মতো বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে; যেন অফিসিয়াল থেকে শুরু করে ক্যাজুয়াল স্টাইল–সব প্রয়োজনেই লা রিভের ব্লেজার ব্যবহার করা যায়।

বয়স ও শারীরিক গঠনভেদে 
বয়সের দিক থেকে তরুণদের জন্য স্লিম ফিট ও হালকা ফেব্রিকের ব্লেজার বেশি মানানসই, যা জিন্স বা ট্রাউজারের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের জন্য বিজনেস ক্যাজুয়াল বা ফরমাল ব্লেজার ভালো। কারণ এগুলো অফিস ও সামাজিক দুই ধরনের পরিবেশেই পরা যায়।
শারীরিক গঠনের ক্ষেত্রে বডি-হাগিং হলেও স্ট্রেচেবল ফেব্রিকের ব্লেজার বেছে নেওয়া হলে ফিটিং সুন্দর হয় এবং আরাম বজায় থাকে। শরীরের গঠন হালকা-পাতলা হলে সিঙ্গেল-বাটন বা স্লিম কাট ব্লেজার আর তুলনামূলক ভারী গঠনের জন্য স্ট্রেইট বা সফট-স্ট্রাকচার্ড কাট ভালো মানায়। লিঙ্গভেদে পুরুষের ব্লেজারে কাঠামো ও শার্প কাট গুরুত্বপূর্ণ আর নারীর ক্ষেত্রে ফিটের পাশাপাশি সিলুয়েট ও ডিটেইলের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। বর্তমানে ইউনিসেক্স ও সফট-ফিট ব্লেজার জনপ্রিয় হচ্ছে। 

রেডিমেইড বনাম টেইলর-মেইড ব্লেজার
রেডিমেইড ব্লেজার বাজার থেকে কিনতে পারেন। আবার চাইলে মনের মতো বানিয়েও নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পুরুষের ব্লেজার বানাতে দুই গজ, প্যান্টসহ ব্লেজার বানাতে তিন গজ এবং নারীর প্যান্টসহ ব্লেজার বানাতে পৌনে তিন কিংবা তিন গজ কাপড় লাগবে। তবে শারীরিক গঠন, উচ্চতা ও স্বাস্থ্য ইত্যাদি কারণে কাপড় কমবেশি হতে পারে। 

কোথায় পাবেন, দাম কেমন 
রেডিমেইড ব্লেজার কিনতে বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ ঢাকার যে কোনো বড় মার্কেটে ঢুঁ মারতে পারেন। এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট থেকেও কেনা যাবে ব্লেজার। এ ছাড়া রেমন্ড, সানমুন, রিচম্যান, লা রিভ, সারা লাইফস্টাইল, টুয়েলভ ক্লদিং, টপ টেন ইত্যাদি থেকে পছন্দের ব্লেজার কেনা যাবে।  
ফেব্রিক, গুণগত মান ইত্যাদির ওপর ব্লেজারের দাম নির্ভর করে। তবে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে কেনা যাবে রেডিমেইড ব্লেজার। v
মডেল: সামিয়া; ব্লেজার: লা রিভ; মেকওভার: রেড বিউটি স্যালন; 

ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য
 

আরও পড়ুন

×