ত্বকের যত্নে তেল
ফাতেমা তুজ জোহরা
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
শীতকালের একটি বড় সমস্যা হলো ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যাওয়া। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ। ঠান্ডা হাওয়া, গরম পানিতে বারবার গোসল আর পর্যাপ্ত যত্নের অভাব–সব মিলিয়ে শীতকাল ত্বকের জন্য এক কঠিন সময়। এ সময়ে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা বজায় রাখতে যে উপাদানটি সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা হলো তেল।
এটি কোনো কৃত্রিম ময়েশ্চারাইজারের মতো সাময়িক নয় বরং দীর্ঘসময় ধরে ত্বককে নরম ও কোমল রাখে। জেনে নিন এই সময়ে কোন তেল ত্বকের যত্নে কীভাবে কাজ করে।
নারকেল তেল: নারকেল তেল ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দিয়ে শুষ্কতা দূর করে এবং ত্বককে নরম ও কোমল করে তোলে। এতে থাকা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বককে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
সরিষার তেল: সরিষার তেল ত্বক উষ্ণ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে; যা শীতকালে খুবই উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন-ই ও ফ্যাটি এসিড ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বককে পুষ্ট করে। ফলে ত্বক প্রাণবন্ত ও সতেজ দেখায়।
অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল শীতকালে শুষ্ক ত্বকের জন্য আদর্শ। এই তেল ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং ত্বকের কোষকে সজীব রাখে। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষয় রোধ করে ও বয়সের ছাপ পড়া রোধ করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
বাদাম তেল: বাদাম তেল ভিটামিন ই-এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস। শীতে নিয়মিত বাদাম তেল ব্যবহার করলে ত্বকের কালচে ভাব ও দাগ কমে। মুখ ও শরীর উভয়ের জন্যই এই তেল উপযোগী।
জোজোবা তেল: এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের সঙ্গে খুব সহজে মিশে যায়। সেই সঙ্গে ত্বকে তেল-জল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। জোজোবা তেল শুষ্ক ত্বককে ভারী না করে গভীরভাবে আর্দ্র রাখে। বিশেষ করে মুখের ত্বকের জন্য এটি নিরাপদ ও কার্যকর। কারণ এটি ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
মনে রাখবেন, ত্বক বুঝে তেল ব্যবহারের সঠিক সময় ও পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। গোসলের পর যখন ত্বক সামান্য ভেজা থাকে তখন তেল ব্যবহার করলে তা সহজে ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে এবং আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে সাহায্য করে। খুব বেশি তেল ব্যবহার না করে অল্প পরিমাণে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বক আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শুধু শরীর নয়, শীতকালে মুখের ত্বকও বিশেষ যত্ন দাবি করে। অনেকেই মুখে তেল ব্যবহার করতে দ্বিধা বোধ করেন। অথচ কয়েক ফোঁটা হালকা তেল বা তেলভিত্তিক ফেস অয়েল রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে ত্বক পুষ্টি পায় এবং পরদিন মুখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা দেখা যায়। তবে ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে ভারী তেল এড়িয়ে চলাই ভালো।
শীতে ঠোঁট, কনুই, হাঁটু ও পায়ের পাতা সবচেয়ে বেশি শুষ্ক হয়। এসব জায়গায় তেল ব্যবহার করলে ফাটল ও রুক্ষ ভাব কমে। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে তেল লাগিয়ে মোজা পরলে পা থাকে নরম। একইভাবে ঠোঁটে সামান্য তেল লাগালে ঠোঁট ফাটা ও শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
ত্বকের যত্নে তেল ব্যবহারের পাশাপাশি ভেতর থেকে যত্ন নেওয়াও প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল এড়িয়ে চললে তেলের উপকারিতা আরও বাড়ে। মনে রাখতে হবে, তেল কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নয়। নিয়মিত ও সঠিক ব্যবহারে তেলই শীতকালে ত্বকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।
মডেল: আফসানা; ছবি: কাব্য
- বিষয় :
- ত্বক
