ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

গ্যাসের চুলার বিকল্প রান্না

গ্যাসের চুলার বিকল্প রান্না
×

ইসরাত জাহান 

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি গ্যাসের সংকট এখন শহর থেকে গ্রাম–সবখানে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বাজারে মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার। তাছাড়া কখনও লোপ্রেশার, কখনও দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকা অনেক পরিবারের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমিয়ে আনতে মানুষ ঝুঁকছে বিকল্প রান্নার প্রযুক্তির দিকে। ফলে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার ও চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

বিকল্প রান্নার জনপ্রিয় মাধ্যম
বর্তমানে বাজারে গ্যাসের চুলার বিকল্প হিসেবে বেশ কয়েক ধরনের বৈদ্যুতিক কুকার পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো দৈনন্দিন রান্নার বড় একটি অংশ সামলাতে সক্ষম। এসব বৈদ্যুতিক কুকারের মধ্যে বর্তমানে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ইন্ডাকশন কুকার।

ইন্ডাকশন কুকার
গ্যাসের চুলার বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ইন্ডাকশন কুকার। বিদ্যুৎচালিত এই চুলায় খুব দ্রুত রান্না করা যায় এবং এতে আগুন না থাকায় নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি বেশ নির্ভরযোগ্য। পানি গরম করা, ভাত, ডাল, সবজি কিংবা হালকা তরকারি–সবই সহজে রান্না করা যায়। বর্তমানে এক চুলা ও দুই চুলার ইন্ডাকশন কুকার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ছোট ফ্ল্যাট, ব্যাচেলর বাসা ও কর্মজীবী পরিবারে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

ইনফ্রারেড কুকার
ইন্ডাকশনের বিকল্প হিসেবে ইনফ্রারেড কুকার এখন ধীরে ধীরে পরিচিত হচ্ছে। এটি দেখতে ইন্ডাকশনের মতো হলেও এতে বিশেষ কোনো পাত্রের প্রয়োজন হয় না। সাধারণ হাঁড়ি বা প্যানেই রান্না করা যায়। ভাজি, কিংবা হালকা তরকারির জন্য এটি বেশ কার্যকর। নতুন করে যারা হাঁড়ি-পাতিল কেনার ঝামেলা এড়িয়ে যেতে চায়, তাদের কাছে এই চুলার চাহিদা বেশি।

রাইস কুকার
রাইস কুকার এখন আর শুধু ভাত রান্নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক রাইস কুকারে ভাতের পাশাপাশি খিচুড়ি, সবজি, নুডলস, স্যুপ এমনকি ডিম ও হালকা তরকারি রান্না করা যায়। গ্যাস না থাকলে এটি অনেক পরিবারের প্রধান রান্নার ভরসা হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ছাত্রাবাস, মেস ও ছোট পরিবারের কাছে রাইস কুকারের জনপ্রিয়তা বেশি।

কারি কুকার
কারি কুকার মূলত একটি বৈদ্যুতিক হাঁড়ির মতো, যেখানে ঝোল বা ভাজি জাতীয় রান্না করা যায়। মাছ, মাংস, ডাল কিংবা সবজি রান্নার জন্য এটি বেশ কার্যকর। যারা ইন্ডাকশন ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য কারি কুকার একটি ভালো বিকল্প।

ইলেকট্রিক প্রেশার কুকার
গ্যাসের প্রেশার কুকারের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক প্রেশার কুকার ব্যবহার করা হচ্ছে অনেক ঘরেই। এতে গ্যাস ছাড়াই দ্রুত মাংস, ডাল বা খিচুড়ি রান্না করা যায়। স্বয়ংক্রিয় টাইমার ও সেফটি ফিচার থাকায় এটি তুলনামূলক নিরাপদ।

স্লো কুকার
কম তাপে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না হওয়ায় খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে এই কুকারে। ঝোল, স্যুপ, স্টু কিংবা গরু-খাসির মাংস নরম করে রান্নার জন্য এটি বেশ উপযোগী। যারা একবার রান্না দিয়ে নিশ্চিন্তে অন্য কাজে সময় দিতে চান, তাদের জন্য স্লো কুকার ভালো সমাধান।

মাল্টি কুকার
একটি যন্ত্রে একাধিক রান্নার সুবিধা থাকায় মাল্টি কুকার এখন অনেক পরিবারের প্রথম পছন্দ। এটি রাইস কুকার, প্রেশার কুকার, স্লো কুকার ও স্টিমারের কাজ একসঙ্গে করতে পারে। ভাত, ডাল, মাংস, সবজি রান্নার পাশাপাশি কেক বা পাস্তা তৈরিও সম্ভব। সময় বাঁচানোর পাশাপাশি রান্নার ঝামেলা কম হওয়ায় কর্মজীবী পরিবারে এর চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

কোথায় পাওয়া যায় 
ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর ইলেকট্রনিক্স শোরুমে এসব পণ্য সহজেই পাওয়া যায়। ঢাকার কারওয়ান বাজার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, মিরপুর ও উত্তরার বিভিন্ন শোরুমে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক কুকার বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও সামাজিক মাধ্যমের শপগুলোতেও এসব কুকার অনায়াসেই পাওয়া যায়।

দাম
এ ধরনের বৈদ্যুতিক কুকারের দাম সাধারণত মাঝারি থেকে তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়ের হয়ে থাকে। ইন্ডাকশন কুকারের দাম সাধারণত তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে আট হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। রাইস কুকারের দাম দুই হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। তবে আকার ও ব্র্যান্ডভেদে ভিন্নতা দেখা যায়। কারি কুকারের দাম তুলনামূলক কম; যা সাধারণত দুই হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্লো কুকারের দাম সাধারণত দুই হাজার থেকে শুরু করে চার হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইনফ্রারেড কুকারের দাম তুলনামূলক একটু বেশি; যা সাধারণত চার হাজার ৮০০ থেকে সাত হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।  ইলেকট্রিক প্রেশার কুকার বা মাল্টি কুকারের দাম তুলনামূলক বেশি; যা সাধারণত সাত হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। 

আরও পড়ুন

×