ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শুষ্ক ত্বকের মেকআপ

শুষ্ক ত্বকের মেকআপ
×

সঠিক যত্ন আর কৌশলে শুষ্ক ত্বকও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মডেল: মার্শিয়া; ছবি: শৈলী আর্কাইভ

আসমাউল হুসনা 

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীতে পিকনিক, পার্টি, বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। এ সময় ফ্যাশনের সঙ্গে সঙ্গে মেকআপও হয় আলাদা। বিশেষ করে যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের কাছে শীতকাল মানেই বাড়তি ঝামেলা। তবে কিছু কৌশল জানা থাকলে শীতেও শুষ্ক ত্বকে মেকআপ হতে পারে উজ্জ্বল, ঝলমলে  

ঠান্ডা হাওয়ায় ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। যাদের ত্বক আগে থেকেই শুষ্ক তাদের বারোটা বাজে। কেননা অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকে মেকআপ ঠিকঠাক বসে না। তাই সাজার আগে থেকেই মনে দুশ্চিন্তা, ভয় কাজ করে। ফাউন্ডেশন ঠিকমতো বসবে কিনা, মেকআপ করার পর ত্বক আরও রুক্ষ হয়ে যাবে কিনা, ফেটে যাবে কিনা ইত্যাদি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। সঠিক যত্ন আর কৌশল জানলে শুষ্ক ত্বকেও ঔজ্জ্বল্য ফুটে উঠবে। মেকআপও বসবে ঠিকভাবে। 

শুষ্ক ত্বক 
যখন ত্বকে প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায় তখন ত্বক রুক্ষ, টানটান ও খসখসে হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক ত্বক তুলনামূলক নরম ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে, সহজে মেকআপ বসে এবং ফাইন লাইন কম দেখা যায়। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বক রুক্ষ ও টানটান থাকে, মেকআপ ফেটে যায় এবং ফাইন লাইন বেশি স্পষ্ট হয়।

শুষ্ক ত্বকের কারণ 
জারা’স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারের কর্ণধার ফারহানা রুমি বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়াই ত্বক শুষ্ক হওয়ার অন্যতম কারণ। শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ফেসওয়াশ বা সাবান ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি না পান করা, সূর্যের তাপ ও ধুলাবালিও এর জন্য দায়ী।’
অনেক সময় বয়স, হরমোন ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের তেল উৎপাদন কমে যায়। থাইরয়েড বা হরমোনজনিত সমস্যা এবং ভিটামিন এ, ই ও ওমেগা ৩-এর অভাবেও শুষ্কতা বাড়ে।

অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের লক্ষণ 
মেকআপের পর মুখ থেকে চামড়া ওঠা, ফাইন লাইন স্পষ্ট হওয়া, লালচে ভাব, মেকআপ ফেটে যাওয়া বা প্যাচ তৈরি হওয়া অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের লক্ষণ। 

শুষ্ক ত্বকে মেকআপে যা জানা জরুরি
মেকআপের আগেই শুষ্ক ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ফারহানা রুমি। তাঁর মতে, ত্বক পরিষ্কার রাখতে মাইল্ড ও ক্রিমি ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। অ্যালকোহল-ফ্রি হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। সানস্ক্রিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো এবং দিনের বেলায় অবশ্যই ভালো মানের সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।
শুষ্ক ত্বকে মেকআপের আগে প্রাইমার ব্যবহার খুবই জরুরি। কারণ এটি মেকআপকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে হাইড্রেটিং প্রাইমার, ডিউই প্রাইমার বা ইলুমিনেটিং প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত। ম্যাটিফাইং প্রাইমার শুষ্ক ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। ফাউন্ডেশন ও বেস মেকআপের ক্ষেত্রে লিকুইড বা ক্রিমি ফাউন্ডেশন শুষ্ক ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো। স্টিক ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে তা ড্রাই প্যাচে জমে গিয়ে ত্বককে আরও রুক্ষ দেখাতে পারে। একইভাবে ম্যাট ফাউন্ডেশন এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এটি ত্বককে আরও শুকনা দেখায়, কেকি লুক তৈরি করে এবং ফাইন লাইন বাড়িয়ে দেয়। শুষ্ক ত্বকে কেকি ভাব এড়াতে পাতলা লেয়ার করে ফাউন্ডেশন লাগানো উচিত। ভেজা স্পঞ্জ বা ড্যাম্প বিউটি ব্লেন্ডার ব্যবহার করলে ফাউন্ডেশন ত্বকে সুন্দরভাবে বসে। প্রয়োজন ছাড়া বেশি পাউডার ব্যবহার না করাই ভালো। এতে মেকআপ মুখে ভেসে থাকার মতো দেখাতে পারে।

কনসিলার ব্যবহারের সময় প্রথমে চোখের নিচে ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার দিয়ে ত্বক প্রস্তুত করে নিতে হবে। এরপর অল্প পরিমাণ কনসিলার আঙুল বা ড্যাম্প স্পঞ্জ দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে, যেন ত্বকে ফাটা ভাব না আসে। শুষ্ক ত্বকের জন্য পাউডার ব্লাশের চেয়ে ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশি উপযোগী। পাউডার ব্লাশ ত্বককে আরও শুষ্ক দেখাতে পারে, কিন্তু ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ ত্বকে স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখে।
চোখের নিচে ড্রাই প্যাচ ঢাকতে হলে প্রথমে ভালো মানের আই ক্রিম ব্যবহার করে দুই মিনিট সময় দিতে হবে, যেন তা ত্বকে ভালোভাবে শোষিত হয়। এরপর হাইড্রেটিং কনসিলার ব্যবহার করে খুব হালকা করে সেট করতে হবে।

শুষ্ক ত্বকের আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো ফাটা ঠোঁট। মেকআপের আগে ঠোঁট স্ক্রাব করে মৃত কোষ দূর করা উচিত। সপ্তাহে একবার নিয়মিত স্ক্রাব করলে ঠোঁট নরম থাকে। এরপর মোটা করে লিপবাম লাগাতে হবে। মেকআপ করার সময় ঠোঁট বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে আবার লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্রিমি বা স্যাটিন লিপস্টিক ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। শুষ্ক ত্বকের জন্য পাউডারের তুলনায় লিকুইড বা ক্রিম হাইলাইটার বেশি ভালো কাজ করে। কারণ এগুলো ত্বকে প্রাকৃতিক গ্লো এনে দেয়।
মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রথমে ময়েশ্চারাইজার, এরপর হাইড্রেটিং প্রাইমার, তারপর ফাউন্ডেশন ও কনসিলার ব্যবহার করে সেটিং স্প্রে দিয়ে মেকআপ সেট করা উচিত। প্রয়োজনে শেষে অল্প পাউডার দিয়ে ফিনিশিং দেওয়া যেতে পারে।
শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে সেটিং পাউডারের চেয়ে সেটিং স্প্রে বেশি কার্যকর। তবে পাউডার ব্যবহার করতে হলে শুধু টি-জোন এলাকায় সীমিত রাখা ভালো।
অনেক সময় দেখা যায়, রাতের তুলনায় দিনের বেলায় ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ফেসিয়াল মিস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে বা এক ফোঁটা ফেস অয়েল দিয়ে আগে ত্বক প্রস্তুত করে নেওয়া যায়। শুষ্ক ত্বকের মেকআপে সাধারণত যে ভুলগুলো বেশি হয়, তা হলো অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার করা, সব প্রোডাক্ট ম্যাট টাইপের নেওয়া এবং ঘন ঘন স্ক্রাব করা।
এ ছাড়া অতিরিক্ত মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করলেও ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই মেকআপ তুলতে মাইসেলার ওয়াটার ও জেন্টল ক্লিনজার ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়। 

আরও পড়ুন

×