ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এই সময়ে ত্বক চর্চা

এই সময়ে ত্বক চর্চা
×

মডেল: মোহনা; ছবি: শৈলী

আফরিনা আক্তার

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীত শেষে প্রকৃতিতে এসেছে বসন্ত। এদিকে রোজাও চলে এলো। ঋতু পরিবর্তন ও রোজার দিনগুলোতে ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে হবে। নয়তো ত্বকে ময়লা জমে পোরস বন্ধ হয়ে যাবে এবং ব্রণ ও র‌্যাশের প্রকোপ বাড়বে। ত্বক সতেজ রাখতে এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ ও ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি, আনার, ডার্ক চকোলেট ইত্যাদি খান। ত্বক ভালো রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। দিনে দুইবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তবে দুই বারের বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বক আরও শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করতে মুখ ধোয়ার পর টোনার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে গোলাপ জল, শসার রস, চালের পানি কিংবা গ্রিন টির সঙ্গে ১ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে ঘরেই টোনার বানাতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে ক্রিম বা তেলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার এবং তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ওয়াটারবেসড বা জেল ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

রোজায় খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন আসে। এতে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের ওপর বেশ প্রভাব পড়ে। দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে অনেকের ত্বক শুষ্ক, নিস্তেজ ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। আবার কারও কারও অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব, ব্রণ বা র‍্যাশের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখলে রোজার সময়ও ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখা সম্ভব।

ত্বকের যত্নে কী করবেন 
হাইড্রেটেড থাকুন
রমজানে সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। খাদ্য তালিকায় পানিসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডাবের পানি, লাচ্ছি, সবজি স্যুপ ও দই রাখতে পারেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ ক্যাফেইন শরীরের পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে। তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরনিক এসিড বা গ্লিসারিনসমৃদ্ধ হাইড্রেটিং স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করুন।

ত্বক পরিষ্কার রাখুন
রমজানে আবহাওয়ার উষ্ণতা ও আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে ত্বকে সহজেই ময়লা হয়। ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জমে। ময়লা জমে পোরস বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা ব্রণ বা র‍্যাশের কারণ হতে পারে। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ক্লিনজার বেছে নিন। সকালে ও রাতে মুখ ক্লিনজারের সাহায্যে পরিষ্কার করুন। এ ক্ষেত্রে ভারী প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। মুখ ধোয়ার পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। বারবার অজু করার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই প্রয়োজনে অজুর পর হালকা করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম বা তেলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা, ওয়াটারবেসড বা জেল ধরনের ময়েশ্চারাইজার বেশি উপযোগী। রোদে বের হলে অন্তত এসপিএফ ৩০ বা ৫০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

এক্সফোলিয়েটিং
শুষ্ক ত্বকে এক্সফোলিয়েটিং জরুরি। এটি বন্ধ লোমকূপ পরিষ্কার, ত্বককে মসৃণ এবং আরও উজ্জ্বল করে। ত্বকের রক্ত চলাচল বাড়ায় এক্সফোলিয়েটিং। সপ্তাহে একবার বা দুবার এক্সফোলিয়েটিং জেল ব্যবহার করার পরামর্শ দেন ডার্মাটোলজিস্টরা। 

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন
ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এ ধরনের খাবার আপনার ত্বকে জ্বালাপোড়া ও র‍্যাশ তৈরি করতে পারে। তাই সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন খেজুর, ডিম, বাদাম, দুধ, ওটস, ব্রাউন রাইস, শাকসবজি ও টাটকা ফলমূল বেশি করে খান।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
রোজায় ঘুমের রুটিন পরিবর্তন হয়। সাহ্‌রিতে ওঠার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ দেখায়, চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায়। ঘুমের সময় শরীরে কোষ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে, যা ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। তাই রোজার সময়গুলোয় প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।

ঘরোয়া ফেসপ্যাক
শুষ্ক ত্বকের জন্য শসা ও দই ফেসপ্যাক
ত্বক ভালো রাখতে রোজার দিনগুলোতেও রূপচর্চা করতে হবে। ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেট রাখতে দুই চামচ দইয়ের সঙ্গে দুই চামচ শসার রস মিশিয়ে ১০-২০ মিনিট  মুখে লাগিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক কোমল ও সতেজ থাকবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেসন ও গোলাপজল ফেসপ্যাক
এক চামচ বেসনের সঙ্গে পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত রাখুন। এটি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং পোরস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে।

ঠোঁটের শুষ্কতা কমাতে দুধের সর ও গোলাপজল
রোজায় ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার সমস্যা কমাতে অল্প দুধের সরের সঙ্গে এক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এ মিশ্রণটি ইফতারের পর বা ঘুমানোর আগে ঠোঁটে ১০ মিনিট রাখুন। এতে ঠোঁট নরম থাকবে এবং স্বাভাবিক আভা বজায় থাকবে। 

আরও পড়ুন

×