কুর্তি কামিজে বাহারি কাট-ছাঁট
এবার পোশাকে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং টাই-ডাইয়ের ব্যবহার বেড়েছে
রিক্তা রিচি
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদের দিন স্বস্তিতে থাকতে বেছে নিতে পারেন সুতি, সিল্ক, অরগাঞ্জা কিংবা জর্জেটের কুর্তি-কামিজ। এ বছর ফারসি সালোয়ার কামিজ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে পোশাকে মেডিটেরিয়ান প্রিন্টের ব্যবহার বেড়েছে। ম্যাক্রো-ফ্লোরাল, স্লিট লাইনে ভারী কাজ, আবায়া-স্টাইল, ড্রপ শোল্ডার, ওয়াইড-লেগের ব্যবহার বেশ দেখা যাচ্ছে। লিখেছেন রিক্তা রিচি
ঈদের কেনাকাটা তালিকার শুরুর দিকেই থাকে সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টুপিসের চাহিদা। কেননা ঈদের দিন সকালে সুতি সালোয়ার-কামিজ কিংবা কুর্তিতেই স্বাচ্ছন্দ্য মেলে। কাজকর্ম, অতিথি আপ্যায়নের ঝক্কি-ঝামেলায় অনেকটা স্বস্তিতে থাকা যায়। ঈদ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস এবং বিভিন্ন দেশীয় ব্র্যান্ডও নিয়ে এসেছে বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্যাটার্নের পোশাক। ফিউশনধর্মী পোশাকও চোখে পড়ছে। বাজারে হরদম বেচাকেনা হয় ভারতীয় ও পাকিস্তানি ডিজাইনের নানান পোশাকও। বাজার ঘুরে দেখা যায়, এ বছর কটন, জ্যাকার্ড কটন, টু-টোন, লিনেন, জর্জেট, সিল্ক, মম সিল্ক, অরগাঞ্জা ফেব্রিককে গুরুত্ব দিয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, কুর্তি, কটিযুক্ত জামা, সিঙ্গেল কটি, টপস, কো-অর্ড সেট, শ্রাগ-স্টাইল টিউনিক, কামিজ, গাউন, শ্রাগ ও গাউন কম্বো, স্কার্ট-কামিজ সেট, ফ্লেয়ার্ড ও কাফতান-কাট টিউনিক ইত্যাদি নিয়ে এসেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড।
পোশাকের ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফট নান্দনিক ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ ও কুর্তির সংগ্রহ নিয়ে এসেছে। ব্র্যান্ডটির স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান জানান, আলাদা স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সৃজনশীল কাট-প্যাটার্ন এবং বাছাইকৃত ফেব্রিকের ওপর। নিজস্ব ডিজাইনে মোটিফের ব্যবহার, রং নির্বাচন, ভ্যালু অ্যাডিশনে নানা মিডিয়ার ব্যবহার যুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, সময় ও পরিবেশ মাথায় রেখে পোশাকের ফেব্রিক নির্বাচন করা হয়েছে। স্বস্তিতে থাকতে দিনের বেলায় প্যাস্টেল শেড ও অন্যান্য হালকা রঙের পোশাক বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রাতের পার্টিতে টু-টোন, জর্জেট, সিল্ক, মম সিল্ক, অরগাঞ্জা ফেব্রিকের সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি মানানসই বলেও যোগ করেন তিনি।
লা রিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্নুজান নার্গিস বলেন, ‘এ বছরের ঈদের ফ্যাশনে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে মেডিটেরিয়ান প্রিন্টের ব্যবহার বেড়েছে, আবার এই উপমহাদেশে ফারসি সালোয়ার-কামিজ, ম্যাক্রো-ফ্লোরাল, স্লিট লাইনে ভারী কাজ, আবায়া-স্টাইল, ড্রপ শোল্ডার, ওয়াইড-লেগের ব্যবহার বেড়েছে। প্রিন্ট এবং প্যাটার্নের সব বৈচিত্র্যই লা রিভের এই ঈদ কালেকশনে ফিউশন করা হয়েছে।’
শুধু দেশীয় ব্র্যান্ড নয়, বিভিন্ন মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি পোশাক। ঈদ উপলক্ষে নারীর ফারসি সালোয়ার-কামিজ, পাকিস্তান-ভারতীয় নকশা ও প্যাটার্নের নানান পোশাক, কুর্তি-সিঙ্গেল কামিজ, টু-পিস, সারারা, ঘারারার দেখা মিলছে নিউমার্কেট ও গাউছিয়ার দোকানগুলোতে। বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর ফারসি সালোয়ার-কামিজ বেশ চলছে। গাউছিয়ার স্বপ্নীল বুটিক হাউসের বিক্রেতা রুবেল জানান, ঈদ উপলক্ষে বেশির ভাগ ক্রেতা ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাক চান। সেসব পোশাকের দাম সাত-আট হাজার টাকা বা তার বেশি। ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাকের মতো ডিজাইন করে সেটি তিন হাজার, সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রয় করেন তারা।
প্যাটার্ন
খালিদ মাহমুদ খান জানান, কে ক্র্যাফটের এবারের সংগ্রহে মূলত এ-লাইন, বেসিক, প্রিন্সেস লাইন, গোর, লং ও সেমি লং প্যাটার্নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কামিজের ইয়কে স্ক্রিন প্রিন্টের সঙ্গে হাতের কাজ আবার এমব্রয়ডারির সমন্বয়, এমব্রয়ডারির সঙ্গে কারচুপি আর সিকুইনের সমন্বয় করা হয়েছে। এবারের সালোয়ারের কাটেও থাকছে ভিন্নতা। স্ক্রিন প্রিন্ট ও লেস ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে স্ট্রেইট প্যান্ট, ডিভাইডার এবং পালাজ্জো স্টাইলের বটমওয়্যার।
মোটিফ
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকে জামদানি, ফ্লোরাল, কাঁথা, পেইসলে, ইজনিক, পার্সিয়ান, মেসোপটেমিয়ান, গুজরাটি, ট্র্যাডিশনালের মতো মোটিফকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। রঙ বাংলাদেশের পোশাকে প্রাচীন সভ্যতার আবহ নিয়ে এসেছে ইজিপশিয়ান ফ্লোরাল ডিজাইন লোটাস, প্যাপিরাস ও প্রতীকী ফুলেল মোটিফ। পলিনেশিয়ান টাট্টুর দৃঢ় জ্যামিতিক রেখা ও উপজাতীয় প্রতীকের শক্তি এবারের কালেকশনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। উজবেক সিরামিকসের উজ্জ্বল রং, সূক্ষ্ম জ্যামিতিক প্যাটার্ন ও হাতে আঁকা শিল্পভাবনা লক্ষ্য করা গেছে রঙ বাংলাদেশের পোশাকে। টুয়েলভ ক্লদিংয়ের এবারের ঈদ আয়োজনের থিম ‘থ্রেডস অব সেলিব্রেশন’। যেখানে ঐতিহ্য ও সমসাময়িকতার সেতুবন্ধের কথা বলা হয়েছে। সূক্ষ্ম থ্রেডওয়ার্ক, জরি, সিকুইন ও টোন-অন-টোন এমব্রয়ডারি ব্যবহার করা হয়েছে পরিমিতভাবে।
লা রিভের পোশাকের প্রিন্ট স্টোরি নির্বাচনে অ্যাম্বার হেজ, গ্লোবাল গ্রিড, সামার প্লেইড, মোজাইক ও প্যাচওয়ার্ক থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। ভ্রমণ, লোকজ শিল্প ও আলপনার ছাপ ফুটে উঠেছে স্পাইসড বোহেমিয়ান ধাঁচে। পার্টি পোশাকে মেডিটেরিয়ান ও ডেকোরেটিভ মোটিফের আধিক্য চোখে পড়ে, যেখানে গহনার মতো কারুকাজ ও ভারী কাজ গুরুত্ব পেয়েছে। জ্যাকার্ড ফেব্রিকের ব্যবহারও এই ধারায় উল্লেখযোগ্য।
নানা রঙে
এবারের ঈদে ম্যাজেন্টা, মেরুন, নেভি, পার্পল, ভায়োলেট, ল্যাভেন্ডার, পার্ল-হোয়াইট, বার্গান্ডি, মস-গ্রিন, জাভা গ্রিন, মাস্টার্ড, অফ-হোয়াইট, এজালিয়া পার্পল, অ্যাকুয়া, স্কাই, মেটালিক সিলভার, পিচ, মভ পিঙ্ক, পিঙ্কের মতো ডিপ টোনের মধ্যে করা হয়েছে বেশির ভাগ কুর্তি-কামিজ। এ ছাড়াও লাল, নীল, কালো, মেরুন, সবুজ ও হলুদের বিভিন্ন শেডের মিশেলও লক্ষ্য করা গেছে পোশাকে।
অলংকরণ
পোশাকের বিশেষত্ব বাড়াতে কাঁথা স্টিচ, মুঘল, ট্র্যাডিশনাল, কাশ্মীরি, ইজনিক, ফ্লোরাল, ট্রাইবাল, জামদানি, টার্কিশ আর্ট, ইসলামিক, ইজিপশিয়ান, গ্রিক, ওরিয়েন্টাল, বিউটি অব রাগস, মিক্সড মোটিফের অনুপ্রেরণা ব্যবহার করেছে পোশাকের ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফট। মোটিফ ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, সিকুইন ওয়ার্ক, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার হয়েছে। কাপড়ের ধরন ও অলংকরণে পরিমিতিবোধ বজায় রাখা হয়েছে। টুয়েলভের পোশাকে পুরোনো দিনের কারুকাজ, নকশা আর রঙের আবহকে আধুনিক কাট, সিলুয়েট ও টেক্সচারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ব্র্যান্ডটির ঈদ কালেকশনে বিশেষভাবে লক্ষণীয় সূচিকর্মের ব্যবহার। সূক্ষ্ম থ্রেডওয়ার্ক, জরি, সিকুইন কিংবা টোন-অন-টোন এমব্রয়ডারি করা হয়েছে পরিমিতির বোধ নিয়ে।
কেনার আগে জেনে নিন
ঈদে দেশীয় ব্র্যান্ড ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেটে নানা নকশার সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যায়। কেনার আগে নকশা, ব্র্যান্ড, ফেব্রিকের মান, দাম ইত্যাদি দেখে কিনুন। যেহেতু খানিকটা গরম পড়েছে, আরামের জন্য সুতি, সিল্ক, হাফসিল্কের পোশাক বেছে নিতে পারেন। দেহের গড়ন বুঝে সালোয়ার-কামিজ ও কুর্তি কিনুন। আপেল আকৃতির গড়নের নারীরা এ লাইন কাটের কামিজ-কুর্তি কিনুন। পিয়ার আকৃতির গড়নের নারীরা আনারকলি, ঘেরওয়ালা সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক স্টাইলের জামা পরলে দেহের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
দরদাম
যে কোনো ভালো ব্র্যান্ড থেকে সালোয়ার-কামিজ কিনতে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা বা তার দেশি দাম পড়বে। এ ছাড়া যে কোনো মার্কেট কিংবা অনলাইনের বিভিন্ন পেজ থেকে এক হাজার ৫০০ থেকে পাঁচ হাজারের মধ্যে ঈদের প্রিয় পোশাকটি কেনা যাবে।
- বিষয় :
- পোশাক
