ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন
ইসরাত জাহান
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৭:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সকালের আলো যেমন আমাদের দিনটিকে উজ্জ্বল করে তোলে, ঠিক তেমনই সেই সূর্যের আলোই আবার আমাদের ত্বকের জন্য নীরব ক্ষতির কারণ হতে পারে। রোদে থাকা মানেই শুধু ট্যান নয়–অকাল বার্ধক্য, ডার্ক স্পট, এমনকি হতে পারে ত্বকের গভীর ক্ষতি আর এখানেই আসে সানস্ক্রিনের গুরুত্ব। সানস্ক্রিন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিনের একটি অপরিহার্য অংশ। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে হালকা করে লাগানো এ ছোট্ট অভ্যাসটিই আপনার ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
শোভন’স মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা বলেন, ‘সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। তবে সব সানস্ক্রিন একরকম নয়, মূলত এটি দুই ধরনের–মিনারেলবেসড ও কেমিক্যালবেসড। মিনারেলবেসড সানস্ক্রিনে জিংক অক্সাইড থাকে, যা ত্বকের ওপর একটি স্তর তৈরি করে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং তুলনামূলক নিরাপদ। অন্যদিকে কেমিক্যালবেসড সানস্ক্রিন সূর্যের রশ্মি শোষণ করে কাজ করে। তবে এর কার্যকারিতা বজায় রাখতে ২-৩ ঘণ্টা পরপর পুনরায় ব্যবহার করা প্রয়োজন। সানস্ক্রিন কেনার সময় এসপিএফ৫০ বেছে নেওয়া ভালো। এটি ত্বকের ধরন অনুযায়ী নির্বাচন করা উচিত। কারণ রোদের কারণে ত্বকে দাগ, মেছতা এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিও হতে পারে। বাইরে থাকলে দিনে কয়েকবার, আর ঘরে আলো বেশি থাকলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। শুধু মুখে নয়, হাত-পা ও খোলা ত্বকেও সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন। সচেতন ব্যবহারে সানস্ক্রিনই হতে পারে আপনার ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।’
সানস্ক্রিন যেভাবে ত্বকের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে
সানস্ক্রিন কেন প্রয়োজন তা বুঝতে হলে প্রথমেই সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। সূর্য থেকে আসা দুই ধরনের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকের ক্ষতি করে। প্রথমটি হলো ইউভিএ, যা ত্বকের গভীর স্তরে প্রবেশ করে অকাল বার্ধক্য ও বলিরেখার জন্য দায়ী। দ্বিতীয়টি হলো ইউভিবি, যা ত্বকের ওপরের স্তর পুড়িয়ে দেয় এবং সানবার্ন তৈরি করে। সানস্ক্রিন একটি সূক্ষ্ম পর্দার মতো কাজ করে–এ দুই ধরনের রশ্মিকেই বাধা দেয়। ফলে ত্বক ভেতর থেকে সুরক্ষিত থাকে।
অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে
সূর্যের আলো ত্বকের কোলাজেন এবং ইলাস্টিন তন্তুগুলোকে ভেঙে দেয়। ফলে ত্বক ঝুলে যায় এবং দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকের এই প্রাকৃতিক স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে এবং চামড়া দীর্ঘদিন সজীব ও টানটান থাকে।
এসপিএফের গুরুত্ব
সানস্ক্রিন কেনার সময় আমরা সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি দেখি তা হলো এসপিএফ বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর। এটি মূলত নির্দেশ করে সানস্ক্রিনটি আপনাকে কতক্ষণ সূর্য থেকে সুরক্ষা দেবে। এ জন্য এসপিএফ৫০ বা তার বেশি থাকা সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া উচিত। কেবল এসপিএফ থাকলেই হবে না, সানস্ক্রিনটি হওয়া চাই ‘ব্রড স্পেকট্রাম’, যা আপনাকে একইসঙ্গে ইউভিএ এবং ইউভিবি উভয় রশ্মি থেকেই সুরক্ষা দেবে।
ব্যবহারের নিয়ম
টু-ফিঙ্গার রুল
সানস্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ জানা অত্যন্ত জরুরি। অধিকাংশ মানুষ খুব সামান্য পরিমাণে এটি ব্যবহার করেন, যা পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে ‘টু-ফিঙ্গার রুল’ মেনে ত্বকে লাগাতে পারেন। আপনার হাতের তর্জনী এবং মধ্যমা বরাবর রেখা টেনে যতটুকু সানস্ক্রিন পাওয়া যায়, ঠিক ততটুকু পরিমাণ আপনার মুখ এবং ঘাড়ের জন্য আদর্শ। রোদে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এটি মাখতে হবে, যাতে তা ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যেতে পারে।
ঘাম ও রি-অ্যাপ্লিকেশন
সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর ঘাম বা ধুলাবালির কারণে এর সুরক্ষা স্তর পাতলা হয়ে আসে। তাই যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাদের প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর পুনরায় সানস্ক্রিন মাখা উচিত। বর্তমানে স্প্রে সানস্ক্রিন বা সানস্টিক পাওয়া যায়, যা মেকআপের ওপর দিয়েও খুব সহজে ব্যবহার করা সম্ভব। মনে রাখবেন, একবার মাখলে সারাদিন কাজ করবে– এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
- বিষয় :
- ত্বক
