বিতর্কে বিজ্ঞান ও যুক্তির চর্চা
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিতে বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের বিভাগীয় পর্ব (ঢাকা-২) শেষে অতিথি, বিচারক ও সুহৃদদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকরা - ছবি: মামুনুর রশীদ
আসাদুজ্জামান
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
জেলা পর্যায়ে উৎসবমুখর বিতর্ক শেষে চলছে ‘বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব ২০২৫’-এর বিভাগীয় প্রতিযোগিতা। ‘বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন ও সমকালের যৌথ উদ্যোগে সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে ১১তম আসরের পাওয়ার্ড বাই হিসেবে রয়েছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুদিনব্যাপী ঢাকা বিভাগীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিভাগের আটটি জেলা চ্যাম্পিয়ন দল এবং নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ীসহ ঢাকা মহানগরের ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়
সকালের প্রথম রোদ শরীর স্পর্শ করার আগেই যেন উত্তপ্ত চারপাশ। এ উত্তাপ যুক্তিতর্কের লড়াইয়ের। প্রস্তুত ভেন্যু, বিতর্ক মঞ্চ। সকালের মিষ্টি রোদ আর অলসতা ছাপিয়ে রাজধানীর পান্থপথে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিতে একে একে ক্ষুরধার বিতার্কিকদের আগমনে চারপাশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বাইরে রোদের ঝলক আর ভেতরে যুক্তিতর্কের চমক। উৎসাহ-উদ্দীপনা আর যুক্তি-পাল্টা যুক্তির লড়াইয়ে মেতে ওঠে রাজবাড়ী, নারায়ণগঞ্জসহ মহানগরের ১৬টি স্কুলের বিতার্কিকরা।
দিনভর বাগ্যুদ্ধের এই বিভাগীয় আসর শেষে জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়–রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল, সেনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজবাড়ীর ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয় ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
বেলা ১১টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির অধ্যাপক এবং বিএফএফের ট্রাস্টি বিএম মাইনুল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সমকালের উপসম্পাদক শাহেদ চৌধুরী। অতিথি ছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, বিএফএফের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ ও ব্যাংক ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ কেএম হারুনুর রশীদ।
বিতার্কিকদের উদ্দেশে মাইনুল হোসেন বলেন, যারা বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা পরবর্তী সময়ে সমাজের নেতৃত্ব স্থানীয় অবস্থানে পৌঁছেছেন। শুধু সিজিপিএ নয়, বরং এই কো-কারিকুলাম কার্যক্রমই একজন শিক্ষার্থীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের সন্তানদের যুক্তিভিত্তিক বিতর্কের মাধ্যমে চিন্তা করতে শেখাতে পারি, তাহলে তাদের জ্ঞানের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।’
হারুনুর রশীদ বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দেখে মনে হয়, তারা শুধু যুক্তি দিয়ে কথা বলাই নয়, বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাহেদ চৌধুরী বলেন, এই বিতর্ক উৎসব এমন এক উদ্যোগ, যা সারাদেশের তরুণদের যুক্তিনির্ভর বিতর্কে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে। নিঃসন্দেহে জাতির প্রত্যাশা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেলা ৩টায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক আসাদুজ্জামান। সংক্ষিপ্ত উৎসব উদ্বোধনের পর শুরু হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। দুই পর্বে চার ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় যুক্তিতর্কের লড়াই। এতে বিচারক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান তার্কিকরা।
এর আগে শুক্রবার দুদিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিন ঢাকা-১ বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় জেলা চ্যাম্পিয়ন ফরিদপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মানিকগঞ্জ সুরেন্দ্র কুমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শরীয়তপুর মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোপালগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাদারীপুরের রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং মানিকগঞ্জের আলবার্ট ভিক্টোরিয়া যতীন্দ্র মোহন গভ. গার্লস স্কুল। এদিন সকাল ৯টায় শুরু হয় বিতর্কের আঞ্চলিক পর্ব। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যুক্তি তুলে ধরেন সমসাময়িক বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ের ওপর। বিতর্কের বিষয়গুলো ছিল– ‘যথাযথ কারিকুলামের অভাব শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় অনাগ্রহের প্রধান কারণ’, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ধনী-দরিদ্র বৈষম্য বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে’, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের আন্তরিকতা যথেষ্ট দৃশ্যমান নয়’, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে’।
বিকেলে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ তারিক আরাফাত, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সাবেক বিতার্কিক রাশেদুল ইসলাম পল্লব, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান খোকন এবং সমকালের সহকারী সম্পাদক জিয়া হাসান। উপস্থিত ছিলেন সাবেক কৃতী বিতার্কিক মাজেদ আজাদ, বিএফএফের আনোয়ার হোসেনসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
অধ্যাপক তারিক আরাফাত বলেন, ‘তোমাদের বিতর্ক আমি উপভোগ করেছি, ভিডিও করেছি। আমার সন্তানকে দেখিয়ে বলব, এই হলো আগামী দিনের নেতৃত্ব। এই উৎসবের আলোচনাগুলো থেকে যদি একটি নীতিমালা তৈরি হয়, সেটিই হবে এর আসল প্রাপ্তি।’
দুই দিনব্যাপী বিতর্কের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন–আবু সালেহ মুসা, সাকিব মাহমুদ, সুমাইয়া ইসলাম সামিয়া, আফিয়া ইবনাত সামিয়া, ইমরান হোসাইন, পিয়াস মাহমুদ, নুসরাত জাহান, রোকসানা মিতু, রোকসানা আক্তার, মেহেদী হাসান, এএসএম শাহরিয়ার সিদ্দিক ও সিয়াম হাসান।
ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের সুহৃদদের মধ্য ছিলেন– ফরিদুল ইসলাম নির্জন, রাশেদ খান, জান্নাত ইমা, নুসরাত খান, সুমাইয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার, তাসনিয়া খানম, সায়মন হক, তানবীন, তানজিলা আক্তার, আব্দুল্লাহ আল নোমান, ওয়াহিদ ইসলাম অনিক, রাসেল মিয়া প্রমুখ। ২৩ ও ২৫ অক্টোবর সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিভাগীয় বিতর্ক শেষ হলে চূড়ান্ত ১৬ দল নির্বাচিত হবে। যারা আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর জাতীয় পর্বের বিতর্ক উৎসবে অংশ নেবে।
বিভাগীয় সম্পাদক, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ
- বিষয় :
- বিতর্ক উৎসব
