হাসি খুশি আনন্দে
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৬:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
মায়া
সানাউল্লাহ বিপুল
কখনও মনে হয় তুমি একটা মায়া হরিণ।
আমি সেই হরিণের মায়াবী চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি।
সেই চোখ যেন জীবনানন্দ দাশের
পাখির নীড়ের মতো।
আবার কখনও মনে হয় এক জোড়া বন্দুকের নল,
নল থেকে বেরিয়ে আসা হাজারো বুলেট
হৃদয়টাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে;
বুকের মধ্যে চিনচিন ব্যথা
আহত পাখির মতো ছটফটানি।
কখনও আবার মনে হয় তুমি একটা লাল ফড়িং,
শরতের দুপুরে কলমি ফুলে ফুলে উড়ে বেড়াচ্ছ
আর তোমার পিছে পিছে ছুটছি আমি,
তপ্ত রোদে তোমার পিছে ছুটছি
শরীরের ঘামে ভিজে গেছে শার্ট
তবু যেন ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
আমি সেই লাল ফড়িং ছুঁয়ে দেখতে চাই
মায়াবী একজোড়া চোখের চাহনিতে ডুবে যেতে চাই
শূন্যতাকে দিতে চাই পূর্ণতা।
আমি যেন তোমাকেই চাই।
ত্যাগ
বিভাস গুহ
বছর ঘুরে আবার এলো
কোরবানিরই ঈদ
হাসি-খুশি আনন্দে গায়
সবাই সুখের গীত
বনের পশুর সঙ্গে হবে
মনের পশু জবাই
ত্যাগের এমন মহিমাতে
কোরবানি দেয় সবাই।
ধনী-গরিব পরস্পরে
করে কোলাকুলি
বুকের সঙ্গে বুক মিলিয়ে
বিভেদ যায় রে ভুলি।
কবি
শোয়েব সিফাত শিমুল
আমি যদি প্রেমিক হতাম–
এই ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে
তোমার নামে খুলতাম হাজারো ফুলের দোকান।
আমার ছুঁয়ে রাখা ফুল
রোজ তোমার খোঁপায় দুলত,
আর সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া সুবাসে
সম্মোহিত হতো পুরো ঢাকা শহর।
কিন্তু আমি তো কবি,
তাই আমার হাতে কলম।
ব্যস্ত রাস্তার মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকা,
তোমার জন্য অপেক্ষা করাই আমার কাজ।
আর তোমাকে নিয়েই লেখা
আমার হাজারো কবিতা।
কবে তুমি গোলাপ এগিয়ে দিয়ে বলবে–
গুঁজে দাও
আমার ঘন কালো চুলের খোঁপায়।
মানুষ
সারমিন চৌধুরী
মানুষ নাম হলেই যদি
সবাই মানুষ হতো,
রেষারেষি হিংসা-বিদ্বেষ
উধাও হয়ে যেতো।
ফুল হয়ে থাকতো হৃদয়
বিলি করতো ঘ্রাণ,
নিত না কেউ বিক্রি হয়ে
টাকার জন্য প্রাণ।
দুই দিনের দুনিয়াতেই
সবাই নিভু ফানুস,
তবু মারতে বুক কাঁপেনা
মানুষ হয়ে মানুষ।
- বিষয় :
- কবিতা
