রাজবাড়ীতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা
যুক্তির লড়াইয়ে মুখর দিন
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে সুহৃদ সমাবেশ আয়োজিত দিনব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অতিথি ও সুহৃদরা
সৌমিত্র শীল চন্দন
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৭:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিতর্ক কেবল জেতার লড়াই নয়, ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে সমাজ বদলে দেওয়ার হাতিয়ার। সেই হাতিয়ারকে শানিত করতে‘তর্কযুদ্ধ: মননের লড়াই’ প্রতিপাদ্যে রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশ আয়োজন করে দিনব্যাপী বিতর্ক সভা ‘দ্বৈরথ’। সদর হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে ২২ মে আয়োজিত বিতর্ক নিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায় বিতর্কপ্রেমীদের উপস্থিতিতে জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়
‘বিতর্ক হলো যুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত উপস্থাপনের সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক পদ্ধতি। স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য বিতর্কচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিতর্ক শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং উপস্থাপনা দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। একজন শিক্ষার্থী যখন বিতর্কের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তখন তাকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং যাচাই করতে হয়। ফলে তার জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।’ ২২ মে বিতর্ক সভা দ্বৈরথের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।
এর আগে ২০ ও ২১ মে সমকাল জেলা কার্যালয়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিতর্কবিষয়ক প্রস্তুতি সভা ও প্রশিক্ষণ দেন রাজবাড়ী সুহৃদ সহসভাপতি এবং রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. রাজীব দে সরকার, রাজবাড়ী সুহৃদের বিতর্ক সম্পাদক ফারহান শাহরিয়ার ও বিতার্কিক নাহিয়ান।
বিতর্কের কলাকৌশল বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’, ‘অপরাজেয় বাংলা’, ‘সংশপ্তক’ ও ‘স্মৃতি চিরন্তন’–এ চারটি দলে ভাগ করে দেওয়া হয়। ২৫ মে তারা অংশ নেয় যুক্তির লড়াইয়ে। প্রতিটি বিতর্কেই শিক্ষার্থীদের সাবলীল উপস্থাপনা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য উপস্থিত দর্শক ও বিচারকদের মুগ্ধ করে।
প্রথম রাউন্ডে ‘অনলাইনে নারীদের হয়রানি বৃদ্ধির একমাত্র কারণ বিচারহীনতা নয়, বরং সামগ্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয়’ বিষয়ে মুখোমুখি হয় ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ ও ‘সংশপ্তক’। তর্ক-বিতর্ক, যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির মধ্য দিয়ে জমে ওঠা এ পর্বে বিজয়ী হয় ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ দল।
অন্যদিকে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইন প্রয়োগে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকার ও প্রতিরোধের প্রধান অন্তরায়’ শীর্ষক বিতর্কে অংশ নেয় ‘অপরাজেয় বাংলা’ ও ‘স্মৃতি চিরন্তন’। সমাজ বাস্তবতা, পরিসংখ্যান ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে প্রাণবন্ত এ বিতর্কে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে ‘অপরাজেয় বাংলা’।
শেষে হয় ফাইনাল রাউন্ড। ‘জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া সরকারি হাসপাতালে গুণগত সেবা প্রদান অসম্ভব’ এমন সময়োপযোগী বিষয়ে মুখোমুখি হয় সেরা দুই দল। যুক্তির তীক্ষ্ণতা, বিশ্লেষণের গভীরতা এবং উপস্থাপনার নৈপুণ্যে চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’।
প্রতিযোগিতায় বিজিত দলের সদস্য হাফসা তার অসাধারণ বক্তৃতায় দক্ষতা, যুক্তি উপস্থাপন ও সাবলীল ভাষার জন্য নির্বাচিত হয় শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে। তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা দর্শক ও বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ক্রেস্ট এবং রানার্সআপ দলের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীর হাতে বই উপহার দেওয়া হয়; যা জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল মনন বিকাশে উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।
রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন–সংগঠনের উপদেষ্টা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, কমল কান্তি সরকার, মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অপূর্ব দাস, সহসভাপতি ডা. রাজীব দে সরকার ও রবিউল রবি, সাধারণ সম্পাদক মানিক হোসেন এবং বিতর্ক সভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক তানজিনা তাজিন প্রমুখ। সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমকাল জেলা প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দন।
অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন নাহিয়ান, সাদিয়া, নিবিড় ও অন্তি। তাদের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রতিযোগিতাকে আরও গ্রহণযোগ্য ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে যাদের সরব উপস্থিতিতে আরও সহজ হয়েছে তারা হলেন– আমিনুল ইসলাম মিলন, স্মৃতি প্রামাণিক, এম কে সাইমুম, আবু সায়েম, সানজিদা সিদ্দিকী, সোহাগ শেখ, তাসকিন হাসান বর্ষণ, অন্তি, রিয়া, মোনালিসা, রিমি প্রমুখ।
সমন্বয়ক, সুহৃদ সমাবেশ, রাজবাড়ী
- বিষয় :
- সুহৃদ সমাবেশ
