নদীর জলে স্বপ্ন ভাসে
অলংকরণ:: বোরহান আজাদ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৭:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
জাগে নতুন প্রাণ
পঙ্কজ শীল
সোনার দেশে সূর্য হাসে, জাগে নতুন প্রাণ
সবুজ মাঠে বাঁশির সুরে রাখাল ধরে গান।
নদীর জলে স্বপ্ন ভাসে, নীল আকাশের তলে!
বাংলাদেশটা সবার প্রিয়, স্বপ্নের আলো জ্বলে।
শাপলা ফুলের স্নিগ্ধ হাসি, রাঙ্গা সকালবেলা,
পাখির ডাকে জেগে ওঠে গ্রামে মধুর মেলা।
চাষা ভাইয়ের জন্য দেশে সোনার ফসল ফলে
তাদের পরিশ্রমে দেশে খাদ্য পূর্ণ চলে।
ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে বীর শহীদের দল,
তাদের ত্যাগে উড়ছে আজই স্বাধীনতার বল।
জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাই, খুলে নতুন দ্বার,
সাহস ভরে গড়ব আমরা স্বপ্নময় সংসার।
সম্প্রীতির এই বাংলাদেশটা ভালোবাসার নীড়,
মানবতার প্রদীপ জ্বেলে ছড়ায় আলোর ভিড়।
সোনার বাংলা চিরদিনই থাকুক সুখে ভরা,
আমার দেশটা সবচেয়ে সেরা, জানুক বসুন্ধরা।
মানুষ
শিউলী খাতুন
এই পৃথিবীর মানুষগুলো
মানুষ হবে কবে,
হিংস্র থাবার পরিবর্তে
মিলেমিশে রবে।
ছোট ছোট ফুলের গায়ে
কেমনে আঘাত হানে,
মানুষরূপী পশু তারা
স্বপ্ন ভাঙতে জানে।
মনটা তাদের জঘন্য খুব,
নরপশুর মতো,
বিচার এদের করতে হবে,
প্রাণ যাবে আর কত!
অপেক্ষা
সানাউল্লাহ বিপুল
একদিন সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে
এমন বাণী সত্য হবে–
সেই আশায় ঘুরে দাঁড়াই
চলি, হাঁটতে থাকি, কখনও দৌড়াই।
সকাল আসে নির্মল হাওয়া নিয়ে
পুব আকাশের লাল আভা সাহস জোগায়
নতুন স্বপ্নে বিভোর করে,
প্রতিটি সকাল আশা জাগায় নতুন দিনের,
নতুন আলোর, নতুন করে বাঁচার।
এমনিভাবে চলে যাচ্ছে কত দিন কত বছর
কত ভোর এমনিভাবে আশা জাগায়,
কলমি ফুলে কালো পিঁপড়া যেমন
তেমনি আম বৃক্ষে কাঠবিড়ালি
বিলের শুকিয়ে আসা কাদাজলে সাদা বক
অশেষ আশা নিয়ে বাঁচে।
হঠাৎ একদিন কলমি ফুল মরে যায়
আম ফুরিয়ে যায়, বিলের পানিও শুকিয়ে যায়
তবুও পিঁপড়েরা বাঁচে, কাঠবিড়ালিরাও বাঁচে
বেঁচে থাকে সাদা বকেরাও।
আবার কলমি ফুল ফুটবে
আবার আমে ভরে উঠবে বৃক্ষ
বিলটাও পানিতে থৈ থৈ করবে
এমনই আশায় বেঁচে থাকা
শুধু যেন সময়েরই অপেক্ষা।
গ্রীষ্মের দুপুরে
এমডি জিয়াবুল
কাঠফাটা তাপ ঠা ঠা
গ্রীষ্মের দুপুরে,
পুড়ে মাঠ, পুড়ে ঘাট
জল নেই পুকুরে।
জনহীন পথশালা
ঝাঁঝাঁ করে রোদ্দুর,
মাঠ-ঘাট চারিদিক
চেয়ে দেখি যদ্দুর।
পথিকের ছাতি কাঁপে
ঘাম ঝরে ঝরঝর,
উত্তাপে মরুভূমি
মরুময় বালুচর।
নীড় ছেড়ে বিলে চিল
জল খোঁজে হাঁকে রে,
নদীনালা চৌচির
পিপাসায় ডাকে রে।
রোদ নয়, লাগে যেন
আগুনের ফুলকি,
খরতাপে চোখেমুখে
এঁকে দেয় উল্কি।
বিবর্তনের পাঠ
আসাদুজ্জামান খান মুকুল
আমাদের মাঝে এখন
এক বিশাল আলোকবর্ষ সমান দূরত্ব।
যেখানে হৃদয়ের সব ব্যাকরণ আজ বড়ই অর্থহীন।
আমি চেয়েছিলাম এক স্থিরবিন্দুর মতো পাশে থাকতে,
কিন্তু তুমি চললে সময়ের অমোঘ স্রোতে।
মস্তিষ্কের কোষে চলে
অবিরত ভাঙাগড়ার এক নিদারুণ খেলা,
যেখানে বিসর্জন মানেই আসলে এক নতুন অভিযোজন।
শৈবাল যেমন পাথর আঁকড়ে বেঁচে থাকে বহুকাল,
আমিও তেমনি
তোমার না থাকাটাকে অভ্যাসে বদলেছি।
অস্তিত্বের এই দহনে কোনো ধ্রুবক নেই,
মানুষ কেবল বদলে যাওয়ার চলমান করুণ ইতিহাস।
ফানুস
সারমিন চৌধুরী
মানুষ নাম হলেই যদি
সবাই মানুষ হতো,
রেষারেষি হিংসা-বিদ্বেষ
উধাও হয়ে যেতো।
রোপণ হতো বিশ্ব মাঝে
মনুষ্যত্বের বীজ,
থাকত না মন-মগজে
স্বার্থের গিজগিজ।
ফুল হয়ে থাকত হৃদয়
বিলি করত ঘ্রাণ,
নিত না কেউ বিক্রি হয়ে
টাকার জন্য প্রাণ।
দুই দিনের দুনিয়াতে
সবাই নিভু ফানুস,
তবু মারতে বুক কাঁপে না
মানুষ হয়ে মানুষ।
- বিষয় :
- কবিতা
