ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রোদ-গলা দুপুরে

রোদ-গলা দুপুরে
×

জিবিএম রুবেল আহম্মেদ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৬:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জ্যৈষ্ঠ মাস। গ্রীষ্মের তাপদাহ ছাপিয়ে এক চিলতে বৃষ্টি আবহে এলো উৎসবের সময়। গাছে মধুমাখা ফল। ঝড়ের দাপট বেশ তীব্র। বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই লোডশেডিং আর ঝড় হলে তো পুরো এলাকা দু-এক দিন বিদ্যুৎবিহীন থাকে। অরুণ কুমার ট্রেনিং নিতে বগুড়ায় এসেছেন দুদিন হলো। একদিন ভরদুপুরে খাবারের বিরতিতে অরুণ কুমার একা হাঁটছেন।  এমন সময় তাঁর চোখে পড়ে প্রিয়াঙ্কা দাশ। প্রথম দেখাতেই ভালোলাগা। লাজুক অরুণ দুদিন পেরিয়েও গেলেও পরিচিত হতে পারেন না।
তাঁর রুমমেট নাজিম বিষয়টি বুঝলেন।
দূরের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে কয়েকজন রিকশাচালক অলস ভঙ্গিতে বসে আছেন। বাতাসে কাঁঠালের মিষ্টি গন্ধ। রাস্তায় উপচেপড়া ভিড়। রাস্তা থেকে একটি আম কুড়িয়ে নিয়ে নাজিমের হাতে দিয়ে অরুণ বললেন, ‘আচ্ছা প্রিয়াঙ্কা দাশ সম্পর্কে কিছু জানেন?’ নাজিম প্রথমে চুপ করে থাকলেন। তারপর হো হো করে হেসে উঠলেন। 
–‘এই কথা! আমি তো ভাবলাম কী না কী!’ নাজিম আশ্বাস দিলেন, তিনি পরিচয় করিয়ে দেবেন। ৯ দিন কেটে গেল। বাকি মাত্র পাঁচ দিন। তারপর সবাই ফিরে যাবে। অরুণের মনে জমে আছে অনেক কথা। প্রশিক্ষণে মনোযোগ নেই। পেছনে বসে প্রিয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকেন চাতক পাখি মতো। খাবারের বিরতিতে অরুণ কুমার ডাইনিংয়ে না গিয়ে সোজা পুকুরপাড়ে যান। রাতের খাবারের পরও সেখানেই বসে থাকেন। চোখেমুখে বিষণ্নতা। যেন অব্যক্ত কথাগুলো মেঘ হয়ে জমে আছে বুকের ভেতর। নাজিম লক্ষ্য করছেন সব। একদিন নাজিম দুজনকে নিয়ে এক চায়ের দোকানে গেলেন। দোকানের পাশের বকুল গাছে সারি সারি বাবুইপাখি ঘুমিয়ে ছিল। দৃশ্যটা দেখে অরুণ প্রথমবার প্রিয়াঙ্কাকে বললেন, ‘ম্যাডাম, বলুন তো গাছে এগুলো কী?’ প্রিয়াঙ্কা মুগ্ধ হয়ে বললেন, ‘থ্যাংকস স্যার, এত সুন্দর দৃশ্য দেখানোর জন্য।’ সেদিনও কাজ হলো না। শুধু কিছু সাধারণ কথাবার্তা হলো।
দুপুরে সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে প্রিয়াঙ্কা এসে অরুণের সামনে দাঁড়ালেন। এতদিনের জমে থাকা কথা বের হলো না। তাঁর শরীর ঘামে ভিজে গেল। প্রিয়াঙ্কা একটু এগিয়ে ফিরে তাকালেন। তাঁর চোখে অদ্ভুত এক মায়া। মৃদু হেসে বললেন, ‘সব কথা মুখে বলতে হয় না, স্যার।’ দমকা বাতাসে কৃষ্ণচূড়ার শুকনো পাপড়ি উড়ে এলো। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে। অরুণ কিছু বলতে পারলেন না। প্রিয়াঙ্কা ব্যাগ থেকে ছোট্ট একটি কাগজ বের করে তাঁর খাতার ভেতর গুঁজে দিলেন। 
‘ভালো থাকবেন। ঈদের শুভেচ্ছা...’ 
চলে যাওয়ার পর কাঁপা হাতে কাগজটি খুললেন অরুণ। সেখানে লেখা– রোদ-গলা দুপুরেরও একসময় বৃষ্টি নামে। 
সুহৃদ, জামালপুর

আরও পড়ুন

×