ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভেজা শ্রাবণের প্রেমে

ভেজা শ্রাবণের প্রেমে
×

অলংকরণ :: শতাব্দী জাহিদ

রেহানা ফেরদৌসী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৬:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রাবণ নামলে আমি এখন আর শুধু বৃষ্টি দেখি না, আমি দেখি আমাদের একসঙ্গে বেঁচে ওঠা আর ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যাওয়ার ইতিহাস। বারান্দার গ্রিলে ভেজা চুল মেলে দাঁড়ালে আজও টের পাই তুমি আমাকে দেখ কিন্তু আগের মতো উচ্চারণ কর না। এই না বলার ভেতরেই আমি শিখেছি প্রেম আসলে শব্দের নয়, বরং দীর্ঘ সহাবস্থানের এক জটিল ব্যাকরণ।
একসময় ভাবতাম, বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া মানেই এক ধরনের উচ্ছ্বাস, এখন বুঝি ভিজে থাকা মানে টিকে থাকা, ভাঙতে ভাঙতেও না ভাঙার এক অভ্যাস। তুমি যখন চুপ করে পাশে বসে থাক, আমি বুঝি সেটাই তোমার ভালোবাসা– অপ্রকাশিত, অথচ নির্ভরযোগ্য।
আমি নারী, তাই হয়তো একটু বেশি মনে রাখি– কোন বিকেলে তুমি প্রথম আমার হাত ধরেছিলে আর কোন সন্ধ্যায় নিঃশব্দে হাতটা ছেড়ে দিয়েছিলে আবার ধরার জন্যই। আমার ভেতরে জমে থাকা অসংখ্য না বলা বাক্য বৃষ্টির ফোঁটার মতো পড়ে না–শুধু ভারী হয়ে থাকে।
তুমি বল সময় বদলায়, আমিও মানি কিন্তু কিছু স্পর্শ কি সত্যিই বদলায়, নাকি শুধু তার প্রকাশ বদলে যায়? তোমার কাঁধে মাথা রাখার ভঙ্গিটা আজও একই, শুধু তার ভেতরের তাড়না আর তীব্রতা বদলে গেছে–স্থির হয়েছে।
আমি বুঝতে শিখেছি, প্রেম সবসময় আগুন হয়ে জ্বলে না, অনেক সময় তা ভিজে কাঠের মতো ধীরে ধীরে, গভীরভাবে জ্বলে। এই যে আমরা বৃষ্টির দিনে ছাতা খুলে ফেলি না, এটা কোনো রোমান্টিকতা নয়, এটা এক ধরনের স্বীকারোক্তি–আমরা এখনও ভিজতে রাজি।
তোমার চোখে আমি এখন আর বিস্ময় দেখি না, দেখি একরকম নিশ্চিন্ততা–যেন আমি আছি, থাকব, এটুকুই যথেষ্ট। আর আমি, এই ‘যথেষ্ট’ শব্দটার ভেতরেই খুঁজে পাই আমার অস্তিত্বের সবচেয়ে গভীর স্বীকৃতি।
বাইরের শহর বদলায়, মানুষের ভিড় বাড়ে, বয়স বাড়ে কিন্তু আমাদের এই ভেজা নীরবতাটা কোথাও গিয়ে স্থির হয়ে আছে। 
আমি মাঝেমধ্যে ভাবি, আমরা কি একে অপরকে ভালোবেসেছি, নাকি ধীরে ধীরে একে অপরের অভ্যাস হয়ে গেছি?
তবুও যখন তোমার আঙুল ছুঁয়ে যায় আমার আঙুল, তখন সব বিশ্লেষণ থেমে যায়–আমি শুধু অনুভব করি। এ অনুভবটাই হয়তো প্রেমের শেষ সংজ্ঞা; যেখানে কোনো তত্ত্ব কাজ করে না, কোনো যুক্তি টেকে না।
শ্রাবণ শেষে রোদ উঠবে জানি–আমরা আবার স্বাভাবিক হয়ে যাব, নিজেদের ভেতরে গুটিয়ে নেব। তবুও এই এক বিকেলের জন্য স্বীকার করি–আমি এখনও তোমার পাশে ভিজতে চাই, ঠিক আগের মতো, কিন্তু আরও গভীরভাবে। 
সুহৃদ, ঢাকা
 

আরও পড়ুন

×